উপজেলা প্রশাসনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতার মন্তব্যে ইউএনওর প্রতিক্রিয়া

ভালুকা উপজেলায় উপজেলা প্রশাসনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর মন্তব্যের জবাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ফেসবুকে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্যটি তথ্যভ্রান্ত এবং অনুমান নির্ভর উল্লেখ করে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন, একই সঙ্গে প্রশাসনের প্রতি আস্থা বজায় রাখার গুরুত্বে জোর দিয়েছেন। পোস্টটি প্রকাশের পর স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

PostImage

উপজেলা প্রশাসনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতার মন্তব্যে ইউএনওর প্রতিক্রিয়া


উপজেলা প্রশাসনকে নিয়ে বিএনপি নেতা ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর মন্তব্যের জবাবে ইউএনও হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের স্পষ্ট ব্যাখ্যা। 

সম্প্রতি ভালুকা উপজেলায় একটি জনসমাবেশে উপজেলা প্রশাসনকে কেন্দ্র করে করা রাজনৈতিক মন্তব্য ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে নতুন আলোচনার। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ নিজের ফেসবুক পেজে একটি ব্যাখ্যামূলক পোস্ট দেন, যা মুহূর্তেই সাড়া ফেলে স্থানীয় মহলে। যদিও পরে পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে তবুও জনমনে আলোচনার ঝড় থামেনি।

মন্তব্যকারী, সদ্য বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত নেতা , উপজলো বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও সভাপতি এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক  ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু, যিনি কিছুদিন আগেও দলীয়ভাবে বহিষ্কৃত ছিলেন। বাচ্চু তার বক্তব্যে উপজেলা প্রশাসন সম্পর্কে কিছু আপত্তিকর ও তথ্যভ্রান্ত মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

ফেসবুকে দেয়া পোস্টে ইউএনও লেখেন, বাচ্চুর বক্তব্য ছিল “দাম্ভিকতাপূর্ণ, অনুমান নির্ভর এবং অসচেতন।  তিনি স্পষ্ট করে জানান, সওজ বা এলজিইডি’র কোন রাস্তার বরাদ্দ উপজেলা প্রশাসন নির্ধারণ করে না, বরাদ্দ দেয় মন্ত্রণালয়।


টিআর কাবিখার বরাদ্দের ৮০% চেয়ারম্যান এবং ২০% উপজেলা প্রশাসন পরিচালনা করেন, ফলে কোনো ব্যক্তিকে আলাদাভাবে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই। ইউএনও বলেন, “কোনো বিষয়ে কথা বলার আগে যথাযথ তথ্য জানা প্রয়োজন।”

পোস্টে ইউএনও জানান, গত এক মাস ধরে তিনি শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ ছিলেন এবং সম্প্রতি সার্জারির পর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তিনি লেখেন, এর আগে পর্যন্ত আমাকে  যত জায়গায় দেখা গিয়েছে, সেখানে অনেককেই দেখা যায়নি - এ কথা সাধারণ মানুষ জানে।


এ ছাড়া তিনি বাচ্চুর মন্তব্যে নথিপত্রের প্রসঙ্গ উঠলে স্পষ্ট করে বলেন, “সংগ্রহের প্রয়োজন নেই, চাইলে আমি নিজেই সব নথি সরাসরি দিয়ে দেব।


ইউএনও পোস্টে উল্লেখ করেন যে, তিনি সবসময় রাজনৈতিক নেতা–কর্মীদের সম্মান দিয়েছেন এবং পেশাগত সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।

তিনি পোস্টে আরও লেখেন,“আপনি যখন বহিষ্কৃত ছিলেন, তখনও আমি আপনাকে অসম্মান করিনি। আপনার আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টে বিশেষ অতিথি হয়ে গিয়েছি। কিন্তু আপনার বক্তব্য আমাকে হতাশ করেছে। তিনি শেষে লিখেছেন, “এই পোস্ট আপনার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে। তারপরও আমি আপনার ভালো চাই - যেমনটি চাই সকল ভালুকাবাসীর। 

পোস্টটি প্রকাশের পর স্থানীয় জনগণ ব্যাপকভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অধিকাংশ জনতা ইউএনওর সততা, স্বচ্ছতা এবং মানুষের জন্য কাজ করার মনোভাবকে প্রশংসা করেছেন। অনেকেই মনে করেন, উনার এই সকল দাম্ভিকতা এবং বিভিন্ন কারণে ইতোমধ্যে দল থেকে একবার বহিষ্কার হয়েছিলেন এখন বহিষ্কার উইথড্র করার পর পুনরায় এই সকল বক্তব্যের কারণে ভালুকার রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই লিখেছেন -  স্থানীয় প্রশাসনকে অকারণ রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে জড়ানো জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।

প্রশাসন–রাজনীতি সম্পর্কের এমন সংবেদনশীল সময়ে এমন মন্তব্য ও পাল্টা মন্তব্য আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউএনওর স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রশাসনের প্রতি আস্থা বাড়ালেও রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে পারে মাঠ পর্যায়ে। ভালুকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন–রাজনীতি উভয় পক্ষই দায়িত্বশীল অবস্থান বজায় রাখবে।