নারীকে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়াই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার
তারেক রহমানের জন্মদিনে বার্তা: ‘নারী নিরাপত্তা ছাড়া অগ্রগতি অসম্ভব—ডিজিটাল যুগে বাংলাদেশকে নতুন সুরক্ষা কাঠামো গড়তেই হবে’
নারীকে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়াই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দ্রুত বদলে যাওয়া ডিজিটাল বিশ্ব আজ মানুষের ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে বৈশ্বিক রাজনীতি পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। প্রযুক্তির এই রূপান্তর যেমন নতুন সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনি নারী নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকিও বাড়িয়েছে।
নিজের জন্মদিন উপলক্ষে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি লেখেন—তিনি ও তার স্ত্রী প্রায়ই ভাবেন, তাদের কন্যা আজ যে পৃথিবীতে বড় হচ্ছে, তা তাদের শৈশবের পৃথিবীর থেকে কতটা ভিন্ন। প্রযুক্তি যেমন ভবিষ্যতের দরজা খুলে দিয়েছে, তেমনি মনে ভয়ও তৈরি করছে। “সুযোগ বেড়েছে, কিন্তু হুমকিও বেড়েছে,”—লেখেন তিনি।
তারেক রহমানের মতে, বাংলাদেশ এগোতে চাইলে মেয়েরা, নারীরা, শিক্ষার্থী, কর্মজীবী নারী—কেউ যেন অনলাইন বা অফলাইনে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে না থাকে। তিনি বলেন, প্রতিদিনই অনেক নারী হয়রানি, ভয়ভীতি, বুলিং, প্রতারণা, সহিংসতা ও মানসিক নির্যাতনের মুখোমুখি হচ্ছেন—এটাই দেশের অগ্রগতির পথে বড় বাধা।
“এটা আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ নয়। এবং আমাদের মেয়েদের ভবিষ্যতের জন্যও গ্রহণযোগ্য নয়,”—উল্লেখ করেন তিনি।
নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএনপির আগামি নীতিগত অঙ্গীকার হিসেবে তিনি পাঁচটি জরুরি উদ্যোগ তুলে ধরেন—
১. জাতীয় অনলাইন সেফটি সিস্টেম
নারীরা যেন খুব সহজে ও দ্রুত সাইবারবুলিং, হুমকি, ভুয়া অ্যাকাউন্ট, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসসহ যেকোনো ডিজিটাল হয়রানির অভিযোগ জানাতে পারেন—সেজন্য ২৪/৭ হটলাইন, অনলাইন পোর্টাল ও প্রশিক্ষিত রেসপন্স টিম গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বাংলা ভাষায় কনটেন্ট মডারেশন আরও শক্তিশালী করারও প্রস্তাব দেন।
২. জনজীবনে নারীদের জন্য সুরক্ষা প্রোটোকল
সাংবাদিক, শিক্ষার্থী, কর্মজীবী, কর্মী বা জনপরিসরে সক্রিয় নারীদের জন্য গোপন অভিযোগ ব্যবস্থা, দ্রুত আইনগত ও ডিজিটাল সহায়তা এবং জাতীয় নির্দেশিকা চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি। রাজনৈতিক বা সামাজিক অংশগ্রহণের কারণে কোনো নারী যেন নীরব হতে বাধ্য না হন—এটাই এ প্রোটোকলের লক্ষ্য।
৩. ডিজিটাল সেফটি শিক্ষা:
স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ওরিয়েন্টেশন থেকেই ডিজিটাল নিরাপত্তা শেখানো, শিক্ষকদের ‘সেফটি ফোকাল পয়েন্ট’ হিসেবে প্রশিক্ষণ, এবং বার্ষিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তরুণ প্রজন্ম যেন অনলাইন জগৎ নিরাপদভাবে ব্যবহার করতে পারে—এটাই উদ্দেশ্য।
৪. সম্প্রদায়ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ব্যবস্থা
কমিউনিটি হেল্প ডেস্ক, নিরাপদ ট্রান্সপোর্ট রুট, উন্নত স্ট্রিট লাইটিং, ও ট্রমা-সেনসিটিভ রেসপন্ডার নিয়োগের কথা বলেন তিনি। এতে প্রতিদিনের যাতায়াত ও জনজীবন নারীদের জন্য আরও নিরাপদ হবে বলে মন্তব্য করেন।
৫. নারীর নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণে জাতীয় উদ্যোগ
নারীর নেতৃত্ব বিকাশ, মেন্টরশিপ নেটওয়ার্ক তৈরি, এবং কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুর দেখভালের ব্যবস্থা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। “নারী এগোলে দেশ এগোয়”—এ মন্তব্য তারেক রহমানের বার্তায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
“নারী নিরাপত্তাকে জাতীয় ঐক্যের ইস্যু হতে হবে”
রাজনৈতিক মতপার্থক্য, ধর্ম, জাতিগোষ্ঠী, লিঙ্গ—এসব নির্বিশেষে নারীর নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নে জাতীয় ঐক্য গড়ার আহ্বান জানান বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, “নারীরা নিরাপদ, সমর্থিত ও ক্ষমতায়িত হলে—বাংলাদেশকে থামিয়ে রাখার শক্তি কেউ নেই।”
শেষে তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সম্মানজনক ও সমান সুযোগের বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, তারেক রহমানের বাবা জিয়াউর রহমান ছিলেন স্বাধীনতা যোদ্ধা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি, আর তাঁর মা খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত সাহসী নারী—বীরঙ্গনা হিসেবে স্বীকৃত।