ডিবি পুলিশের মধ্যরাতের অভিযানে সাংবাদিক গ্রেপ্তার: নতুন সরকারের সময়ে পুরোনো স্বৈরাচারী আচরণের পুনরাবৃত্তি?

ডিবি পুলিশের হাতে বিনা অপরাধে গভীর রাতে সাংবাদিক ও মিডিয়া পরামর্শক মিজানুর রহমান সোহেলকে বাসা থেকে তুলে নেওয়ার ঘটনাটি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। নাগরিক সমাজের অনেকেই এই ঘটনাকে বাংলাদেশের পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের স্বৈরাচারী দমন-পীড়নের পদ্ধতির সঙ্গে তুলনা করছেন। অভিযোগ উঠেছে—মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের স্বার্থ রক্ষায় মাত্র ৯ জনের সুবিধা দিতে ২৫ হাজার ব্যবসায়ীর জীবিকা হুমকির মুখে ফেলতে গোপনে সাজানো হচ্ছে গভীর চক্রান্ত, আর সেই চক্রান্ত ভেস্তে যাওয়ার ভয়েই প্রেস কনফারেন্স বন্ধ করতে সাংবাদিক সোহেলকে আটক করা হয়েছিল।

PostImage

ডিবি পুলিশের মধ্যরাতের অভিযানে সাংবাদিক গ্রেপ্তার: নতুন সরকারের সময়ে পুরোনো স্বৈরাচারী আচরণের পুনরাবৃত্তি?


আলহামদুলিল্লাহ জানিয়ে ব্যক্তিগত যাচাইকৃত অ্যাকাউন্টে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সাংবাদিক ও অনলাইন এডিটর মিজানুর রহমান সোহেল জানিয়েছেন—বিনা অপরাধে প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা ডিবি পুলিশের হেফাজতে রাখার পর তাকে ‘স্বসম্মানে’ বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। তবে আটক হওয়ার কারণ জানাতে পারেননি ডিবির কোনো কর্মকর্তা, এমনকি যারা তাকে গভীর রাতে তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন তারাও নীরব ছিলেন।

সোহেলের অভিযোগ—সরকারের একজন উপদেষ্টার ইশারায় দেশে মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানি ও বাজার নিয়ন্ত্রণে ৯ জন ব্যবসায়ীর জন্য মনোপলি সুবিধা গড়ে তুলতে চক্রান্ত চলছে। সেই চক্রান্তের বিরুদ্ধে কথা বলা রোধ করতে এবং ডিআরইউতে নির্ধারিত বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)-এর প্রেস কনফারেন্স বন্ধ করাই ছিল তার গ্রেপ্তারের মূল উদ্দেশ্য।

তিনি জানান, গভীর রাত ১২টার দিকে ‘ডিবি প্রধান কথা বলবেন’ এই অজুহাতে ৫–৬ জন সদস্য জোরপূর্বক তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসামির খাতায় নাম লিখে জুতা–বেল্ট খুলিয়ে আসামিদের গারদে আটক রাখা হয়।

প্রেস কনফারেন্স বন্ধ করাই ছিল প্রধান লক্ষ্য:

বুধবার দুপুরে ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার (এনইআইআর) ইস্যুতে ব্যবসায়ীদের বৃহত্তর স্বার্থে এমবিসিবি যে প্রেস কনফারেন্স আহ্বান করেছিল, সোহেল সেখানে ছিলেন মিডিয়া পরামর্শক হিসেবে। ওই সংবাদ সম্মেলন সরকারের পছন্দসই নয় এমন তথ্য উন্মোচন করত—এমন আশঙ্কায় তা বন্ধ করার জন্যই তাকে আটক করা হয় বলে দাবি।

মাত্র ৯ জনের সুবিধায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে ২৫ হাজার ব্যবসায়ী

সোহেল বলেছেন—এনইআইআর প্রকল্প দেশের মুক্ত বাজার নীতির পরিপন্থী। প্রতিযোগিতা কমিশন থাকা সত্ত্বেও মাত্র ৯ জন মোবাইল ব্যবসায়ীকে একচ্ছত্র ক্ষমতা দিতে সারাদেশের প্রায় ২৫ হাজার ব্যবসায়ীর জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। ঢালাও অভিযোগ—এই ৯ জনের একজন সরকারের সেই প্রভাবশালী উপদেষ্টার স্কুল-বন্ধু।

নতুন সরকারের অস্বস্তিকর অবস্থান:

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে তুলনা করছেন বাংলাদেশের পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সময় ঘটে যাওয়া দায়িত্বহীন দমন-পীড়নের সঙ্গে—যে কারণে তিনি জনগণের কাছে স্বৈরাচার ও বাকস্বাধীনতাবিরোধী শাসকের প্রতীক হয়ে ওঠেন।

সমালোচকদের প্রশ্ন—ইউনুস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ‘নতুন বন্দোবস্ত’ কি তাহলে আগের মতোই দমনমূলক হবে?

আটকের প্রতিবাদে দেশজুড়ে প্রতিক্রিয়া:

মিজানুর রহমান সোহেল আটক হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাংবাদিক সমাজ, সহকর্মী, বন্ধু এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়। অনেকে স্ট্যাটাস দেন, বিবৃতি দেন এবং সংবাদ প্রকাশ করেন। সোহেলের বিশ্বাস—এই জনমত ও চাপের কারণেই তিনি দ্রুত মুক্তি পেয়েছেন।