গণমাধ্যমে সহযোগিতা বাড়াতে ঢাকা–ইসলামাবাদ আলোচনায় অগ্রগতি

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

PostImage

গণমাধ্যমে সহযোগিতা বাড়াতে ঢাকা–ইসলামাবাদ আলোচনায় অগ্রগতি


দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও গণমাধ্যম উন্নয়নে আলোচনায় অগ্রগতি

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোঃ মাহফুজ আলমের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে মন্ত্রণালয়ের দফতরে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠক হয়। এতে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ছাড়াও গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলা হয়।

সাক্ষাৎকালে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সরকারি বার্তা সংস্থার মধ্যে ইতোমধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দুই দেশের গণমাধ্যমের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান, সংবাদ পরিবেশনের মানোন্নয়ন এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। তিনি বলেন, গণমাধ্যম খাতকে আধুনিক ও গবেষণাভিত্তিক করতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কার্যক্রম চালুর বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আগ্রহ জানানো হয়।

পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারও গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করতে যেকোনো গঠনমূলক প্রচেষ্টায় সহায়তার আশ্বাস দেন। তিনি ভবিষ্যতে যৌথ কর্মশালা, সাংবাদিক বিনিময় ও তথ্যপ্রযুক্তি সহযোগিতার মতো কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশের গণমাধ্যম অবকাঠামো উন্নয়নের প্রসঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, দেশব্যাপী টেলিভিশন সম্প্রচার ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন ও ডিজিটালাইজেশন করার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এর মাধ্যমে দেশের দর্শকরা আরও উন্নতমানের সম্প্রচার সুবিধা পাবেন এবং দেশীয় মিডিয়া আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গেও বৈঠকে আলোচনা হয়। পাকিস্তানের হাইকমিশনার বলেন, আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ যে দলকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে, পাকিস্তান সরকার সেই নির্বাচিত সরকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে। তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতার প্রতি শুভকামনা জানান।


এ ছাড়া গবেষণার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে সহযোগিতা চেয়ে উপদেষ্টা মোঃ মাহফুজ আলম বলেন, বাংলাদেশের বহু গবেষক ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের প্রতিদিনের আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ঘটনাবলি নিয়ে গবেষণা করছেন। এ গবেষণায় পাকিস্তানের জাতীয় আর্কাইভে সংরক্ষিত বহু দলিল-দস্তাবেজ প্রয়োজন। তিনি পাকিস্তান হাইকমিশনারকে এসব ডকুমেন্ট সংগ্রহে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান জানান। হাইকমিশনার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

সাক্ষাতে দুই দেশের আর্থসামাজিক সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক অদলবদল, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে পাকিস্তান হাইকমিশনের প্রেস কাউন্সিলর ফসিহ উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।