দিনশেষে প্রশ্ন: গ্রামীণ ব্যাংক এভাবে কতদিন পাহারা দিয়ে টিকে থাকবে পরিস্থিতি?

গুজব-উসকানিতে গ্রামীণ ব্যাংকে নাশকতার চেষ্টা: প্রকৃত মালিকানা-তথ্য প্রকাশ করে সতর্কতা জারি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের

PostImage

দিনশেষে প্রশ্ন: গ্রামীণ ব্যাংক এভাবে কতদিন পাহারা দিয়ে টিকে থাকবে পরিস্থিতি?


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে—গ্রামীণ ব্যাংককে কেন্দ্র করে ধারাবাহিকভাবে গুজব, ভুল তথ্য এবং রাজনৈতিক উসকানি ছড়ানো হচ্ছে। এসব গুজবকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গ্রামীণ ব্যাংকের শাখা অফিসে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ ও হামলার মতো ঘটনা ঘটছে।


সম্প্রতি পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রায়ের প্রতিবাদে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ লকডাউনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। সেই কর্মসূচি সফল করতে, গ্রামীণ ব্যাংকের শাখা অফিসগুলোকে লক্ষ্য করে সংগঠিত নাশকতার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগে আওয়ামী লীগের সমর্থক কিছু ব্যক্তি সামাজিক মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংকের শাখাগুলোর ঠিকানা প্রকাশ করে, এমনকি ভাড়াভিত্তিক ভবনের মালিকদেরও হুমকি দিয়ে বলেছেন—“ভবন নিরাপদ রাখতে গ্রামীণ ব্যাংকের অফিস উঠিয়ে দিন।”

✔ ভুল ধারণা দূর করতে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যাখ্যা

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে স্পষ্ট জানায়—গ্রামীণ ব্যাংকের সাথে নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা হলেও বর্তমানে কোনো ধরনের পদে নেই।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য:

“গ্রামীণ ব্যাংকের কোন ক্ষতি হলে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইউনূসের কিছু হবে না। এটি জনগণের এবং সরকারের সম্পদ। গুজবে কান দেবেন না।”


✔ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস: জনগণের ব্যাংক কীভাবে গড়ে উঠল

১৯৭৬ সালে ড. মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে ক্ষুদ্রঋণ ধারণা চালু করেন।

১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ সরকার গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ জারি করে এটিকে একটি স্বতন্ত্র ও সরকারি অনুমোদিত ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেয়। এরপর থেকে এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম-তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।

✔ মালিকানা কাঠামো: কারা প্রকৃত মালিক?

গুজবের বিপরীতে প্রকৃত তথ্য হলো—

গ্রামীণ ব্যাংকের ৯০% শেয়ারধারী হলেন ক্ষুদ্রঋণগ্রহীতা সদস্যরা—যারা জীবিকা নির্বাহের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেন।

বাকি ১০% মালিকানা রয়েছে বাংলাদেশ সরকারের হাতে।

অর্থাৎ এটি কোনো ব্যক্তির নয়—এটি গ্রামের লাখো সাধারণ নারী-পুরুষের ব্যাংক, যাদের সঞ্চয় ও ঋণেই প্রতিষ্ঠানটি দাঁড়িয়ে আছে।

✔ ড. ইউনূসের ভূমিকা কোথায়?

ড. ইউনূস প্রতিষ্ঠাতা এবং বহু বছর ব্যাংকের এমডি ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি ব্যাংকের কোনো পদে নেই।

ব্যাংক পরিচালনা করছেন একটি বোর্ড অব ডিরেক্টরস, যেখানে সদস্যরাই মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।


✔ গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কাজ

বিনা জামানতে ক্ষুদ্রঋণ প্রদান সদস্য ও অসদস্যদের সঞ্চয় সংগ্রহ

নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও ক্ষমতায়ন

গ্রামীণ অর্থনীতিতে স্বনির্ভরতা তৈরি

৯৭% ঋণগ্রহীতা নারী, যা নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদান রাখছে।

✔ গুজব ও নাশকতার প্রবণতা: উদ্বেগ বাড়ছে

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভুল তথ্য প্রচারের কারণে কিছু মানুষ গ্রামীণ ব্যাংকে হামলার চেষ্টা করছে।

এটি বেআইনি, অনৈতিক এবং জনগণের সম্পদ ধ্বংসের শামিল, বলে মন্তব্য করেছে কর্তৃপক্ষ।

✔ গ্রামীণ ব্যাংকের অবদান

১ কোটিরও বেশি সদস্য

৮০,০০০+ গ্রামে সেবা বাংলাদেশের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের পথিকৃৎ

বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত “Grameen Model”

✔ সরকারের ভূমিকা

বাংলাদেশ সরকার ব্যাংকের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করে।

বোর্ডে সরকারের প্রতিনিধি থাকে এবং সব কার্যক্রম বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইনের আওতায় পরিচালিত হয়।

✔ জনগণের প্রতি আহ্বান

গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এবং সচেতন নাগরিকরা বলছেন—

গুজব ও উসকানিতে কান দেবেন না

যেকোনো নাশকতা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ

গ্রামীণ ব্যাংকের অফিস বা কর্মীদের ক্ষতি মানেই জনগণের সম্পদ ধ্বংস

সঠিক তথ্য যাচাই করে অন্যদের জানানো প্রয়োজন