হুমায়ূন আহমেদের ৭৭তম জন্মদিনে গেণ্ডারিয়ায় ‘আগুনের পরশমণি’ উৎসব

মেলার সদস্যরা মঞ্চে জীবন্ত করে তোলেন হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্ট জনপ্রিয় চরিত্র—হিমু, মিসির আলী, বাকের ভাই–মুনা, আনিস ভাই–কংকা–তিতলী ও তারা তিনজন। দর্শকরা মনোযোগ দিয়ে উপভোগ করেন প্রতিটি পরিবেশনা, যা তিন ঘণ্টা ধরে মুগ্ধতার আবহ তৈরি করে।

PostImage

হুমায়ূন আহমেদের ৭৭তম জন্মদিনে গেণ্ডারিয়ায় ‘আগুনের পরশমণি’ উৎসব


বাংলা সাহিত্যের নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭৭তম জন্মদিন উপলক্ষে গেণ্ডারিয়া কিশলয় কচি-কাঁচার মেলা ও কামাল স্মৃতি পাঠাগারের যৌথ উদ্যোগে ১৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে উদযাপিত হলো জন্মোৎসব “আগুনের পরশমণি”। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাজহারুল ইসলাম, প্রধান নির্বাহী, অন্যপ্রকাশ। বিশেষ অতিথি ছিলেন আকরামুল হাসান, এডিসি, ওয়ারি ডিভিশন, ডিএমপি; এবং আব্দুল্লাহ নাসের, নির্বাহী সম্পাদক—অন্যদিন ও পরিচালক—অন্যপ্রকাশ। সভাপতিত্ব করেন মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী, সহ-সভাপতি, গেণ্ডারিয়া কিশলয় কচি-কাঁচার মেলা।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কিশলয় কচি-কাঁচার মেলার উপদেষ্টা প্রশান্ত কুমার দাস, কামাল স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি আবু তাহের বকুল, আদি ঢাকা সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মানস বোস বাবুরাম, সহ-সভাপতি নিয়াজ আহমেদ ও শওকত হাসান।



অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধারাও অংশগ্রহণ করে আয়োজনে বিশেষ মর্যাদা যোগ করেন।

বহুমুখী সাংস্কৃতিক আয়োজনে হুমায়ূন আহমেদের লেখা থেকে নাচ, গান, আবৃত্তি ও পাঠ প্রতিক্রিয়া ছিল বিশেষ আকর্ষণ। অনুষ্ঠানে হুমায়ূন আহমেদের প্রিয় হাসন রাজার একটি গানও পরিবেশন করা হয়। মেলার সদস্যরা পরিবেশন করেন হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টি জনপ্রিয় চরিত্র—হিমু, মিসির আলী, বাকের ভাই–মুনা, আনিস ভাই–কংকা–তিতলী ও তারা তিনজন—নিয়ে স্বল্পদৈর্ঘ্য নাটক, যা অতিথি ও দর্শকদের মুগ্ধ করে। সবশেষে রবীন্দ্রপ্রেমী হুমায়ূনকে উৎসর্গ করে সকল শিল্পীর সমবেত কন্ঠে পরিবেশিত হয় আগুনের পরশমণি গানটি।  এছাড়াও পাঠাগারের পক্ষ থেকে সপ্তাহব্যাপী ছিলো হুমায়ূন আহমেদের বই প্রদর্শনী। 




অনুষ্ঠানের গ্রন্থনা ও পরিকল্পনা করেন গেণ্ডারিয়া কিশলয় কচি-কাঁচার মেলার সাধারণ সম্পাদক নুসরাত ইয়াসমিন রুম্পা এবং কামাল স্মৃতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক এহেতেশাম খান সিদ্দিকী।

গেণ্ডারিয়া কিশলয় কচি-কাঁচার মেলার শিক্ষার্থীরা গত ৫৩ বছর ধরে শিশুদের মানসিক, সাংস্কৃতিক ও নৈতিক বিকাশে কাজ করে আসছে। এবারই প্রথমবার তারা আয়োজন করে হুমায়ূন জন্মোৎসব। 



গেণ্ডারিয়া কিশলয় কচি কাচাঁর মেলা ও কামাল স্মৃতি পাঠাগারের সদস্য দের এই হৃদ্যতাপূর্ণ আয়োজন হুমায়ুন আহমেদ প্রেমী দর্শককে মুগ্ধ করে।তিনঘন্টাব্যাপী এই অনুষ্ঠানের প্রতিটি পরিবেশনাই দর্শকের মনে আনন্দ দিয়েছে।