বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ আহমদ সজীব ভূঁইয়ার প্রাক্তন সহকারী একান্ত সচিব মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ‘অস্বাভাবিক লেনদেন’ অভিযোগ—ব্যাখ্যা দিলেন

মোয়াজ্জেম হোসেনের ফেসবুকে প্রকাশিত তথ্য ও ব্যক্তিগত ভূমিকায় স্বচ্ছতা প্রদর্শনের উদ্যোগ অনেকের কাছেই প্রশংসা পাচ্ছে। তবে অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতার বিষয়ে যথাযথ তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত মন্তব্য করা যাচ্ছে না।

PostImage

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ আহমদ সজীব ভূঁইয়ার প্রাক্তন সহকারী একান্ত সচিব মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ‘অস্বাভাবিক লেনদেন’ অভিযোগ—ব্যাখ্যা দিলেন


বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রভাবশালী উপদেষ্টা আসিফ আহমদ সজীব ভূঁইয়ার সাবেক বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধু ও সহযোদ্ধা মোয়াজ্জেম হোসেন, যিনি উপদেষ্টার সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা “অস্বাভাবিক অর্থ লেনদেন”–সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং অভিযোগ তদন্তের স্বার্থে পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করেছেন।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি গণমাধ্যমের ফটোকার্ড ঘিরে আলোচনার জন্ম হয়, যেখানে দাবি করা হয় মোয়াজ্জেম হোসেনের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে “অস্বাভাবিক লেনদেন” হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রশ্নের জন্ম দেয়।

প্রতিক্রিয়ায় মোয়াজ্জেম হোসেন নিজেই ফেসবুকে দুইটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যসহ অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্টের ছবি প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন—

  • তার ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংখ্যা—২টি
    ১) অগ্রণী ব্যাংক
    ২) প্রাইম ব্যাংক

  • প্রাইম ব্যাংক অ্যাকাউন্ট
    তিনি যখন ideSHi তে ইন্টার্ন করতেন, সেই সময়কার অনারিয়াম এখানে জমা হতো। বর্তমানে সেখানে ১ থেকে ১.৫ হাজার টাকা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

  • অগ্রণী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা)—খোলা হয় ২০১৯ সালে
    তিনি জানান, এই অ্যাকাউন্টে তার বৃত্তির টাকা জমা হতো।
    ৫ আগস্টের আগে অ্যাকাউন্টে ৪২ হাজার টাকা ছিল।
    ৫ আগস্টের পর সরকারি দায়িত্ব পালনকালে বেতনের একটি অংশ সঞ্চয় করে এখন মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা রয়েছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন—
“এর বাইরে আমার কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। ‘আমার দেশ’ পত্রিকা যদি প্রমাণ করতে না পারে, আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব।”

একই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন—

“আমার বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি তথ্য ছড়ানো হলো। সেটার সত্যতা যাচাই না করেই আমাকে নিয়ে সমালোচনা করা হচ্ছে। দায়িত্বে থাকতে তদন্ত সুষ্ঠুভাবে নাও হতে পারে—এই কারণেই আমি দায়িত্ব থেকে সরে এসেছি, যেন অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করা যায়।”

তিনি আরও জানান, নিজের সততা প্রমাণে তিনি প্রস্তুত এবং যেকোনো ন্যায্য তদন্তে সহযোগিতা করবেন।

গণমাধ্যম আমার দেশ–এর প্রকাশিত দাবি অনুযায়ী মোয়াজ্জেম হোসেনের অ্যাকাউন্টে “অস্বাভাবিক লেনদেন” হয়েছে—তবে তাদের প্রতিবেদনে এসব লেনদেন সম্পর্কে স্পষ্ট পরিসংখ্যান বা নথি উল্লেখ করা হয়নি। এই কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রতিবেদনটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ আহমদ সজীব ভূঁইয়ার দপ্তর আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে দপ্তরের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, অভিযোগ স্বচ্ছভাবে তদন্তের সুযোগ তৈরি করতে মোয়াজ্জেমের পদত্যাগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে—অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে তা দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া জরুরি।

  • তরুণ কর্মকর্তা–কর্মচারীদের প্রতি অযথা অভিযোগ–প্রবণতা দমন করতে তথ্য যাচাই ছাড়া সমালোচনার সংস্কৃতি কমানো প্রয়োজন।