বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনীতিতে ভিন্ন পথে আগাচ্ছে বিএনপি

৫ আগস্ট–পরবর্তী পরিস্থিতিতে ইমেজ পুনর্গঠনে গুরুত্ব, নেতৃত্বে উঠে আসছেন আমিনুল হক

PostImage

বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনীতিতে ভিন্ন পথে আগাচ্ছে বিএনপি


২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের অস্থিরতা, দলীয়করণ ও সীমাবদ্ধতার প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলো এখন কার্যক্রম পরিচালনায় আগের তুলনায় অনেক বেশি সতর্ক। বিশেষত বিএনপি—যারা দীর্ঘ সময় ধরে রাজপথে সুসংগঠিত হতে পারেনি, গণতান্ত্রিক উপায়ে জনগণের কাছে তাদের বার্তা পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং সরকারের নির্মম দমন-পীড়নের ফলে প্রান্তিক পর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত নেতারা জেল, জুলুম ও হুলিয়ার মধ্যে দিন কাটিয়েছে—সেই দল এখন পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে।


এ ছাড়া দলের প্রধান নেতৃত্বের দীর্ঘ নির্বাসন এবং বহু নেতা-কর্মীর দেশান্তর বা গোপনে থাকতে বাধ্য হওয়ায় বিএনপির ভেতরে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে অনেক নেতাই বিচ্ছিন্ন জীবন, প্রবাস অভিজ্ঞতা কিংবা ফেরারি অবস্থায় থাকার কারণে কিছুক্ষেত্রে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে উঠেছিলেন—যা সাংগঠনিক ঐক্য ও রাজনৈতিক শৃঙ্খলাকে আরও দুর্বল করেছিল। তবে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সাম্প্রতিক সময়ে সেই অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা প্রশমনে কঠোর ভূমিকা নিয়েছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সক্ষম হয়েছে।


এরই ধারাবাহিকতায় দল এখন নতুন নেতৃত্ব ও নতুন রাজনৈতিক ভাবধারার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তরুণমুখী, সংগঠক ও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় নেতাদের সামনে আনার কৌশলের অংশ হিসেবেই উঠে আসছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক, কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা–১৬ আসনের প্রার্থী আমিনুল হক। তার নিয়মিত সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে স্পষ্ট—দল তাকে প্রাধান্য দিয়ে নতুন দায়িত্ব ও আধুনিক রাজনীতির অন্যতম মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে।

 তার নিয়মিত সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে স্পষ্ট—দল তাকে প্রাধান্য দিয়ে নতুন দায়িত্ব ও আধুনিক রাজনীতির অন্যতম মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে।

শিক্ষাঙ্গনে বাধ্যতামূলক খেলাধুলা ও সংস্কৃতি—আমিনুল হকের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

রোববার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর পল্লবীর জিয়া মহিলা কলেজে নবীনবরণ, কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা এবং অভিভাবক–শিক্ষার্থী মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিনুল হক শিক্ষার নতুন রূপরেখা নিয়ে কথা বলেন।

তিনি বলেন,

“আগামী শিক্ষাঙ্গন হবে নতুন চিন্তা ও নতুন স্বপ্নের। শুধু পাঠ্যপুস্তক নয়—খেলাধুলা ও সংস্কৃতি বাধ্যতামূলক করা হবে। এগুলোর সমন্বিত চর্চাই আমাদের সমাজকে গুণগতভাবে বদলে দেবে।”


তার মতে, পাঠ্যপুস্তককেন্দ্রিক শিক্ষা নতুন প্রজন্মকে সীমিত জ্ঞান ও প্রতিযোগিতায় আবদ্ধ রাখছে। তাই শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে খেলাধুলা এবং দেশীয় সংস্কৃতির নিয়মিত চর্চা প্রয়োজন।


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা নিশ্চিতের অঙ্গীকার


আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সম্পূর্ণ স্বশাসন নিশ্চিত করা হবে।


তার ভাষায়—

“সরকার গঠন করতে পারলে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতভাগ স্বশাসন ও স্বাধীনভাবে পরিচালনার নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, দলীয় নিয়ন্ত্রণ—কিছুই থাকবে না।”


দীর্ঘদিনের দলীয়করণ, দুর্নীতি ও অচলাবস্থার সমালোচনা


গত ১৭ বছরের শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা উল্লেখ করে তিনি বলেন—

“দলীয়করণ, অযোগ্যদের প্রাধান্য ও দুর্নীতির কারণে বহু স্কুল–কলেজের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। শিক্ষক–শিক্ষার্থী–অভিভাবকদের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক ভেঙে গেছে।”


তবে ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার বক্তব্য—

“৫ আগস্টের পর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাধীনভাবে কাজ করার নির্দেশনা এসেছে। ভবিষ্যতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না—এটাই নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা।”


সামাজিক সম্পর্ক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরির আহ্বান


শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে আমিনুল হক বলেন,

“শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্ক না থাকলে শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন সম্ভব নয়। আন্তরিকতা, সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধই শিক্ষার প্রকৃত ভিত্তি।”


অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিতদের মধ্যেও আমিনুল হকের শিক্ষাবিষয়ক সংস্কার ভাবনা ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে বলে জানা যায়।