বিদেশে থেকেও আন্দোলনের হাল ধরল আওয়ামী লীগ
দুই সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভে বিদেশে থাকা নেতাদের দূরনির্দেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিদেশে থেকেও আন্দোলনের হাল ধরল আওয়ামী লীগ
গত ১৫ দিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে লকডাউন নতুন গতি পেয়েছে। আন্দোলনের এই ধারাকে আলাদা করে তুলছে একটি বিশেষ দিক—আওয়ামী লীগের বহু নেতা বর্তমানে নিজ এলাকায় নেই, এমনকি অনেকে দেশের বাইরেও অবস্থান করছেন; তবু তারা অনলাইনের মাধ্যমে আন্দোলন পরিচালনা করছেন।
গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ত্যাগ করার পর থেকে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ব্যাপক পুনর্গঠন ঘটে। অনেক সিনিয়র নেতা নিরাপত্তাজনিত কারণে বিদেশে চলে যান, আর অনেকে নিজেদের এলাকা থেকে দূরে অবস্থান করেন। এর ফলে সরাসরি সংগঠন পরিচালনার পরিবর্তে দলটি ভার্চুয়াল যোগাযোগভিত্তিক নেতৃত্ব কৌশল গ্রহণ করে।
দলীয় সূত্র জানায়, বিদেশে থাকা বা এলাকা ছেড়ে থাকা নেতারা এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ, ফেসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপ ও ছোট আকারের জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে নিয়মিত নির্দেশ পাঠাচ্ছেন। এসব বৈঠকে কর্মসূচির ধরন, কোন এলাকায় কীভাবে বিক্ষোভ হবে, স্লোগান কী হবে, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অযথা সংঘর্ষ এড়ানোর কৌশল জানানো হচ্ছে।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বহু কর্মী জানান, “নেতারা দূরে থাকলেও প্রতিদিন যোগাযোগ রাখছেন। আমরা পরিষ্কার নির্দেশ পাই—কোথায় জমায়েত হবে, কোন রুটে মিছিল যাবে, কীভাবে জনসমাগম তৈরি করতে হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক আন্দোলনের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। দূর থেকে নেতৃত্ব দেওয়া—যা আগে অসম্ভব মনে হতো—এখন বাস্তবে মাঠের পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে। ডিজিটাল যোগাযোগ দেশের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে তারা মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে সরকার অভিযোগ করেছে, বিদেশে বসে আন্দোলন পরিচালনা করা দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগের নেতারা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, “এটি জনগণের দাবি এবং বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করার একটি গণতান্ত্রিক প্রয়াস।”
তবে মাঠপর্যায়ে সামনের সপ্তাহগুলোতে আরও বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি দেখা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভার্চুয়াল নেতৃত্বই আন্দোলনকে চালিত করবে—এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।