ব্রেকিং
রকেটের প্রযুক্তিতে আকাশে উড়ল টেসলা! ইলন মাস্কের নতুন প্রদর্শনী ঘিরে বিশ্বজুড়ে আলোচনাযুক্তরাষ্ট্রের স্কুলে ভয়াবহ বন্দুক হামলা, নিহত তিন শিশু ও শিক্ষক, সন্দেহভাজন কিশোরও নিহত বলে দাবিগোপন কূটনৈতিক তৎপরতা: টোকিওতে ফের যুক্তরাষ্ট্র–মিয়ানমার বৈঠক, নেপথ্যে নিরাপত্তা ও খনিজের হিসাবযুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা এখন স্বপ্ন, মাসে ৩ হাজার ডলারের বেশি খরচে চাপে পরিবারবাংলাদেশে ফেসবুকের জনপ্রিয়তায় মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত, মেটার সঙ্গে আলোচনায় নতুন ব্যবসার সম্ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা এখন স্বপ্ন, মাসে ৩ হাজার ডলারের বেশি খরচে চাপে পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা কি সাধারণ পরিবারের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে? ঋণের উচ্চ সুদ, বাড়ির দাম ও ভাড়ার ব্যয় নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ এই খবর।

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা ও ভাড়া নেওয়ার খরচ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা ও ভাড়া নেওয়ার খরচ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা ও ভাড়া নেওয়ার খরচ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উচ্চ গৃহঋণের সুদ, বাড়ির দাম বৃদ্ধি এবং মাসিক আবাসন ব্যয়ের কারণে অনেক পরিবার বাড়ি কেনার পরিকল্পনা পিছিয়ে দিচ্ছে। কেউ কেউ বাড়ি কেনার জন্য সঞ্চয় করার বদলে আপাতত ভাড়া বাসায় থাকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। জিলোর ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত সর্বশেষ আবাসন প্রতিবেদনেও এই প্রবণতার চিত্র উঠে এসেছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে সবচেয়ে বড় চাপগুলোর একটি হলো গৃহঋণের সুদ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০ বছরের নির্দিষ্ট সুদের গৃহঋণের গড় হার ৭.৪০ শতাংশে রয়েছে। এক বছর আগে একই সময়ে এই হার ছিল প্রায় ৬.২৭ শতাংশ। ফলে বাড়ি কেনার জন্য ঋণ নিতে আগ্রহীদের দীর্ঘ মেয়াদে বেশি সুদ দিতে হচ্ছে।

এই সুদের প্রভাব মাসিক কিস্তিতে সরাসরি পড়ে। বাড়ির দাম একই থাকলেও ঋণের সুদ বাড়লে ক্রেতাকে বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হয়। এর সঙ্গে সম্পত্তি কর, বাড়ির বীমা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য খরচ যুক্ত হলে প্রকৃত ব্যয় আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে প্রথমবার বাড়ি কিনতে চান এমন তরুণ দম্পতি, নতুন অভিবাসী এবং মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

জিলোর সেপ্টেম্বর মাসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে একটি সাধারণ বাড়ি কেনা নতুন ক্রেতার আনুমানিক মাসিক আবাসন পরিশোধ বেড়ে ৩ হাজার ৩৭ ডলারে পৌঁছেছে। এক বছরে এই ব্যয় বেড়েছে ৫ শতাংশ। অন্যদিকে, দেশটিতে গড় মাসিক ভাড়া ১ হাজার ৯৩২ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২.৭ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ, জাতীয় গড় হিসাবে বাড়ি কেনার মাসিক ব্যয় ভাড়ার তুলনায় অনেক বেশি। 

এই ব্যবধানের কারণে ভাড়ার বাজারেও চাহিদা বাড়ছে। জিলোর ভাড়াটিয়া চাহিদা সূচক অনুযায়ী, এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে ভাড়ার বাসার চাহিদা ১৯.২ শতাংশ বেড়েছে। একক পরিবারের জন্য নির্মিত বাড়ি ভাড়া নেওয়ার চাহিদা বেড়েছে ২১.৬ শতাংশ। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভাড়াটিয়াদের খরচ কমছে; বরং বাড়ি কেনার ব্যয় আরও দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই আপাতত ভাড়াকে বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। 

নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জিলোর প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক মহানগর এলাকায় সাধারণ বাড়ির মাসিক ভাড়া ৩ হাজার ৫৪৬ ডলার এবং নতুন বাড়ি কেনার আনুমানিক মাসিক পরিশোধ ৬ হাজার ২৯৬ ডলার উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো মহানগর এলাকার গড় হিসাব; নিউইয়র্কের প্রতিটি বরো, পাড়া বা অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া এক নয়। বাসার আকার, অবস্থান, সুযোগ-সুবিধা এবং চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ব্যয় অনেকটাই বদলে যায়। 

বাড়ি কেনার বাজারেও মিশ্র পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। রয়টার্সের ১৩ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে আগে থেকে ব্যবহৃত বাড়ি বিক্রি আগের মাসের তুলনায় ১.৫ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু এক বছরের তুলনায় বিক্রি ২.২ শতাংশ কম ছিল। একই সময়ে এসব বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য বেড়ে ৪ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ ডলারে পৌঁছেছে, যা সেপ্টেম্বর মাসের জন্য রেকর্ড। বিক্রির অপেক্ষায় থাকা বাড়ির সংখ্যা বেড়ে ১৬ লাখ হলেও উচ্চ সুদ ও দাম অনেক ক্রেতার সামর্থ্যের বাইরে রয়ে গেছে।

বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য বাড়ি কেনার আগে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা জরুরি। শুধু মাসিক ঋণের কিস্তি নয়, ডাউন পেমেন্ট, সম্পত্তি কর, বীমা, বাড়ির মেরামত এবং জরুরি সঞ্চয়ের খরচও হিসাব করতে হবে। একইভাবে ভাড়া বাসা নেওয়ার সময় মাসিক ভাড়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা জামানত, ইউটিলিটি বিল, যাতায়াত ব্যয় এবং লিজের শর্ত যাচাই করা দরকার। বাড়ি কেনা সব সময় ভাড়ার চেয়ে লাভজনক হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই; সিদ্ধান্তটি নির্ভর করে পরিবারের আয়, সঞ্চয়, বসবাসের পরিকল্পনা ও স্থানীয় বাজারের ওপর।

আবাসন বাজারের বর্তমান চিত্র বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার আগ্রহ পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি; বরং উচ্চ ঋণব্যয় অনেক সম্ভাব্য ক্রেতাকে অপেক্ষা করতে বাধ্য করছে। ভাড়ার চাহিদা বাড়লেও দেশের সব এলাকায় একই হারে ভাড়া বাড়ছে না। তাই জাতীয় গড়ের পাশাপাশি নিজ শহর ও এলাকার সর্বশেষ তথ্য দেখা গুরুত্বপূর্ণ।

ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রেবাড়ি কেনা ও ভাড়ামাসিক কিস্তিতে সরাসরি পড়ে।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।