এনসিপির মনোনয়ন নিয়ে মাঠে লেখক–সাংবাদিক আসাদুল্লাহ: শাপলা কলি ঘিরে উচ্ছ্বাস

মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত এক লেখক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তিনি গত ১৫ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। বর্তমানে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার বিনোদন বিভাগের দায়িত্বে আছেন।

PostImage

এনসিপির মনোনয়ন নিয়ে মাঠে লেখক–সাংবাদিক আসাদুল্লাহ: শাপলা কলি ঘিরে উচ্ছ্বাস


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-২ (বেড়া–সুজানগর) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপির মনোনয়ন তুলেছেন লেখক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ। তিনি এনসিপির যুব উইং জাতীয় যুবশক্তি-এর কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও প্রেস উইং প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে এসে তিনি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। এ সময় পাবনা-২ আসনের শতশত নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে কার্যালয় প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। ‘এনসিপি জয় হবে’, ‘যুবশক্তি এগিয়ে চলো’, ‘শাপলা কলি’, ‘আসাদ ভাই এগিয়ে যান’—এমন স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে উঠে।

“নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে রাজনীতিতে” — মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

মনোনয়ন সংগ্রহের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ বলেন—

“নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছি। প্রচলিত রাজনীতি বুঝছি, শিখছি—সাথে সাথে নতুন ধারণা প্রয়োগের চেষ্টা করছি। নির্বাচনি প্রচারে নতুনত্ব আনতে পারলে তিন–চার মাসেই একটি আসনের ফল ঘুরিয়ে দেওয়া সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন—

“দল যদি আমার ওপর আস্থা রাখে, এমন কিছু দুর্দান্ত ও উদ্ভাবনী প্রচারণা কৌশল নিয়ে মাঠে নামব যা অনুমান করার আগেই পুরো নির্বাচনি সমীকরণ বদলে দেবে।”

‘নয়া বন্দোবস্ত জরুরি বাস্তবতা’

রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন—

“নয়া বন্দোবস্ত এখন কেবল তাত্ত্বিক কথা নয়, দেশে রাজনৈতিক ক্ষমতা জনগণের দুয়ারে পৌঁছে দিতে এটি অত্যাবশ্যকীয় বাস্তবতা। এনসিপি যদি আমার ওপর ভরসা করে, আমি সেই আস্থার প্রতিদান দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”

“পাবনা-২ নেতৃত্ব দেখে ভোট দেয়, দল নয়”

পাবনা-২ আসনের রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ বলেন—

“এই আসন কোনো দলের একচ্ছত্র ভোটব্যাংক নয়। কখনো সামান্য ব্যবধানে আওয়ামী লীগ, আবার কখনো বিএনপির প্রার্থী জিতেছেন। এখানে মানুষ দল দেখে না—নেতৃত্ব দেখে ভোট দেয়।”

তিনি জানান,—

“পাবনা-২ আসনে প্রায় চার লাখ ভোটার। এর মধ্যে প্রায় এক লক্ষ ভোটার ৩৫ বছরের বেশি বয়সী হলেও কখনো ভোট দিতে পারেননি। এনসিপি হলো সেই দল, যারা জনতার ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য লড়ছে। আমি বিশ্বাস করি—বেড়া ও সুজানগরের মানুষ এবার পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেবেন।”

তরুণ ভোটারদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন—

“তরুণেরা নতুন বাংলাদেশ চায়। তাদের বাবা-মারাও পরিবর্তনের পক্ষে। শাপলা কলি প্রতীকের প্রতি বিশ্বাস বাড়ছে। সুস্থ মনের প্রবীণ ভোটাররাও শাপলা কলি সামনে পেলে অন্য কোনো মার্কায় ভোট দেবেন না।”


সাহিত্য থেকে রাজনীতিতে: বহুমাত্রিক আসাদুল্লাহ

মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত এক লেখক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তিনি গত ১৫ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। বর্তমানে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার বিনোদন বিভাগের দায়িত্বে আছেন।

তার প্রকাশিত সাতটি বইয়ের মধ্যে তিনটি উপন্যাস ও চারটি গল্পগ্রন্থ ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। দেশের বিশিষ্ট সাহিত্য সমালোচকরা তার লেখাকে “বাংলা সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন” হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।

বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ তার সাহিত্যকর্ম পর্যালোচনা করে ইতিবাচক মত দিয়েছেন। এমন একজন সৃজনশীল তরুণের রাজনীতিতে প্রবেশকে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।


পাবনা-২ আসনে নতুন সমীকরণ

এনসিপির মনোনয়ন সংগ্রহের মধ্য দিয়ে পাবনা-২ আসনে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ ও সৃজনশীল নেতৃত্বের আগমন আসন্ন নির্বাচনে আসনটির প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র করবে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর