ব্রেকিং
মেটার ঢাকা অফিস খোলার উদ্যোগে সরকারের তৎপরতা, নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূতভারতের ভোটার তালিকা থেকে কোটি নাম বাদ, মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তরুণদের বিক্ষোভ তীব্রক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার তালিকা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের হুঁশিয়ারি, ৪৮ ঘণ্টায় জবাব চায় বিচার বিভাগক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার তালিকা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের হুঁশিয়ারি, ৪৮ ঘণ্টায় জবাব চায় বিচার বিভাগমৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতেও দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার, বললেন ভয় নয়, কর্তব্যই শেষ কথা

ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার তালিকা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের হুঁশিয়ারি, ৪৮ ঘণ্টায় জবাব চায় বিচার বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার তালিকায় অনাগরিকদের নাম থাকার অভিযোগ তুলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। রাজ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, ভোটার যোগ্যতা যাচাইয়ে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন।

ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার তালিকা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের হুঁশিয়ারি, ৪৮ ঘণ্টায় জবাব চায় বিচার বিভাগ
ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার তালিকা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের হুঁশিয়ারি, ৪৮ ঘণ্টায় জবাব চায় বিচার বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার তালিকা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে নতুন বিরোধ তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিচার বিভাগ অভিযোগ করেছে, আসন্ন নির্বাচনের জন্য কিছু অনাগরিক ব্যক্তির কাছে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যালট পৌঁছেছে। এ বিষয়ে ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তালিকা যাচাই করার দাবি জানানো হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে জরুরি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে বিভাগটি।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১৫ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগ ১৩ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেট শার্লি ওয়েবার এবং লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠায়। ওই চিঠির সঙ্গে এমন ব্যক্তিদের নামসংবলিত একটি পেনড্রাইভ দেওয়া হয়, যাঁদের ভোট দেওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ। পেনড্রাইভটি পাসওয়ার্ড-সুরক্ষিত ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিচার বিভাগের দাবি, তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের যোগ্যতা যাচাই করতে হবে এবং যেসব ব্যালটের বৈধতা নিশ্চিত করা যায়নি, সেগুলো আটকে রাখতে হবে। অন্যথায় আদালতের জরুরি হস্তক্ষেপ চাওয়া হতে পারে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া তালিকায় থাকা প্রত্যেক ব্যক্তি অনাগরিক কিংবা অবৈধ ভোটার—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়নি।

ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেট শার্লি ওয়েবার কেন্দ্রীয় সরকারের দাবির পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এত অল্প সময়ে তালিকা যাচাই করার নির্দেশ এবং অভিযোগের ভিত্তি সম্পর্কে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতার অভাব উদ্বেগজনক। তিনি আরও বলেছেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য মার্কিন নাগরিকত্ব প্রয়োজন।

লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির নির্বাচনী নিবন্ধক ডিন লোগানও তালিকাটি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তাঁর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে পেনড্রাইভের নিরাপত্তা এবং ভোটারদের যোগ্যতা নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ব্যবহার। নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের মতে, কেবল কোনো তালিকায় নাম থাকার ভিত্তিতে কাউকে ভোট দেওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা উচিত নয়; সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে ভোটার নিবন্ধন ও নির্বাচনের প্রশাসনিক দায়িত্বের বড় অংশ রাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হাতে। কেন্দ্রীয় সরকার নির্বাচনী আইন প্রয়োগ এবং নাগরিক অধিকার রক্ষায় ভূমিকা রাখলেও ভোটার তালিকা পরিচালনা নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ক্ষমতার সীমা বহুদিন ধরেই বিতর্কের বিষয়। এই ঘটনা সেই বিরোধকে আবার সামনে এনেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকায় অনাগরিকদের নাম থাকার অভিযোগ তুলে যাচাই জোরদার করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে অনাগরিকদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত থাকার বিষয়ে প্রশাসনের বৃহত্তর দাবিগুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার মতো রাজ্যগুলো এর আগে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা এবং রাজ্যের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার স্বাধীনতার যুক্তিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কিছু তথ্য-সংক্রান্ত অনুরোধের বিরোধিতা করেছে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে: ডাকযোগে ব্যালট পাওয়া মানেই কেউ ভোট দিয়েছেন, এমন নয়। একইভাবে কোনো ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় পাওয়া গেলেই তিনি অনাগরিক—এটিও প্রমাণিত হয় না। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করতে নাগরিকত্ব, নিবন্ধনের নথি এবং প্রযোজ্য নির্বাচনী আইন অনুসারে পৃথকভাবে যাচাই প্রয়োজন।

এই বিরোধের পরবর্তী ধাপ নির্ভর করবে ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষের জবাব, কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা এবং সম্ভাব্য আদালত-প্রক্রিয়ার ওপর। আদালতে আবেদন করা হলে বিচারককে সংশ্লিষ্ট আইন, প্রমাণ এবং উভয় পক্ষের যুক্তি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করতে যেমন যোগ্য ভোটারদের অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন, তেমনি অনিয়মের নির্ভরযোগ্য অভিযোগ থাকলে তা যথাযথভাবে তদন্ত করাও জরুরি। তবে যাচাইয়ের প্রক্রিয়া যেন বৈধ ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ন না করে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চূড়ান্ত আদালতের রায় বা ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার তালিকায় ব্যাপক অনাগরিক নিবন্ধনের বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া যাচ্ছে না। কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযোগ, রাজ্য কর্তৃপক্ষের আপত্তি এবং যাচাইযোগ্য প্রমাণ এই তিনটি বিষয় আলাদা করে বিবেচনা করেই পরবর্তী অগ্রগতি মূল্যায়ন করতে হবে।


ট্যাগ: ক্যালিফোর্নিয়াযুক্তরাষ্ট্রট্রাম্পভোটারতালিকামার্কিনরাজনীতি

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।