ব্রেকিং
পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ৩৩ জনের মৃত্যু, নিহতদের অধিকাংশই কোমলমতি শিশুবিনা খরচে মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ ১০ হাজার বাংলাদেশির, কারা পাবেন চাকরি?৫৪ বছরে প্রথম শিল্পখাতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক বিপর্যয় নিয়ে সরকারকে তোপ শেখ হাসিনারমেটার ঢাকা অফিস খোলার উদ্যোগে সরকারের তৎপরতা, নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূতভারতের ভোটার তালিকা থেকে কোটি নাম বাদ, মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তরুণদের বিক্ষোভ তীব্র

ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার তালিকা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের হুঁশিয়ারি, ৪৮ ঘণ্টায় জবাব চায় বিচার বিভাগ

ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার তালিকায় অনাগরিকদের নাম থাকার অভিযোগ তুলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। অমান্য করলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিচার বিভাগ।

ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার তালিকা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের হুঁশিয়ারি, ৪৮ ঘণ্টায় জবাব চায় বিচার বিভাগ
ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার তালিকা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের হুঁশিয়ারি, ৪৮ ঘণ্টায় জবাব চায় বিচার বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার তালিকা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ও রাজ্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে নতুন করে বিরোধ তৈরি হয়েছে। ভোটার তালিকায় অনাগরিকদের নাম থাকার অভিযোগ তুলে ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তথ্য যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে জরুরি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১৫ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৩ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেট শার্লি ওয়েবার এবং লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠায় বিচার বিভাগ। চিঠির সঙ্গে এমন কিছু ব্যক্তির নামসংবলিত একটি পেনড্রাইভ দেওয়া হয়, যাঁদের ভোট দেওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেনড্রাইভটি পাসওয়ার্ড দিয়ে সুরক্ষিত ছিল।

বিচার বিভাগের দাবি, তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের যোগ্যতা যাচাই করতে হবে। যেসব ব্যালটের বৈধতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি, সেগুলো নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের সরবরাহ করা তালিকায় থাকা প্রত্যেক ব্যক্তি অনাগরিক বা অবৈধ ভোটার—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেট শার্লি ওয়েবার কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাইয়ের নির্দেশ এবং অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতার অভাব উদ্বেগজনক। ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য মার্কিন নাগরিকত্ব বাধ্যতামূলক বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির নির্বাচনী নিবন্ধক ডিন লোগানও বিষয়টি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে সরবরাহ করা তথ্যের নিরাপত্তা এবং ভোটারদের যোগ্যতা নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ব্যবহার। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের অবস্থান অনুযায়ী, শুধু কোনো তালিকায় নাম থাকার ভিত্তিতে কাউকে ভোট দেওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়, নাগরিকত্ব ও নিবন্ধনের নথি যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রে ভোটার নিবন্ধন ও নির্বাচনের প্রশাসনিক দায়িত্বের বড় অংশ রাজ্য এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হাতে ন্যস্ত। কেন্দ্রীয় সরকার নির্বাচনী আইন প্রয়োগ ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় ভূমিকা রাখলেও ভোটার তালিকা পরিচালনা এবং তথ্য সরবরাহ নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাটি সেই বিরোধকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকা যাচাই জোরদার করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রশাসনের যুক্তি, নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ভোটারদের যোগ্যতা যাচাই গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনাগরিকদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত থাকার বিষয়ে বৃহত্তর দাবিগুলোর ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য প্রমাণের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার মতো রাজ্যগুলো ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং রাজ্যের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার স্বাধীনতার প্রশ্নে কেন্দ্রীয় সরকারের কিছু অনুরোধের বিরোধিতা করেছে।

এ ঘটনায় কয়েকটি বিষয় আলাদা করে দেখা জরুরি। ডাকযোগে কোনো ব্যক্তির কাছে ব্যালট পৌঁছানো মানেই তিনি ভোট দিয়েছেন, এমন নয়। একইভাবে ভোটার তালিকায় কারও নাম পাওয়া গেলেই তিনি অনাগরিক—এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যায় না। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নাগরিকত্বের নথি, ভোটার নিবন্ধনের তথ্য এবং প্রযোজ্য নির্বাচনী আইন অনুসারে পৃথকভাবে যাচাই করতে হবে।

বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে বিচারককে সংশ্লিষ্ট আইন, উপস্থাপিত প্রমাণ এবং উভয় পক্ষের যুক্তি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষ কী জবাব দেয় এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সরবরাহ করা তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য বলে প্রমাণিত হয়, তার ওপর পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় অনিয়মের নির্ভরযোগ্য অভিযোগ তদন্ত করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি যোগ্য ভোটারদের অধিকার সুরক্ষিত রাখাও জরুরি। যাচাইয়ের নামে বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, তা নিশ্চিত করা নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার তালিকায় ব্যাপকভাবে অনাগরিকদের নিবন্ধন থাকার অভিযোগ চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযোগ, রাজ্য কর্তৃপক্ষের আপত্তি এবং যাচাইযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই এ ঘটনার পরবর্তী অগ্রগতি মূল্যায়ন করতে হবে।


ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রক্যালিফোর্নিয়াডোনাল্ডট্রাম্পমার্কিননির্বাচনভোটারতালিকা

প্রতিবেদক

Tasfiq Azad

International Broadcast Journalist

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।