“নতুন বাংলাদেশ গড়ার দ্বারপ্রান্তে আমরা” — জাতির উদ্দেশে ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস
ড. ইউনুস বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাদের প্রথম রায় শীঘ্রই ঘোষণা করতে যাচ্ছে।” তিনি আরও জানান, বিভিন্ন আদালতে গুম ও রাষ্ট্রীয় দমননীতির শিকারদের মামলা শুরু হয়েছে— যা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম।
“নতুন বাংলাদেশ গড়ার দ্বারপ্রান্তে আমরা” — জাতির উদ্দেশে ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে বলেছেন, “আমরা এখন একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। নতুন বাংলাদেশ গড়ার দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছি।” তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত এই সরকার তার ওপর অর্পিত তিনটি প্রধান দায়িত্ব— হত্যাকাণ্ডের বিচার, কাঠামোগত সংস্কার, এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন— সফলভাবে এগিয়ে নিচ্ছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চূড়ান্ত পর্যায়ে
ড. ইউনুস বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাদের প্রথম রায় শীঘ্রই ঘোষণা করতে যাচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, বিভিন্ন আদালতে গুম ও রাষ্ট্রীয় দমননীতির শিকারদের মামলা শুরু হয়েছে— যা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম।
ঐতিহাসিক “জুলাই সনদ” বাস্তবায়ন আদেশ অনুমোদিত
প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা দেন যে, আজকের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় “জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫” অনুমোদিত হয়েছে।
এই আদেশের মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক সংস্কারকে সাংবিধানিক রূপ দেওয়া হচ্ছে।
ড. ইউনুস বলেন, “ঐকমত্য কমিশনের প্রণীত জুলাই সনদে সংবিধান সংস্কারের ৩০টি প্রস্তাবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে— এটি আমাদের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক অনন্য অর্জন।”
ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে
প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা করেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এবং একই দিনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ওপর গণভোট নেওয়া হবে।
গণভোটে চারটি মূল প্রশ্ন থাকবে, যার মধ্যে রয়েছে—
১️⃣ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন,
২️⃣ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা চালু,
৩️⃣ নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি,
৪️⃣ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকারের বিকেন্দ্রীকরণ।
ড. ইউনুস বলেন, “গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট多数 হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মাধ্যমেই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে এবং ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা হবে।”
সংস্কার ও প্রশাসনিক সাফল্য
ড. ইউনুস জানান, গত ১৫ মাসে অন্তর্বর্তী সরকার বিচার বিভাগ, আর্থিক খাত, ও প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছে।
“লুটপাটে ধ্বংস হওয়া ব্যাংকিং খাত এখন ঘুরে দাঁড়িয়েছে,” বলেন তিনি।
এফডিআই (Foreign Direct Investment) বৃদ্ধি পেয়ে ১৯.১৩%-এ পৌঁছেছে — যা বৈশ্বিক প্রবণতার বিপরীতে এক আশাব্যঞ্জক সাফল্য।
তিনি আরও ঘোষণা দেন, আগামী সপ্তাহে ডেনমার্কের মায়ার্স্ক গ্রুপের এপিএম টার্মিনালস ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে চুক্তি স্বাক্ষর করবে — “যা ইউরোপের এককভাবে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিনিয়োগ।”
“ভিন্নমত নয়, ঐক্য দরকার”
জাতির উদ্দেশে ড. ইউনুস বলেন,
“২০২৪ সালের জুলাইয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যে ঐক্য দেশবাসী গড়ে তুলেছিল, আমরা যেন ভিন্নমতের কারণে সেই মর্যাদা নষ্ট না করি। ১৩৩ শিশু, শত শত তরুণ-তরুণীর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন গণতন্ত্রের মর্যাদা আমাদের রক্ষা করতে হবে।”
তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বান জানান, দলীয় স্বার্থ অতিক্রম করে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার, যাতে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন “উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক” হয়।
“নতুন বাংলাদেশে প্রবেশের সময় এসেছে”
ভাষণের শেষাংশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন,
“আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছি। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন, আমাদের জাতির আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হোক।”