মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জেতাতে চার অঙ্গরাজ্যে প্রচারে যাচ্ছেন ট্রাম্প
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ওহাইও, আলাস্কা, অ্যারিজোনা ও মন্টানায় প্রচারে যাচ্ছেন ট্রাম্প। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে রিপাবলিকানদের ভোট বাড়ানোই তাঁর লক্ষ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিজ দলের প্রার্থীদের সমর্থন বাড়াতে নির্বাচনী প্রচার জোরদার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ কয়েকটি আসনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি ওহাইও, আলাস্কা, অ্যারিজোনা ও মন্টানায় প্রচার কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। এসব অঙ্গরাজ্যের কয়েকটিতে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী লড়াই সামনে থাকায় ট্রাম্পের সফরকে রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রয়টার্সের ১২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের প্রচারসূচি আরও ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে দলটি কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচনে আসন হারালে আইন প্রণয়ন ও সরকারের নীতিগত কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রেসিডেন্টের জন্য রাজনৈতিক বাধা বাড়তে পারে।
ট্রাম্পের কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ওহাইও অঙ্গরাজ্য। সেখানে রিপাবলিকান সিনেটর জন হুস্টেডের পক্ষে প্রচারে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। হুস্টেডের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট নেতা শেরড ব্রাউন। এই লড়াইকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ আসনটি ধরে রাখতে রিপাবলিকানদের ভোটারদের সক্রিয় করা এবং সমর্থন ধরে রাখা প্রয়োজন। ট্রাম্পের উপস্থিতি দলের সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচারে উৎসাহিত করতে পারে বলে রিপাবলিকান শিবির আশা করছে।
ওহাইওতে ট্রাম্পের প্রচারের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিস্থিতির কারণে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অঙ্গরাজ্যটিতে ট্রাম্প জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু আগের নির্বাচনে কোনো প্রার্থী জয়ী হওয়া মানেই পরবর্তী নির্বাচনে একই ফল নিশ্চিত নয়। স্থানীয় প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ভোটারদের অসন্তোষ এবং নির্বাচনী প্রচারের কার্যকারিতা—সবকিছুই ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে রিপাবলিকানদের জন্য পরিচিত সমর্থনভিত্তি ধরে রাখার পাশাপাশি দোদুল্যমান ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্পের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য আলাস্কা। সেখানে রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের পক্ষে প্রচারে অংশ নেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট নেতা মেরি পেলটোলা। আলাস্কাতেও সিনেটের আসনটি ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশের মাধ্যমে রিপাবলিকানরা নিজেদের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসতে চাইছে। তবে প্রচারে প্রেসিডেন্টের অংশগ্রহণ একাই কোনো প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করে না; স্থানীয় ভোটারদের মনোভাব ও নির্বাচনী প্রচারের ফলও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
ওহাইও ও আলাস্কার পাশাপাশি সপ্তাহের পরবর্তী অংশে অ্যারিজোনা ও মন্টানায় যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে ট্রাম্পের। এই সফরগুলোর উদ্দেশ্য শুধু জনসভায় অংশ নেওয়া নয়, বরং রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারকে আরও দৃশ্যমান করা এবং ভোটারদের মধ্যে দলের প্রতি সমর্থন সক্রিয় রাখা। বিশেষ করে যেসব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কঠিন হয়ে উঠেছে, সেখানে প্রেসিডেন্টের উপস্থিতি প্রার্থীদের প্রচারে অতিরিক্ত মনোযোগ তৈরি করতে পারে।
ট্রাম্পের প্রচারকৌশলের পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভোটার উপস্থিতি। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তুলনায় ভোটদানের ধরন ভিন্ন হতে পারে। তাই নিজ দলের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসা উভয় দলের জন্যই বড় কাজ। রিপাবলিকান শিবির ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ও সমাবেশের প্রভাব কাজে লাগিয়ে সমর্থকদের সক্রিয় করতে চাইছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিজেদের ভোটারদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছে।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও নির্বাচনী আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জ্বালানির দাম, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারের নীতির প্রতি মানুষের মনোভাব ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্পের প্রশাসনের নীতি নিয়ে সমর্থক ও সমালোচকদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। রিপাবলিকানদের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো, প্রেসিডেন্টের সমর্থকদের উৎসাহ ধরে রাখার পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে উদ্বিগ্ন ভোটারদের কাছেও নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরা।
তবে ট্রাম্পের সফরকে কেন্দ্র করে বিরোধী পক্ষের রাজনৈতিক তৎপরতাও বাড়তে পারে। প্রেসিডেন্ট যেখানে প্রচারে যান, সেখানে তাঁর সমর্থকদের পাশাপাশি সমালোচকেরাও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পান। ফলে জনসভা নির্বাচনী প্রচারকে আরও আলোচনায় আনলেও তার প্রভাব ইতিবাচক হবে নাকি নেতিবাচক, তা আগে থেকে নিশ্চিত করে বলা যায় না। কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রেসিডেন্টের প্রচার কতটা কার্যকর হবে, সেটি শেষ পর্যন্ত ভোটারদের প্রতিক্রিয়া ও নির্বাচনের ফলের ওপর নির্ভর করবে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। রিপাবলিকানরা কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারলে ট্রাম্পের প্রশাসন আইন প্রণয়ন ও নীতিগত উদ্যোগে তুলনামূলক সুবিধা পেতে পারে। বিপরীতে ডেমোক্র্যাটরা উল্লেখযোগ্য আসন অর্জন করলে কংগ্রেসে প্রশাসনের পরিকল্পনা নিয়ে আরও কঠোর নজরদারি ও বিরোধিতার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
ওহাইও, আলাস্কা, অ্যারিজোনা ও মন্টানায় ট্রাম্পের নির্বাচনী সফর রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রচারপর্ব। এই সফরের মাধ্যমে দলটি সমর্থকদের সক্রিয় করতে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চাইছে। তবে নির্বাচনের ফল এখনো অনিশ্চিত। প্রচার, ভোটারদের মনোভাব এবং নির্বাচনের দিন ভোটদানের হার—এসব বিষয়ই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে কি না।





