ইউনূস-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়ছে: তবে, “বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা নেই”
ইউনূস ও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন এবং বই-সংক্রান্ত বিতর্ক কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। তবে দুই দেশের প্রাক্তন ও বর্তমান নেতৃত্বের বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সংঘাতের কোনো প্রমাণ নেই। পরিস্থিতি এখন পর্যবেক্ষণ এবং সংলাপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে, যাতে প্রতিবেশী সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
ইউনূস-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়ছে: তবে, “বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা নেই”
ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে, তবে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের কোনো লক্ষণ নেই। সম্প্রতি ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে কিছু মন্তব্য করলেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ায় কম দেখিয়েছেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন।
রাজনাথ সিং শুক্রবার (৭ নভেম্বর) ভারতের সংবাদমাধ্যম নেটওয়ার্ক ১৮-এর শীর্ষ সম্পাদক রাহুল জোশিকে এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে উত্তেজনা চাই না। তবে ড. মুহম্মদ ইউনূসের উচিত হবে নিজের বিবৃতির শব্দচয়ন নিয়ে সতর্ক থাকা।” এছাড়া তিনি যোগ করেছেন, “ভারত যে কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম; কিন্তু আমাদের মূল লক্ষ্য প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।”
বাংলাদেশের দিক থেকে প্রতিক্রিয়া এসেছে পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের মুখে। তিনি জানিয়েছেন, “আমি উদ্বিগ্ন হওয়ার চেয়ে বেশি বিস্মিত। আমি বুঝতে পারছি না, কেন তিনি (রাজনাথ সিং) এমন মন্তব্য করেছেন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সংঘাতের কোনো আশঙ্কা আমি দেখছি না। তবে আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব।”
রাজনাথ সিংয়ের মন্তব্য এবং বাংলাদেশের কূটনৈতিক পদক্ষেপের মধ্যে সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের পেছনে রয়েছে বেশ কিছু ঘটনা। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর গঠিত বাংলাদেশি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সম্পর্ক শুরু থেকেই টানাপোড়েনপূর্ণ। সম্প্রতি ঢাকায় পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও তুরস্কের পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ইউনূসের সৌজন্য বৈঠক এই উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
একই সঙ্গে, ইউনূস তাদের হাতে ‘আর্ট অব ট্রায়াম্ফ’ নামের একটি বই উপহার দিয়েছেন, যা ২০২৪ সালের আন্দোলনের ছবিসংকলন ও গ্রাফিতির সংকলন। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮ দাবি করেছে, বইটিতে ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ মানচিত্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় আসাম রাজ্যকে বাংলাদেশের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি সংবেদনশীল বিষয়, যা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনকে তীব্র করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনাথ সিংয়ের মন্তব্য মূলত ভারতীয় জনগণ এবং সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে হলেও তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে ঢাকা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে পৌঁছেছে। আর এ কারণে বাংলাদেশের দিক থেকে সাবধানতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করান, বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদিভাবে সুদৃঢ় এবং ঐতিহাসিকভাবে সহযোগিতামূলক। তাই সাম্প্রতিক টানাপোড়েনকে সরাসরি সংঘাতের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। দুই দেশের কূটনীতিকরা এখনও মূলত সংলাপ ও পর্যবেক্ষণ ভিত্তিক পদক্ষেপ নিয়েই পরিস্থিতি সামলাচ্ছেন।