শ্রীনগরে একই স্থানে পরপর দুই দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ভোররাতে একই স্থানে অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শ্রীনগরে একই স্থানে পরপর দুই দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনে একই স্থানে অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর দুটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে মো. আসলাম হোসেন নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। দ্বিতীয় দুর্ঘটনায় মো. নজরুল ইসলাম নামের এক বাসযাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ভোররাতে উপজেলার ষোলঘর ভূইচিত্র এলাকায় এ দুর্ঘটনা দুটি ঘটে বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে। ঢাকামুখী লেনে একটি মোটরসাইকেল যাওয়ার সময় পেছন থেকে অজ্ঞাতপরিচয় একটি গাড়ি সেটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার পর মোটরসাইকেল আরোহী আসলাম হোসেন সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর বয়স ৪০ বছর এবং ঢাকার শাহবাগ এলাকার বাসিন্দা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রথম দুর্ঘটনার পরপরই একই সড়কে ঘটে দ্বিতীয় দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনাস্থলের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় যাত্রীবাহী লিটন ট্রাভেলসের চালক সড়কে পড়ে থাকা দুর্ঘটনার পরিস্থিতি দেখে গতি কমিয়ে ব্রেক করেন। ঠিক তখনই পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা আব্দুল্লাহ পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লিটন ট্রাভেলসকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে লিটন ট্রাভেলসের এক যাত্রী আহত হন।
আহত যাত্রীর নাম মো. নজরুল ইসলাম। তাঁর বয়স ৪৭ বছর এবং বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নিহত মোটরসাইকেল আরোহীর মরদেহ উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট মহাসড়ক পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। আহত ব্যক্তিকেও উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
উদ্ধারকাজের সময় নিহত আসলাম হোসেনের পকেট থেকে ১৮ হাজার টাকা পাওয়া যায়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ওই টাকা সংশ্লিষ্ট মহাসড়ক পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুটি দুর্ঘটনার মধ্যে প্রথমটির ক্ষেত্রে যে গাড়িটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিয়েছে, সেটির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ওই গাড়িটি শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার সঠিক কারণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফলে অতিরিক্ত গতি, অসতর্কতা কিংবা অন্য কোনো কারণকে এখনই দুর্ঘটনার নিশ্চিত কারণ হিসেবে উল্লেখ করা ঠিক হবে না।
তবে দ্বিতীয় দুর্ঘটনার বর্ণনা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, প্রথম দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কের ওই অংশে হঠাৎ পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছিল। সামনে থাকা একটি যান দুর্ঘটনা দেখে গতি কমানোর পর পেছন থেকে আসা বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দেয়। মহাসড়কে এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং সামনের যানবাহনের গতির পরিবর্তনের বিষয়ে সতর্ক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নির্দিষ্ট কোনো চালককে দায়ী করা সমীচীন নয়।
প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো যাচাই করে দেখা গেছে, মূল ঘটনার বিষয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রায় একই তথ্য পাওয়া যাচ্ছে স্থানটি মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর ভূইচিত্র এলাকা, দুর্ঘটনা দুটি একই ঢাকামুখী লেনে অল্প সময়ের ব্যবধানে ঘটে, একজন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন এবং দ্বিতীয় ঘটনায় একজন বাসযাত্রী আহত হন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তার বক্তব্যও একাধিক প্রতিবেদনে একইভাবে উদ্ধৃত হয়েছে।
তবে নিহতের বয়স ও দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট সময় নিয়ে কিছু প্রতিবেদনে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। বেশির ভাগ প্রতিবেদনে আসলাম হোসেনের বয়স ৪০ বছর এবং সময় রাত সাড়ে ৩টার কাছাকাছি বলা হলেও কোনো কোনো প্রতিবেদনে বয়স ৩৬ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। তাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য হিসেবে নাম, ঘটনাস্থল, দুটি দুর্ঘটনা, একজন নিহত ও একজন আহত হওয়ার বিষয়টিই নিশ্চিতভাবে তুলে ধরা নিরাপদ।
এদিকে একই স্থানে অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি দুর্ঘটনা ঘটায় কিছু সময়ের জন্য ওই এলাকায় যান চলাচলে সতর্কতা তৈরি হয়। উদ্ধারকারী দল দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন ও আহত ব্যক্তিকে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার কাজ করে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে।
এই ঘটনা আবারও ব্যস্ত মহাসড়কে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, রাতের বেলায় সতর্কভাবে যান চালানো এবং দুর্ঘটনার পর সড়কে হঠাৎ গতি কমানো যানবাহনের বিষয়ে পেছনের চালকদের বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। বিশেষ করে কোনো দুর্ঘটনা চোখে পড়লে চালকদের হঠাৎ ব্রেক না করে পরিস্থিতি বুঝে নিরাপদ দূরত্ব রেখে গতি কমানো এবং পেছনের যানবাহনকে সতর্ক করার ব্যবস্থা করা গুরুত্বপূর্ণ।