নাগরিকের অধিকার বোঝে না জামায়াত, তাই প্রতিষ্ঠার পর এবারই প্রথম বিরোধীদল

নাগরিকের অধিকার বোঝে না জামায়াত, তাই প্রতিষ্ঠার পর এবারই প্রথম বিরোধীদল হয়েছে: রাজনৈতিক বক্তব্যে তীব্র সমালোচনা উঠেছে।

নাগরিকের অধিকার বোঝে না জামায়াত, তাই প্রতিষ্ঠার পর এবারই প্রথম বিরোধীদল

নাগরিকের অধিকার বোঝে না জামায়াত, তাই প্রতিষ্ঠার পর এবারই প্রথম বিরোধীদল


বাংলাদেশের রাজনীতিতে ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করেছে। নির্বাচনে বাংলাদেশজামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয় পেয়ে জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। দলটির আমিরডা. শফিকুর রহমানকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদতাহেরকে বিরোধীদলীয় উপনেতা করা হয়েছে।


১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে বিএনপি ২১০টি আসন নিয়ে সরকার গঠন করে। অন্যদিকেজামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন পেয়ে সংসদের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়। আন্তর্জাতিক পার্লামেন্টারিইউনিয়নের তথ্যেও বিএনপির ২১০ এবং জামায়াতের ৬৮টি আসনের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের হিসাবে জামায়াত জাতীয়ভাবে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে, যা দলটির জন্যও একটিউল্লেখযোগ্য নির্বাচনী ফল। বিএনপি পেয়েছে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট।


জামায়াতের জন্য এবারের ফলাফল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার আরেকটি কারণ হলো আসনসংখ্যা। বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৯১, জুন ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের চারটি নির্বাচনে দলটি মোট ৪০টি আসনে জয় পেয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালেরনির্বাচনেই দলটি ৬৮টি আসন অর্জন করেছে, যা আগের ওই চার নির্বাচনের সম্মিলিত আসনসংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

এবার জামায়াত ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি আসনেও জয় পেয়েছে।নির্বাচনী তথ্য বিশ্লেষণ করে দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, জামায়াতের ৬৮টি বিজয়ের মধ্যে ২৬টি আসন ছিল বিএনপি ওআওয়ামী লীগের ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী এলাকাগুলোতে। এর মধ্যে ১৪টি বিএনপির এবং ১২টি আওয়ামী লীগের শক্তঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত আসন ছিল।

নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। একই দিনে ১১ দলীয় জোটের বৈঠকেশফিকুর রহমানকে বিরোধীদলীয় নেতা এবং সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে বিরোধীদলীয় উপনেতা মনোনীত করাহয়। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে করা হয় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ।


এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন কোনো দল নয় এবং অতীতেওদলটির সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব ছিল। তাই “জন্মের পর প্রথমবার সংসদে” বলা সঠিক হবে না। বরং নির্ভুল তথ্য হলো, ২০২৬সালের নির্বাচনের পর জামায়াত প্রথমবার জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে অবস্থান তৈরি করেছে। দক্ষিণএশিয়ার রাজনীতি নিয়ে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান স্টাডিজও জামায়াতের এইউত্থানকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিশ্লেষণ করেছে।


এই পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির পুরোনো আওয়ামী লীগ-বিএনপি কেন্দ্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশিনতুন একটি রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এখন সংসদে সরকারের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে জামায়াতের ভূমিকাগুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আইন প্রণয়ন, সরকারের নীতি নিয়ে প্রশ্ন, সংসদীয় বিতর্ক, বাজেট এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সিদ্ধান্তেরবিষয়ে বিরোধী দলের অবস্থান আগামী দিনের সংসদীয় রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পাবে।


তবে বিরোধী দলের সাংবিধানিক ও সংসদীয় দায়িত্ব শুধু সরকারের সমালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সংসদে কার্যকরবিরোধী দলের ভূমিকার মধ্যে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, নাগরিকের অধিকার ও স্বার্থ নিয়ে আলোচনা করা, আইনও নীতির ওপর গঠনমূলক মতামত দেওয়া এবং জনগণের নির্বাচনী ম্যান্ডেটকে সংসদে তুলে ধরাও অন্তর্ভুক্ত।


২০২৬ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে জামায়াত যে নতুন সংসদীয় অবস্থান পেয়েছে, সেটি দলটির জন্য যেমন ঐতিহাসিকপরিবর্তন, তেমনি বাংলাদেশের বহুদলীয় সংসদীয় রাজনীতির জন্যও একটি নতুন বাস্তবতা। এখন এই বিরোধী দলেরকার্যক্রম, সংসদে তাদের অবস্থান এবং নাগরিক অধিকার ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন বিষয়ে তাদের ভূমিকা ভবিষ্যৎরাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর