পুলিশ বাসের চাবি নিয়ে পালালেন নারী, আটক বিক্ষোভকারীদের বাস ঠেলতে হলো পুলিশকে
দিল্লির যন্তর মন্তরে আটক বিক্ষোভকারীদের বহনকারী বাসের চাবি নিয়ে এক নারী পালিয়ে গেলে সেটি সরাতে পুলিশ সদস্যদের ঠেলতে হয়।
পুলিশ বাসের চাবি নিয়ে পালালেন নারী, আটক বিক্ষোভকারীদের বাস ঠেলতে হলো পুলিশকে
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের একটি বাসের চাবি এক নারী নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আটক বিক্ষোভকারীদের বহন করার প্রস্তুতি নেওয়া ওই বাসটি চাবি না থাকায় আর চালানো সম্ভব হয়নি। পরে পুলিশ সদস্যদের বাসটি ঠেলে সরিয়ে নিতে দেখা যায়। ঘটনাটি ঘটেছে ৪ অক্টোবর, যন্তর মন্তর এলাকায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা বিক্ষোভের মধ্যে। একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ঘটনাটির কথা জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেদিন দিল্লির যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছিল। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করে এবং বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড বসানো হয়। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করলে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে। আটক ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য পুলিশ বাস ব্যবহার করা হচ্ছিল।
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ঘটে আলোচিত ঘটনাটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আটক বিক্ষোভকারীদের নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল একটি পুলিশ বাস। সেই সময় এক নারী বাসটির কাছে এগিয়ে যান এবং চালকের কাছ থেকে চাবি নিয়ে দ্রুত সরে যান। পরে তিনি ভিড়ের মধ্যে চলে যান বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চাবি না থাকায় বাসটি স্বাভাবিকভাবে চালানো সম্ভব হয়নি।
এরপরের আরেকটি দৃশ্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে পুলিশ সদস্যদের বাসটি ঠেলে সরানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়। চাবি ছাড়া বাসের ইঞ্জিন চালু করা সম্ভব না হওয়ায় সেটিকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিতে এভাবেই চেষ্টা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ঘটনাটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
তবে এই ঘটনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে। অর্থাৎ ভিডিওতে যে দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, সেটি ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন করলেও ভিডিওটির উৎস ও সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তাই ঘটনাটিকে সরাসরি প্রমাণিত ‘চুরি’ হিসেবে উল্লেখ না করে, ‘অভিযোগ অনুযায়ী চাবি নিয়ে পালানো’ বা ‘ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এমন দৃশ্য দেখা গেছে’ এ ধরনের সতর্ক ভাষা ব্যবহার করাই তথ্যনির্ভর।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে ওই নারীর পরিচয়ও নিশ্চিত করা হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট মামলা করা হয়েছে কি না, তাঁকে আটক করা হয়েছে কি না কিংবা পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবি যাচাই ছাড়া প্রতিবেদনে যুক্ত করা ঠিক হবে না।
ঘটনাটি যে বিক্ষোভের মধ্যে ঘটেছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। দিল্লিতে কয়েক দিন ধরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, ছাত্র ও নাগরিক সংগঠনের কর্মসূচি চলছিল। বিক্ষোভকারীরা ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। নির্বাচন কমিশন অবশ্য অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্যোগকে নির্বাচনী তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।
৪ অক্টোবরের বিক্ষোভে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই দিনের বিক্ষোভে প্রায় ১১০ জনকে আটক করা হয় এবং প্রায় ১৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে পুলিশের আচরণ নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। পরবর্তী দিনগুলোতে বিষয়টি আরও বিস্তৃত আকার নেয় এবং দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও আটক অভিযান অব্যাহত থাকে।
৬ অক্টোবরও দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত ছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ চলাকালে বিরোধী দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকেও পুলিশ আটক করে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বাসের চাবি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি বিক্ষোভের একটি ব্যতিক্রমী দৃশ্য হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। কেউ এটিকে আটক বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অভিনব কৌশল হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ পুলিশের যানবাহনের চলাচলে বাধা দেওয়ার আইনগত দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তবে ওই নারীর উদ্দেশ্য কী ছিল, তিনি কেন চাবি নিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে কী ঘটেছিল এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য না থাকায় অনুমানের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।