ট্রাম্পের নতুন ঘোষণায় বিশ মিলিয়ন বয়স্কের জন্য নব্বই ডলারের সহায়তা
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ মিলিয়নের বেশি বয়স্ক নাগরিক চিকিৎসা বিমার মাসিক ব্যয় মেটাতে এককালীন নব্বই ডলারের সহায়তা পেতে যাচ্ছেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের নতুন ঘোষণায় বিশ মিলিয়ন বয়স্কের জন্য নব্বই ডলারের সহায়তা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির বিশ মিলিয়নের বেশি বয়স্ক নাগরিককে চিকিৎসা বিমার মাসিক খরচ মেটাতে এককালীন অর্থ সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবিতে প্রায় একশ ডলারের কথা বলা হলেও সরকারি নথি অনুযায়ী প্রকৃত অর্থের পরিমাণ নব্বই ডলার। এই অর্থ চিকিৎসা বিমার নির্দিষ্ট অংশের মাসিক চাঁদা পরিশোধে সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে। সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, অক্টোবরের শুরুতেই অধিকাংশ যোগ্য ব্যক্তির কাছে অর্থ পৌঁছানোর কথা।
ট্রাম্পের ঘোষণাটি আসে মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে। এর পাশাপাশি তিনি রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই জয় ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে পাঁচ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ফলে একই সময়ে বয়স্কদের জন্য বাস্তবায়নাধীন নব্বই ডলারের সহায়তা এবং ভবিষ্যৎ পাঁচ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি—দুটি বিষয়ই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
তথ্য যাচাই করে দেখা যাচ্ছে, বয়স্কদের জন্য অর্থ দেওয়ার ঘোষণাটি সত্য। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন প্রয়োজন। ট্রাম্পের বক্তব্যে প্রায় একশ ডলারের কথা বলা হলেও হোয়াইট হাউসের সরকারি তথ্যপত্রে স্পষ্টভাবে নব্বই ডলার এককালীন অর্থ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই অর্থ পাওয়ার জন্য আলাদা করে আবেদন করার প্রয়োজন হবে না বলে সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়েছে। অধিকাংশ যোগ্য ব্যক্তি সরাসরি নিজেদের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাবেন। যাদের সরাসরি অর্থ গ্রহণের ব্যবস্থা নেই, তাদের ঠিকানায় ডাকযোগে চেক পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।
এই অর্থের উৎস নিয়েও সরকারি ব্যাখ্যা রয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, অর্থ দেওয়া হবে চিকিৎসা বিমা উন্নয়ন তহবিল থেকে। কংগ্রেস এই তহবিলে দুই বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছিল। প্রশাসনের দাবি, বয়স্কদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে এই তহবিল ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ট্রাম্প এই তহবিলকে রাজনৈতিক বক্তব্যে অব্যবহৃত অর্থের ভাণ্ডার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সরকারি নথি অনুযায়ী, তহবিলটি চিকিৎসা বিমা ব্যবস্থার উন্নতির উদ্দেশ্যেই তৈরি হয়েছিল।
২০২৬ সালে চিকিৎসা বিমার খণ্ড-বি অংশের সাধারণ মাসিক চাঁদা দুইশ দুই ডলার নব্বই সেন্ট নির্ধারিত হয়েছে। ফলে নব্বই ডলারের এককালীন অর্থ একজন যোগ্য ব্যক্তির পুরো মাসিক চাঁদা পরিশোধ করে দেওয়ার সমান নয়; বরং এটি ওই ব্যয়ের একটি অংশ সাময়িকভাবে কমাবে। উচ্চ আয়ের কারণে অতিরিক্ত চাঁদা প্রদানকারী এবং যাদের চাঁদা ইতোমধ্যে অন্য সরকারি সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়, তারা এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য নাও হতে পারেন।
এদিকে পাঁচ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতিটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। ট্রাম্প প্রথমবার সেপ্টেম্বরের শুরুতে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনী সমাবেশে এই অর্থ দেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে পাঁচ হাজার ডলারের অর্থ দেওয়া হবে। অর্থাৎ এটি এখনো কার্যকর হওয়া কোনো সরকারি সুবিধা নয়; এটি একটি রাজনৈতিক ও নীতিগত প্রতিশ্রুতি।
তথ্য যাচাইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পাঁচ হাজার ডলারের অর্থ এখনই দেওয়ার কোনো সরকারি কর্মসূচি চালু হয়নি। এই অর্থ বাস্তবে দিতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। ফলে শুধু প্রেসিডেন্টের ঘোষণা দিয়েই এক বছরের মধ্যে প্রায় এক হাজার দুইশ বিলিয়ন ডলারের মতো বিশাল অর্থ জনগণের মধ্যে বিতরণ করা সহজ নয়। অর্থনীতিবিদ ও সরকারি ব্যয় বিশ্লেষকেরা এই প্রতিশ্রুতির অর্থের উৎস, জাতীয় ঋণ এবং মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, পাঁচ হাজার ডলার করে প্রায় ২৪ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে অর্থ দেওয়া হলে মোট ব্যয় প্রায় এক হাজার দুইশ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ট্রাম্প এই অর্থের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে শুল্ক থেকে পাওয়া রাজস্বের কথা বলেছেন। কিন্তু বিশ্লেষকেরা বলছেন, ওই পরিমাণ অর্থ দিয়ে এত বড় কর্মসূচি সহজে অর্থায়ন করা যাবে কি না, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে শুল্কসংক্রান্ত আয়, সরকারি ঋণ এবং ভবিষ্যৎ বাজেটের ওপর এর প্রভাব নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
এ কারণে দুটি ঘোষণাকে একই ধরনের সরকারি সহায়তা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বিশ মিলিয়নের বেশি বয়স্কের জন্য নব্বই ডলারের অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি প্রশাসনিক কাঠামো, অর্থের উৎস ও যোগ্যতার বিষয়ে সরকারি নথি প্রকাশিত হয়েছে। অন্যদিকে পাঁচ হাজার ডলারের অর্থ এখনো ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, যার বাস্তবায়নের জন্য আইনগত ও অর্থনৈতিক বাধা রয়েছে।
রাজনৈতিক দিক থেকেও ঘোষণাগুলো গুরুত্বপূর্ণ। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। ট্রাম্প বর্তমানে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে দেশজুড়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং অর্থনৈতিক চাপ, চিকিৎসা ব্যয় ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বিষয়কে প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ করছেন।
ফ্যাক্ট যাচাইয়ের রায় হলো বিশ মিলিয়নের বেশি বয়স্ক নাগরিককে অর্থ দেওয়ার ঘোষণা সত্য, তবে প্রচারিত প্রায় একশ ডলারের বদলে সরকারি নথিতে নির্ধারিত অর্থ নব্বই ডলার। অন্যদিকে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে পাঁচ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও সত্য, কিন্তু এটি এখনো বাস্তবায়িত সরকারি কর্মসূচি নয়। রিপাবলিকানরা নির্বাচনে জয়ী হলেও অর্থ বিতরণের আগে প্রয়োজনীয় আইনগত অনুমোদন, অর্থের উৎস এবং বাস্তবায়ন কাঠামো নির্ধারণ করতে হবে। তাই পাঁচ হাজার ডলারের অর্থকে নিশ্চিত বা তাৎক্ষণিক সরকারি পাওনা হিসেবে উপস্থাপন করা তথ্যগতভাবে সঠিক হবে না।