সেনা সদস্যদের অর্ধেক মাঠ থেকে প্রত্যাহার: বিশ্রাম-প্রশিক্ষণ নাকি নির্বাচন বানচালের সূচনা?

সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী এটি সাময়িক ব্যবস্থাপনা—তবে রাজনৈতিক মোড়কে এটি নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে: এ সিদ্ধান্ত কি বাস্তবিক নিরাপত্তা ও প্রশিক্ষণ-সংক্রান্ত, নাকি কোনো রাজনৈতিক কৌশলের অংশ? বর্তমান পরিস্থিতিতে মাঠে সেনা-নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের কার্যকারিতা এবং nadir ঘটনার পর পরিস্থিতি কেমন থাকবে—এসবই আগামী দিনগুলোতে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

PostImage

সেনা সদস্যদের অর্ধেক মাঠ থেকে প্রত্যাহার: বিশ্রাম-প্রশিক্ষণ নাকি নির্বাচন বানচালের সূচনা?


ঢাকা, (সংক্ষিপ্ত) — দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রায় ৫০ শতাংশ সদস্যকে সাময়িকভাবে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (সচিবালয়ে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়; সূত্র বলছে, সিদ্ধান্তটি বুধবার থেকে কার্যকর করা হবে। 

কোর কমিটির বক্তব্য অনুযায়ী, মাঠে মোতায়েন থাকা সেনাসদস্যদের বিশ্রাম ও ‘নির্বাচনকালীন (প্রস্তুতিমূলক) প্রশিক্ষণ’ দেওয়া হবে; প্রশিক্ষণ শেষে পর্যায়ক্রমে তাদের আবার মাঠে পাঠানো হবে এবং অন্যদের পরিবর্তে ফিরিয়ে আনা হবে। বৈঠকে উপস্থিত সরকারের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা এ তথ্য দৈনিক প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। 


সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য দুইটি — একদিকে মোতায়েন সদস্যদের বিশ্রাম ও নির্বাচনী প্রস্তুতি, অন্যদিকে মাঠে কন্ট্রোল-পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা: সেনা কমানের অনুরোধে মোতায়েনের ৫০ শতাংশ ভৌতভাবে প্রত্যাহার করে স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা কতটা কার্যকর, তা পর্যালোচনা করা হবে। ব্রিফিং অনুসারে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে; এ মুহূর্তে এটি কেবল অংশিক প্রত্যাহার বলেই ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। 


সরকারবর্হিভাবে উদ্বেগ ও সমালোচনা

তবে এই সিদ্ধান্তকে অনেকে রাজনীতিক উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করছেন। সরকারবিরোধী মহল ও কয়েকজন স্বাধীন বিশ্লেষক বলেন, চলতি নভেম্বর মাসে উদ‍্যোগী কয়েকটি পরিকল্পিত কর্মসূচি (ব্যবসায়িক ও সামাজিক লকডাউন/অভিযান)—বিশেষ করে ১০, ১১, ১২ ও চূড়ান্ত ১৩ নভেম্বরের সম্ভাব্য আন্দোলন—কে কেন্দ্র করে নানা রাজনীতিক পালাবদলের পরিকল্পনা মোতাবেক মাঠকে ‘পরীক্ষামূলকভাবে’ শিথিল করা হচ্ছে; এতে গ্রহণযোগ্য সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে যা পরে নির্বাচনী পরিবেশ প্রভাবিত করতে পারে। সরকারবিরোধীরা এ সিদ্ধান্তকে নির্বাচন বঞ্চনা বা নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল করার কৌশল হিসেবে দেখেন। 


বিশ্লেষকরা আরও বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে সেনাবাহিনীকে মাঠে রাখা উচিত নাকি নয়—এই বিতর্কটি নতুন নয়; কিন্তু হঠাৎ অর্ধেক সদস্য প্রত্যাহারের প্যাটার্ন যদি কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাহলে সেটি জনমত ও নির্বাচনী অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করা হচ্ছে। অনেকে মনে করেন, সেনা মোতায়েনের ধারাবাহিকতা, প্রত্যাহারের সময়কঠিনতা ও স্বচ্ছ সমন্বয়—এসব বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সক্ষমতা যাচাই করা প্রয়োজন।


সেনাবাহিনীর দায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ চার্ট

সামরিক সূত্রে জানানো হয়েছে, গত বছর ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে সশস্ত্র বাহিনীকে (সেনা, নৌ ও বিমান) বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছিল—তাহলে বর্তমানে যে মোতায়েন রয়েছে তারও একটি ইতিহাস আছে। কোর কমিটির সিদ্ধান্ত গ্রহণে এসব কার্যকরী ও নিরাপত্তাগত দিক বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে সরকারি পক্ষের ব্যাখ্যায় বলা হচ্ছে। একইসঙ্গে সেনাদের প্রশিক্ষণ ও বিশ্রামের দাবি সারাক্ষণই আছে—বিশেষত যখন নির্বাচনী কার্যক্রমের প্রস্তুতি চলছে।