কক্সবাজারে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বারোপ, পুনঃপ্রক্রিয়াজাত কারখানা পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

কক্সবাজারে প্লাস্টিক দূষণ রোধে জোর, পুনঃপ্রক্রিয়াজাত কারখানা পরিদর্শন করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।

PostImage

কক্সবাজারে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বারোপ, পুনঃপ্রক্রিয়াজাত কারখানা পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম


কক্সবাজারে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও টেকসই করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। জেলার প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ, পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ও পুনর্ব্যবহারের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।

সম্প্রতি কক্সবাজারে প্লাস্টিক বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা পরিদর্শনকালে তিনি এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মীর শাহে আলম বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন।

কক্সবাজারে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। রামু উপজেলার মিঠাছড়িতে স্থাপিত প্লাস্টিক পুনঃপ্রক্রিয়াজাত কারখানাটি ২০২৫ সালের অক্টোবরে উদ্বোধন করা হয়। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য সংগ্রহ করে তা পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে ব্যবহারযোগ্য পণ্যে রূপান্তর করাই এ কারখানার অন্যতম উদ্দেশ্য।

প্রায় ৫ হাজার ২৮০ বর্গফুট আয়তনের কারখানাটিতে প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২০০ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রয়েছে। বর্জ্য থেকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই সোফা, বেঞ্চ এবং বিভিন্ন ধরনের মজবুত খুঁটি তৈরির ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে।

কারখানাটিতে পরিবেশগত নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এখানে দৈনিক ২ হাজার লিটার তরল বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র এবং ২৪ ঘণ্টার সিসিটিভি নজরদারির ব্যবস্থা রয়েছে।

কক্সবাজার শহরে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়। একটি সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, শহরে প্রতিদিন প্রায় ৩৪ দশমিক ৫ টন প্লাস্টিক বর্জ্য যত্রতত্র ফেলা হয়। এর মধ্যে পলিথিন, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক, পণ্যের মোড়ক, পলিপ্রোপিলিন ও পাতলা প্লাস্টিক অন্যতম।

পর্যটননির্ভর কক্সবাজারে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপস্থিতির কারণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ রয়েছে। ফলে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

মিঠাছড়ির কারখানাটি ‘প্লাস্টিকমুক্ত দক্ষিণ এশিয়ার নদী ও সাগর’ প্রকল্পের আওতায় স্থাপন করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘ প্রকল্প পরিষেবার কার্যালয়ের সহায়তায় দক্ষিণ এশিয়া সমবায়ী পরিবেশ কর্মসূচি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। কক্সবাজার পৌরসভার সহযোগিতায় মাঠপর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে ব্র্যাক।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রহকারী, বর্জ্য বিক্রেতা, কারখানার কর্মী এবং পুনঃপ্রক্রিয়াজাত পণ্য বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নারী বর্জ্য সংগ্রাহকদের অর্থনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জাতীয় পর্যায়েও নতুন নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে সরকার ‘প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্ব’ নির্দেশিকা জারি করেছে। এর আওতায় প্লাস্টিক পণ্যের প্রস্তুতকারক, আমদানিকারক ও ব্র্যান্ড মালিকদের বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃচক্রায়নের দায়িত্বের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নির্দেশিকায় প্রথম দুই বছরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ন্যূনতম ১৫ শতাংশ বর্জ্য সংগ্রহ এবং ৭ দশমিক ৫ শতাংশ পুনঃচক্রায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে এ লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

কক্সবাজারের মতো পর্যটননির্ভর ও উপকূলীয় এলাকায় প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা, জনস্বাস্থ্য ও পর্যটন অর্থনীতি সরাসরি যুক্ত। তাই শুধু বর্জ্য অপসারণ নয়, উৎসস্থলে বর্জ্য পৃথকীকরণ, নিয়মিত সংগ্রহ, পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্যের বাজার তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কক্সবাজারে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হলে উপকূল ও সামুদ্রিক পরিবেশে প্লাস্টিক দূষণের চাপ কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও পুনঃব্যবহারভিত্তিক অর্থনীতির সুযোগও বাড়তে পারে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর