গুলশানে গাড়িচাপায় মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের মাধ্যমে নয় লাখ টাকায় আপস রফাদফা সম্পূর্ণ

গুলশানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের ঘটনায় বাদী ও বিবাদী পক্ষের সম্মতিতেই আদালত প্রাঙ্গণে নয় লাখ টাকার বিনিময়ে চূড়ান্ত আপস নিষ্পত্তি হয়।

PostImage

গুলশানে গাড়িচাপায় মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের মাধ্যমে নয় লাখ টাকায় আপস রফাদফা সম্পূর্ণ


রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে ঘটে যাওয়া এক চাঞ্চল্যকর ও হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে সৃষ্ট আইনি জটিলতার চূড়ান্ত অবসান ঘটেছে আদালতের মধ্যস্থতা ও আপস মীমাংসার মাধ্যমে। এই মর্মান্তিক গাড়িচাপায় মৃত্যুর ঘটনার পর দীর্ঘ আলোচনা, বিভিন্ন পর্যায় ও প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অবশেষে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি চূড়ান্ত আপসনামা স্বাক্ষরিত হয়, যা দেশের বিচারিক অঙ্গনে ও সর্বসাধারণের মাঝে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।  


প্রাপ্ত তথ্য ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, গুলশানের ব্যস্ততম সড়কে ঘটে যাওয়া সেই ঘাতক গাড়িচাপায় নিহতের পরিবার মারাত্মক শোকে ভেঙে পড়ে এবং ঘটনার পর পরেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। মামলা গড়ায় আদালতের বিচারিক টেবিলে। তবে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের জটিলতা ও পারিবারিক সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে উভয় পক্ষ আপস মীমাংসার পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেয়। মামলার বাদী ও বিবাদী পক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে আদালত চত্বরে এই আপসের রূপরেখা প্রস্তুত করা হয়।  


আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জানা যায়, শুরুতেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার তথা বাদী পক্ষের আইনজীবী ও স্বজনরা অপূরণীয় ক্ষতির সাপেক্ষে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। পরবর্তীতে দুই পক্ষের দীর্ঘ মধ্যস্থতা, অনানুষ্ঠানিক বৈঠক এবং আইনজীবীদের পারস্পরিক আলোচনার পর এই অর্থ পরিমাণের একটি গ্রহণযোগ্য মধ্যমপন্থা নির্ধারিত হয়। উভয় পক্ষ সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে ৯ লাখ টাকা প্রদান করা হবে এবং এর বিনিময়ে এই মামলার আইনি কার্যক্রম নিষ্পত্তি করা হবে।  


আদালত চত্বরে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, আজ বিচারকের সম্মুখে দুই পক্ষ স্বশরীরে বসে আপসনামায় স্বাক্ষর দান করেন। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল যে, বাদী পক্ষ এই আর্থিক ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করে মামলা সংক্রান্ত সকল অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো পক্ষ আর নতুন করে কোনো আইনি দাবি তুলে ধরতে পারবেন না। অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, নির্ধারিত ৯ লাখ টাকার পুরোটাই কোনো ধরনের বিলম্ব ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে নগদ প্রদান করা হয়েছে। সম্পূর্ণ অর্থ নগদে বুঝিয়ে পাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতিনিধি আপসনামায় সই করে দেন।  


সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে অপরাধ ও আপস মীমাংসার বিষয় নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই সাধারণ জনমনে এবং সামাজিক মাধ্যমে নানা মতামত পরিলক্ষিত হচ্ছিল। তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, হত্যা মামলা না হলে এবং অভিযোগকারী নিজেই যদি নির্দিষ্ট শর্তে কিংবা মানবিক বিবেচনায় অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিতে সম্মত হন, তবে বিচারক আপসনামাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে পারেন। তবে সড়ক পরিবহন আইনের বিভিন্ন ধারা নিয়ে এখনো নানা ধরনের পর্যবেক্ষণ ও বিতর্ক বিদ্যমান রয়েছে।


গুলশানের মতো এলাকায় এ জাতীয় দুর্ঘটনার পর সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই আপসের খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও আইনজীবীদের একাংশের মাঝে এই আপসের পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন দীর্ঘমেয়াদী আইনি ভোগান্তির চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা পাওয়া ইতিবাচক, আবার অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন যে আইনগত প্রক্রিয়ায় এ ধরনের অর্থভিত্তিক মীমাংসা দুর্ঘটনার আসল কারণ রোধে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে এই বিষয়টির ফ্যাক্ট চেক করে পরিষ্কার হওয়া গেছে যে, দাবিকৃত ১০ লাখ টাকার বিপরীতে ৯ লাখ টাকায় বাদী এবং বিবাদী পক্ষ সম্পূর্ণ ঐকমত্যে পৌঁছেছেন এবং কোনো বাকির ঝামেলা না রেখে নগদেই সমস্ত অর্থ বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এর ফলে গুলশানের ঘাতক গাড়িচাপায় নিহতের মামলাটি আদালতের খাতায় একটি মীমাংসিত ঘটনা হিসেবে নথিভুক্ত হতে চলেছে। পরিবারটির শোক কখনোই কোনো অর্থের বিনিময়ে পূরণ করা সম্ভব নয়, তবে আইনি জটিলতা নিরসন এবং তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক সহায়তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র থেকে জানানো হয়েছে।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর