বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলন নিয়ে আল জাজিরার তথ্যচিত্র আন্তর্জাতিক এমিতে
জুলাই আন্দোলন ও শেখ হাসিনার শাসনের শেষ অধ্যায় নিয়ে আল জাজিরার তথ্যচিত্র আন্তর্জাতিক এমির কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স বিভাগে মনোনীত।
বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলন নিয়ে আল জাজিরার তথ্যচিত্র আন্তর্জাতিক এমিতে
বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের শেষ সময় নিয়ে আল জাজিরার অনুসন্ধানী তথ্যচিত্র ‘হাসিনা: ৩৬ ডেজ ইন জুলাই’ ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক এমি অ্যাওয়ার্ডসে মনোনয়ন পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক টেলিভিশন অ্যাকাডেমি ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এ বছরের মনোনয়ন ঘোষণা করে। তথ্যচিত্রটি ‘কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স’ বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে এবং আন্তর্জাতিক এমির তালিকায় এটি কাতারের প্রতিনিধিত্ব করছে। এ বিভাগে আল জাজিরার তথ্যচিত্রটির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ফ্রান্সের ‘আর্টে রিপোর্টেজ: মাই ফাদার্স হেয়ার’, যুক্তরাজ্যের ‘এক্সপোজার: ব্রেকিং র্যাঙ্কস: ইনসাইড ইসরায়েলস ওয়ার’ এবং ব্রাজিলের ‘প্রফিসাও রিপোর্টার: ফেমিনিস’।
২০২৪ সালের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অনুসন্ধান
আল জাজিরা ইনভেস্টিগেটিভ ইউনিটের তৈরি তথ্যচিত্রটি ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে বাংলাদেশে ছাত্র নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনার সরকারের শেষ দিনগুলোর ঘটনা অনুসন্ধান করেছে।
আল জাজিরার দাবি অনুযায়ী, তাদের অনুসন্ধানে গোপনে ধারণ করা ফোনালাপ, বিভিন্ন গোপন যোগাযোগ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ব্যবহার করা হয়েছে। তথ্যচিত্রে আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বলপ্রয়োগ, ইন্টারনেট বন্ধ, নিহতদের পরিবারের ওপর চাপ এবং কিছু মৃত্যুর তদন্ত ও ময়নাতদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এগুলো আল জাজিরার অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত দাবি। আল জাজিরার প্রকাশিত প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের একজন মুখপাত্র অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, শেখ হাসিনা ‘প্রাণঘাতী অস্ত্র’ ব্যবহারের নির্দেশ দেননি এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দিষ্টভাবে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অনুমতি দেননি।
গোপন ফোনালাপের দাবি
আল জাজিরা জানিয়েছে, তাদের অনুসন্ধানে পাওয়া কয়েকটি গোপন ফোনালাপ অডিও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কণ্ঠস্বরও যাচাই করা হয়েছে।২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আল জাজিরা দাবি করে, একটি ফোনালাপে শেখ হাসিনাকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়ে কথা বলতে শোনা যায়। এসব বক্তব্যের সত্যতা ও ব্যাখ্যা নিয়ে রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমত রয়েছে। তথ্যচিত্রে রংপুরে আবু সাঈদের মৃত্যুসহ আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনা নিয়েও অনুসন্ধান করা হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে প্রত্যক্ষদর্শী ও চিকিৎসকদের বক্তব্যের পাশাপাশি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন নিয়ে অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আগেও এসেছে
আন্তর্জাতিক এমির মনোনয়নের আগে তথ্যচিত্রটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও স্বীকৃতি পেয়েছে। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিলে ‘হাসিনা: ৩৬ ডেজ ইন জুলাই’ আন্তর্জাতিক বিষয়ে সাংবাদিকতার জন্য ওভারসিজ প্রেস ক্লাব অব আমেরিকার পুরস্কার পায়। আল জাজিরার নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, ওই পুরস্কারে তথ্যচিত্রটির অনুসন্ধানী কাজ এবং গোপনে ধারণ করা ফোনালাপ ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
৬৪টি মনোনয়ন, ২২ দেশের অংশগ্রহণ
২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক এমি অ্যাওয়ার্ডসে ১৬টি বিভাগে মোট ৬৪টি মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এসব মনোনয়ন এসেছে ২২টি দেশ থেকে। আন্তর্জাতিক এমির চূড়ান্ত পুরস্কার অনুষ্ঠান ২৩ নভেম্বর ২০২৬ নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেদিন ‘কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স’ বিভাগে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। হাসিনা: ৩৬ ডেজ ইন জুলাই’ মনোনয়ন পাওয়ার মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট ও ছাত্র আন্দোলন নিয়ে তৈরি একটি অনুসন্ধানী প্রযোজনা আবারও আন্তর্জাতিক টেলিভিশন অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে।