মেধার মূল্যায়নে জিয়াউর রহমানের ধারাবাহিকতা, তারেক রহমানের নতুন দৃষ্টান্ত
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বিশ্বের ১৯৩টি দেশের প্রতিনিধিদের সামনে সভাপতির আসনে বাংলাদেশের ড. খলিলুর রহমান। একজন অভিজ্ঞ কূটনীতিককে আন্তর্জাতিক কূটনীতির এত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়ে আসা বাংলাদেশের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি এটি মেধা ও যোগ্যতাকে মূল্যায়নের একটি আলোচিত উদাহরণ।
মেধার মূল্যায়নে জিয়াউর রহমানের ধারাবাহিকতা, তারেক রহমানের নতুন দৃষ্টান্ত
বাংলাদেশের রাজনীতিতে মেধাবীদের মূল্যায়নের যে ধারা জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে তা নতুন মাত্রা পেয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচিত হওয়া সেই ধারাবাহিকতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের ভোটে গত ২ জুন ড. খলিলুর রহমান ৯৯ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন। সাইপ্রাসের প্রার্থী পান ৯১ ভোট। ৮ সেপ্টেম্বর অধিবেশন শুরু হওয়ার পর ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে মূল সাধারণ বিতর্ক। সেখানে বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধান ও শীর্ষ প্রতিনিধিদের বক্তব্য পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন বাংলাদেশের এই কূটনীতিক।
এই অর্জনের পেছনে ড. খলিলুর রহমানের দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ভূমিকা রয়েছে। নির্বাচনের পর ড. খলিলুর রহমান নিজেও প্রধানমন্ত্রীর সমর্থন ও সাহস জোগানোর কথা উল্লেখ করেছেন।
ড. খলিলুর রহমানকে অনেকেই নতুন করে চিনেছেন সাম্প্রতিক সময়ে। তবে তাঁর অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের। তিনি ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সার্ভিসে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে জাতিসংঘের নিউইয়র্ক ও জেনেভা কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নেন।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারে দায়িত্ব পালনের পর ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি গঠিত নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন ড. খলিলুর রহমান। একই সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে জাতিসংঘের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেন।
জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্র পরিচালনার সময়ও প্রশাসন ও রাজনীতিতে মেধাবীদের যুক্ত করার উদ্যোগ দেখা যায়। তাঁর সরকারে বিভিন্ন পেশা ও অভিজ্ঞতার মানুষ দায়িত্ব পেয়েছিলেন। এর মধ্যে শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী ও প্রশাসনের অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা ছিলেন। মেধা ও যোগ্যতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার কাজে ব্যবহার করার এই ধারণা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান সময়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে ড. খলিলুর রহমানের মতো একজন অভিজ্ঞ কূটনীতিককে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দেওয়া এবং পরে জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রার্থী করা সেই নীতিরই আধুনিক প্রয়োগ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব কেবল একটি দেশের প্রতিনিধিত্ব নয়, বরং বিশ্বের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের আলোচনার সমন্বয় করা। সেই দায়িত্বে বাংলাদেশের একজন কূটনীতিকের অবস্থান দেশের জন্য গর্বের বিষয়। এটি একই সঙ্গে দেখায়, যোগ্য ব্যক্তিকে যথাযথ দায়িত্বে আনার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে।