অন্ধকারের প্রলোভন পেরিয়ে শিক্ষার আলোয় কালকেউটের চার কৃতি সন্তান
অবৈধ ভিওআইপি বাণিজ্যের প্রলোভনে তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা; এর মাঝেই অনুকরণীয় সাফল্যের দৃষ্টান্ত
অন্ধকারের প্রলোভন পেরিয়ে শিক্ষার আলোয় কালকেউটের চার কৃতি সন্তান
জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার মিরগঞ্জ ইউনিয়নের সম্ভাবনাময় তরুণদের একটি অংশকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা ও TextNow-ভিত্তিক নানা কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্রুত অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে কিছু ব্যক্তি তরুণদের এসব কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার চেষ্টা করছেন। অল্প বয়সে সহজে অর্থ আয়ের মোহে পড়ে কেউ কেউ পড়াশোনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে তরুণদের ভবিষ্যৎ, সামাজিক মূল্যবোধ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
তবে এই অন্ধকারের বিপরীতে একই ইউনিয়নের কালকেউট গ্রাম দেখিয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথ। শিক্ষা, মেধা, অধ্যবসায় ও বৈধ পেশাগত সাফল্যের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন গ্রামের চার কৃতি সন্তান।
দ্রুত অর্থ উপার্জনের প্রলোভনকে পাশ কাটিয়ে কালকেউট গ্রামের এসব তরুণ বেছে নিয়েছেন শিক্ষা ও কঠোর পরিশ্রমের পথ। দীর্ঘ প্রস্তুতি, অধ্যবসায় এবং নিজেদের লক্ষ্যে অবিচল থাকার ফল হিসেবে তারা আজ সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে প্রতিষ্ঠিত।
সম্প্রতি তাদের এই সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ কালকেউট গ্রামের গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে এবং সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়েছে।
কালকেউট গ্রামের চার কৃতি সন্তান
কালকেউট গ্রামের এই চার তরুণের মধ্যে জনাব মোস্তফা আহমেদ শান্ত জাজ/জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
ডাঃ সেলিম হোসেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হিসেবে ৪১তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
ডাঃ শেখ মোর্শেদ জাহান মিথি ডেন্টাল সার্জন হিসেবে ৩৯তম বিসিএসে সফলতা অর্জন করেছেন।
অন্যদিকে জনাব হৃদয় হোসেন সমাজসেবা অফিসার হিসেবে সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত হয়ে এলাকার মুখ উজ্জ্বল করেছেন।
প্রলোভনের বিপরীতে সাফল্যের দৃষ্টান্ত
চার তরুণের এই অর্জন শুধু তাদের চার পরিবারের আনন্দের কারণ নয়; এটি পুরো কালকেউট গ্রামের জন্যও গর্বের বিষয়।
বিশেষ করে এমন একটি সময়ে, যখন দ্রুত অর্থ উপার্জনের নানা প্রলোভন তরুণদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে, তখন কালকেউট গ্রামের এই চার তরুণের সাফল্য দেখিয়ে দিচ্ছে—জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য অবৈধ বা শর্টকাট পথের প্রয়োজন নেই।
মেধা, শিক্ষা, সততা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিশ্রমের মাধ্যমেও একজন তরুণ তার পরিবার, গ্রাম এবং পুরো এলাকার জন্য সম্মান বয়ে আনতে পারেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, কালকেউট গ্রামের এই তরুণদের সাফল্য মিরগঞ্জ ইউনিয়নের অন্য তরুণদেরও অনুপ্রাণিত করবে। দ্রুত অর্থের মোহ নয়, বরং শিক্ষা, দক্ষতা ও বৈধ পেশাকে জীবনের মূল ভিত্তি হিসেবে বেছে নেবে নতুন প্রজন্ম।
আশার প্রতীক চার তরুণ
অবৈধ আয়ের প্রলোভন ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথকে পেছনে ফেলে কালকেউট গ্রামের এই চার তরুণ আজ মিরগঞ্জ ইউনিয়নের জন্য হয়ে উঠেছেন অনুপ্রেরণার প্রতীক।
তাদের সাফল্য যেন একটি বার্তাই দেয়—শর্টকাট নয়, শিক্ষা ও পরিশ্রমই পারে একজন তরুণের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে।
কালকেউট গ্রামের এই তারুণ্যের জয়যাত্রা তাই শুধু চারজনের ব্যক্তিগত অর্জনের গল্প নয়; এটি একটি পুরো প্রজন্মকে সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান।