বিএনপির কঠিন সময়ের যোদ্ধারাও এবার বাইরে!
বিএনপির দু:সময়ের হাল ধরা - চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম সহ রুমিন ফারহানা, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী সোহেলরা বাদ পড়েছেন ২০২৬ সালের জাতীয় নিবাচনের বিএনপির প্রাথীর লিস্ট থেকে।
বিএনপির কঠিন সময়ের যোদ্ধারাও এবার বাইরে!
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩৭টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর প্রাথমিক তালিকা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে এই তালিকা ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে দেখা দিয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও চমকের প্রতিক্রিয়া। কারণ, তালিকায় নেই দলের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ও পরিচিত মুখ—যাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।
দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তালিকা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, “এটি একটি প্রাথমিক তালিকা মাত্র। দলের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন, জোট আলোচনা ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনে এই তালিকায় সংশোধন বা সংযোজন হতে পারে।”
🔹 শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি
ঘোষিত তালিকায় নেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও বেগম সেলিমা রহমানের নাম।
তালিকায় স্থান পাননি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী সোহেল এবং সদ্য মনোনীত যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবীরও।
এছাড়া বাদ পড়েছেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আমিনুর রশীদ ইয়াসিন, এবং ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দলের সাংগঠনিক ভারসাম্য ও তরুণ নেতৃত্বকে এগিয়ে আনতেই সম্ভবত এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।
🔹 আলোচনায় থেকেও বাদ রুমিন ফারহানা
একাদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাকেও প্রার্থী তালিকায় রাখা হয়নি।
বিএনপির অন্যতম বাগ্মী ও তরুণ নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত রুমিনের বাদ পড়া অনেকের কাছে অপ্রত্যাশিত।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, “বর্তমান প্রেক্ষাপটে মাঠ পর্যায়ের সংগঠনকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। তাই কিছু জনপ্রিয় নেত্রীকেও আপাতত তালিকায় রাখা হয়নি।”
🔹 ঢাকা অঞ্চলের একাধিক আলোচিত নেতা বাদ
ঢাকা-১০ আসনে অতীতে প্রার্থী হওয়া আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন অসীম ও রবিউল ইসলাম রবি—দু’জনেরই নাম অনুপস্থিত।
এছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন, যিনি সম্প্রতি মাগুরা থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন, তাকেও রাখা হয়নি তালিকায়।
🔹 পারিবারিক প্রার্থিতা সীমিতকরণ
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি এবার “এক পরিবার থেকে এক প্রার্থী” নীতিতে অটল থেকেছে।
ফলে বাদ পড়েছেন—
স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী হাসিনা আহমদ,
মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস,
এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর স্ত্রী ও সাবেক এমপি রুমানা মাহমুদ।
তবে যেসব আসনে বিএনপির শীর্ষ নেতারা প্রয়াত হয়েছেন, সেসব আসন থেকে তাদের স্ত্রী বা সন্তানদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
🔹 দলীয় নীতি ও নতুন নেতৃত্বে জোর
বিএনপির ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দল ‘নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব’ এবং ‘মাঠ পর্যায়ের সক্রিয় নেতাদের’ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
একজন কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
> “এবার বিএনপি অভিজ্ঞদের ছায়ায় নতুন মুখ তুলে ধরতে চায়। এটাই দলের পুনর্গঠনের কৌশল।”
🔹 বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি এবার সংগঠন পুনর্গঠন ও গণসংযোগ জোরদারে কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যদিও সিনিয়র নেতাদের অনুপস্থিতি দলের অভ্যন্তরে কিছু অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে, তবু দলটি হয়তো আগামীর নির্বাচনী লড়াইয়ে তরুণ ও মাঠ পর্যায়ের নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দিতে চাইছে।
২৩৭ আসনের এই প্রাথমিক তালিকা বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতির একটি বড় পদক্ষেপ হলেও, এখনো বাকি ৬৩টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি।
আগামী কয়েক সপ্তাহে এই তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন বা সংযোজন আসতে পারে বলে দলীয় মহল থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।