“সংবিধান সংশোধনের নামে জাতীয় অনৈক্য তৈরি হচ্ছে” — সালাউদ্দিন আহমেদ

সংবিধান সংশোধন, গণভোট ও নির্বাচন সংস্কার নিয়ে সমালোচনা – আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের সাথে বৈঠকের পর বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদের মন্তব্য

PostImage

“সংবিধান সংশোধনের নামে জাতীয় অনৈক্য তৈরি হচ্ছে” — সালাউদ্দিন আহমেদ


বাংলাদেশ সচিবালয়ে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের কার্যালয়ে গিয়ে একান্ত বৈঠক করেছেন বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমেদ। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সংবিধান সংশোধন, গণভোট, এবং নির্বাচন সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোকে “অসংবিধানিক ও অযৌক্তিক” বলে মন্তব্য করেন।  

  

সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন—  “সংবিধানের কোনো সংশোধনী ‘অটোমেটিকভাবে’ গৃহীত হতে পারে না। এটা কোনো পরীক্ষার অটো পাশের মতো প্রক্রিয়া নয়। সংসদে পাস হওয়া, স্পিকারের অনুমোদন এবং রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পরেই কোনো সংশোধনী আইন হিসেবে কার্যকর হয়। কিন্তু তারা এখন এমন একটি প্রস্তাব দিয়েছে যেখানে নির্দিষ্ট সময়ে অনুমোদন না পেলেও তা সংবিধানে সংযুক্ত হয়ে যাবে—এটা একেবারেই হাস্যকর।”  

  

তিনি আরও বলেন,  “গণভোট নিয়ে প্রস্তাবিত সুপারিশগুলোও বিভ্রান্তিকর। এক জায়গায় বলা হচ্ছে সংসদে অনুমোদনের পর গণভোট হবে, আবার অন্য জায়গায় বলা হচ্ছে প্রয়োজন নেই। এসব অসঙ্গতি কীভাবে এসেছে, তা আমরা বুঝতে পারছি না।”  

বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, জাতীয় ক্ষমতা কমিশনের সুপারিশে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নোট অফ ডিসেন্ট বাদ দেওয়া হয়েছে।  “ জুলাই জাতীয় সনদের ৮৪ দফার মধ্যে যেসব বিষয়ে আমাদের ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ভিন্নমত ছিল, সেগুলো পরিষ্কারভাবে নথিবদ্ধ থাকলেও বর্তমান সংযুক্তিতে তা নেই। এতে মনে হচ্ছে জাতীয় ঐক্যের পরিবর্তে জাতীয় অনৈক্য সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।”  

 

তিনি বলেন,  “সংবিধান সংস্কার পরিষদের ধারণা কমিশনের আলোচনায় ছিল না। এখন হঠাৎ করে প্রস্তাবে এটি যুক্ত করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের নির্বাচনের মাধ্যমে কেবল সংসদই গঠিত হবে, আলাদা করে কোনো ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের সাংবিধানিক ভিত্তি নেই।” 

নির্বাচন আইন সংশোধন প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন—  “আমরা বেশ কিছু প্রস্তাবের সাথে একমত হলেও, জোটভুক্ত দলগুলোকে শুধুমাত্র নিজেদের প্রতীকে নির্বাচন বাধ্যতামূলক করার বিধানটির সাথে একমত নই। আগে যেভাবে জোটের প্রতীকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ ছিল, সেটি বহাল রাখা উচিত। এতে ছোট দলগুলোর টিকে থাকা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় থাকবে।”  

 তিনি জানান, এ বিষয়ে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি বিষয়টি সরকারের নজরে আনবেন এবং প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের সাথে আলোচনা করবেন।  “আমরা মনে করি, বহুদলীয় অংশগ্রহণ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে এই স্বাধীনতা বজায় থাকা জরুরি। কারণ সংসদ তখনই সমৃদ্ধ হবে, যখন সেখানে বহু মত, বহু আদর্শ ও বহু রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব থাকবে।”  

শেষে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন,  "আমরা আশাবাদী, সরকার এই প্রস্তাবগুলো পুনর্বিবেচনা করবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ রক্ষায় একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেবে।”