“বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক হবে সম্মান ও মর্যাদার”— যুক্তরাষ্ট্রে বক্তব্য আমীরে জামায়াতের
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে: নিউইয়র্কে মতবিনিময় সভায় আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান
“বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক হবে সম্মান ও মর্যাদার”— যুক্তরাষ্ট্রে বক্তব্য আমীরে জামায়াতের
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমরা যদি দেশ পরিচালনার সুযোগ পাই, তাহলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে। মানুষ নিজের জায়গা বদলাতে পারে, কিন্তু প্রতিবেশী বদলাতে পারে না। আমরা আমাদের প্রতিবেশীকে সম্মান করতে চাই, এবং একইভাবে প্রতিবেশীর কাছ থেকেও সম্মান প্রত্যাশা করি।”
বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রথম দিনে নিউইয়র্কে প্রবাসী সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্কে অবস্থানরত বাংলাদেশি সাংবাদিক, প্রবাসী নেতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আমীরে জামায়াত বলেন, “বাংলাদেশের চেয়ে ভারত আয়তনে ২৬ গুণ বড় দেশ। তাদের সম্পদ ও জনশক্তি আমাদের তুলনায় অনেক বেশি। আমরা তাদের অবস্থানকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু আমাদের ছোট ভূখণ্ড ও প্রায় ১৮ কোটি মানুষের অস্তিত্বকেও সমানভাবে সম্মান করতে হবে— এটিই আমাদের প্রত্যাশা। যদি পারস্পরিক সম্মানের এই সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়, তাহলে দুই প্রতিবেশী শুধু ভালোই থাকবে না; বরং এক প্রতিবেশীর কারণে অন্য প্রতিবেশীও বিশ্ব দরবারে সম্মানিত হবে।”
ভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার রক্ষার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “গত দেড় বছরে আমাদের কার্যক্রমই প্রমাণ করেছে— আমরা সহাবস্থানে বিশ্বাসী। আমরা জোর করে কোনো কিছু বন্ধের পক্ষে নই, আবার কাউকে দেশ থেকে তাড়ানোর পক্ষেও নই। বাংলাদেশে আমরা সবাই একটি পরিবার— মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান— আমরা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চাই।”
তিনি বলেন, “আমরা মেজরিটি-মাইনোরিটি ধারণায় বিশ্বাস করি না। এই শব্দগুলোই সমাজে বিভাজন তৈরি করে, যা একদলকে অন্য দলের মুখোমুখি দাঁড় করায়। আমরা চাই জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাক, বিভক্ত নয়।”
আমীরে জামায়াত আরও বলেন, “বাংলাদেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও সভ্যতার ভিত্তিতে যুগের পর যুগ মিলেমিশে বসবাসের যে ঐতিহ্য আমরা গড়ে তুলেছি, সেটিই পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চাই। যে কয়েকটি কালো দাগ পড়েছে, সেগুলো মুছে ফেলব ইনশাআল্লাহ, যাতে দল ও ধর্মের বিভাজনে জাতি আর বিভক্ত না হয়।”
সম্পত্তি দখল সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, “যদি গত ৫৪ বছরে কেউ অন্যের সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে থাকে এবং তার প্রমাণ থাকে, আমরা সেই সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার পক্ষে— এটিই ন্যায় ও নীতির অবস্থান।”
যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে ডা. শফিকুর রহমানের দেশটির কোনো শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে বৈঠক হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এই প্রশ্নের উত্তর বৃহত্তর স্বার্থে আপাতত এড়িয়ে যাচ্ছি।”
সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।
সভা শেষে প্রবাসী নেতৃবৃন্দ ডা. শফিকুর রহমানকে যুক্তরাষ্ট্র সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি পুনঃস্থাপনে তাঁর নেতৃত্বে আস্থার কথা ব্যক্ত করেন।