এনসিপি–শাপলা বিবাদ: তারেক রহমানের তীব্র মন্তব্য ও রাজনৈতিক প্রভাব

জনসমর্থন ও মাঠগত প্রতিক্রিয়া: তারেক রহমানের কথার অনুপ্রকাশে ‘শাপলা রক্ষা’ মতো পয়েন্ট-অ্যাকশন হলে তা রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নিতে পারে—বিশেষ করে তিনি যদি এটি জনগণের ন্যারেটিভ হিসেবে উপস্থাপন করেন। এটি রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।

PostImage

এনসিপি–শাপলা বিবাদ: তারেক রহমানের তীব্র মন্তব্য ও রাজনৈতিক প্রভাব


জাতীয় প্রতীকের শাপলা নিয়েছে–নেবে নিয়ে চলমান বিতর্কে আমজনতা দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান তীব্র কণ্ঠে সতর্ক করেছেন। তিনি বলছেন—শাপলা বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও জাতীয় পরিচয়ের অঙ্গ; কোনো রাজনৈতিক দল বা আবশ্যিক রাজনৈতিক স্বার্থ এটিকে মেলাতে চাইলে জনগণ তা মেনে নেবে না এবং ‘শাপলা রক্ষা’ বিষয়ে সামাজিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। এই মন্তব্যগুলো এসেছে তখন যখন জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP) বারবার নির্বাচন কমিশনকে শাপলার প্রতীক দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে এবং কমিশন তাদেরকে বিকল্প প্রতীক বেছে নিতে বলেছে।

নাগরিক পার্টি এনসিপি দীর্ঘদিন ধরে ‘শাপলা’কে তাদের প্রতীক হিসেবে দাবি করে আসছে।  কিন্তু নির্বাচন কমিশন জারি করা সংরক্ষিত প্রতীকের তালিকায় থাকা প্রতীকগুলোর বাইরে কাউকে শাপলা দেওয়ার সুযোগ নেই—তারপরও এনসিপি অনড় অবস্থান পোষণ করেছে এবং কমিশনকে আবারো আবেদন পাঠিয়েছে। কমিশন পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে: এনসিপি যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিকল্প প্রতীক নির্বাচন না করে, তাহলে কমিশন নিজে থেকে একটি প্রতীক বরাদ্দ করবে। এটি কমিশনের অফিসিয়াল পজিশন।

আরেকটি সমাজ–রাজনৈতিক বাস্তবতা—শাপলা বাংলাদেশের অনন্য জাতীয় প্রতীক হিসেবে জনসাধারণের মধ্যে গভীর আবেগসংবেদনা জাগায়; তাই প্রতীক বিতর্ক সহজে রাজনৈতিক উত্তেজনায় রূপ নেবে, নাটকীয় গণপ্রতিবাদ কিংবা প্রতীক রক্ষা কর্মসূচির সম্ভাবনাও থেকে যায়। (এই বিশ্লেষণ বিপদ-প্রবণ রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার সম্ভাব্যতা সম্পর্কে সাধারণ রাজনৈতিক কৌশল্য ও বর্তমান মনোভাবের উপর ভিত্তিক।)

শাপলা জাতীয় চিহ্ন এবং সেটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের একতরফা মালিকানা হতে পারে না। এনসিপির শাপলা দৃষ্টিভঙ্গি, কৌশলগত খামখেয়ালিপনা বা প্রতীক নিয়ে কৌতুকরাজনীতি জনগণের রোষ ভোগ করবে; পরিস্থিতি উসকানি দিতে পারে।

যদি কেউ এই জাতীয় প্রহসন চালু করে, জনগণ ব্যবস্থা নিতে পারে—তাই রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সমঝোতা ও উৎসবমুখী আচরণ বজায় রাখার আহ্বান করেছেন। উপরোক্ত বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তাঁর নির্দেশমূলক নোট—‘শাপলা রক্ষা মঞ্চ’ গঠনের সম্ভাবনার কথা বলা—রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এটাকে সতর্কবার্তা হিসেবে নেবেন এবং এটি মাঠে দ্রুত প্রতিরোধী আন্দোলনে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করেন। (এই অনুসঙ্গীয় বিশ্লেষণ রাজনৈতিক কৌশল ও জনমত-প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।)

শাপলা–প্রতীককে ঘিরে এনসিপির দাবি প্রকাশ্যে আসার পর অন্যান্য দলও এ প্রতীক হস্তান্তর বিষয়ে আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছে—উদাহরণস্বরূপ বাংলাদেশ কংগ্রেস শাপলা চাওয়ার আবেদন করেছে। এই প্রতিযোগিতা নির্বাচনকালে প্রতীকের রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং কমিশনকে একটি স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বাধ্য করেছে।

নির্বাচন কমিশনকে সংবেদনশীলভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে; কোনো তফসিল বা বিভ্রান্তিমূলক সিদ্ধান্ত নির্বাচনী বাস্তবতাকে অচল করে দিতে পারে। কমিশন ইতোমধ্যেই এনসিপিকে বিকল্প বেছে নেওয়ার নোটিশ দিয়েছে। 

তারেক রহমানের কথার অনুপ্রকাশে ‘শাপলা রক্ষা’ মতো পয়েন্ট-অ্যাকশন হলে তা রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নিতে পারে—বিশেষ করে তিনি যদি এটি জনগণের ন্যারেটিভ হিসেবে উপস্থাপন করেন। এটি রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।