ফাগুড়দিয়ায় জনজোয়ার: তারেক রহমানের ৩১ দফা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে মাঠে ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন
“আল্লাহ যদি আমাকে তৌফিক দান করেন, আমি এই লালপুর-বাগাতিপাড়াকে এমনভাবে পরিবর্তন করব যেন দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট শব্দ দুটি এখান থেকে চিরতরে হারিয়ে যায়। কোনো দুর্নীতিবাজ, স্বজনপ্রীতিপূর্ণ গোষ্ঠী আর কখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না।”
ফাগুড়দিয়ায় জনজোয়ার: তারেক রহমানের ৩১ দফা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে মাঠে ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার অংশ হিসেবে নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার ফাগুড়দিয়া ইউনিয়নের কলাবাড়িয়া মাঠে এক বিশাল পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই পথসভা ঘিরে পুরো এলাকা পরিণত হয় গণজোয়ারের মিছিলে। মাঠজুড়ে জনতার ঢল, হাতে ধানের শীষের প্রতীক, মুখে একটাই স্লোগান— “তারেক রহমানের নেতৃত্বে মুক্ত বাংলাদেশ গড়বো ইনশাল্লাহ।”
পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী, বিএনপি নেতা, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ও ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন।
ডা. রাজন তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই বলেন,
“গত ১৭ বছর ধরে আমাদের ভাই, বোন, বাবারা, চাচারা নির্যাতিত হয়েছেন— কেউ কারাগারে, কেউ রাস্তায়, কেউ জীবন দিয়ে গেছেন এই দলের জন্য। আমি ক্ষুদ্র একজন মানুষ, কিন্তু আমার এই ক্ষুদ্র কণ্ঠ শুনতে আজ আপনারা যে দূর-দূরান্ত থেকে এসেছেন, এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া।”
বক্তব্যের সময় তিনি এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনার উল্লেখ করে বলেন,
“আমি যখন দয়রামপুর পার হয়ে সোনাপুর ক্রস করছিলাম, তখন দেখি এক দাড়িওয়ালা মুরুব্বী— যার বয়স সত্তর পেরিয়েছে— তিনি মোটরসাইকেলে বসে স্লোগান দিচ্ছেন ‘রাজন, তোমার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই।’ সেই মুহূর্তে মনে হলো, যেন আমার বাবা পেছন থেকে হাত রেখে বলছেন— ‘রাজন, আমি নেই তো কী হয়েছে, তোমার জন্য আমি হাজার হাজার জনগণ রেখে গিয়েছি।’”
দুর্নীতি, সিন্ডিকেট ও অনিয়মের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার
ডা. রাজন দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা দেন,
“আল্লাহ যদি আমাকে তৌফিক দান করেন, আমি এই লালপুর-বাগাতিপাড়াকে এমনভাবে পরিবর্তন করব যেন দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট শব্দ দুটি এখান থেকে চিরতরে হারিয়ে যায়। কোনো দুর্নীতিবাজ, স্বজনপ্রীতিপূর্ণ গোষ্ঠী আর কখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন,
“আমার বয়স্ক বাবা, এমনকি আমার গর্ভবতী বোন পর্যন্ত সরকারি ‘এ কার্ড’ সুবিধা পেতে ভোগান্তিতে পড়েছেন। এখানে দুর্নীতি হয়— যে নেতার পছন্দের, সে কার্ড পায়; কিন্তু যার প্রকৃত প্রয়োজন, সে বঞ্চিত হয়। আমি দৃঢ়ভাবে বলছি, লালপুর-বাগাতিপাড়াকে কাঠসহ সব খাত থেকে দুর্নীতিমুক্ত করা হবে ইনশাল্লাহ।”
নিজ এলাকার উন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেন,
“এক কিলোমিটার দূরের যে রাস্তা, সেটা আমার বাবা তাঁর সময় তৈরি করেছিলেন। তারপর যত মন্ত্রী-এমপি এসেছে, কেউ কোনো কাজ করেনি। তারা বলেছে, ‘এটা বিএনপি করা রাস্তা, এটা করা যাবে না।’ কিন্তু আমি তাঁর ছেলে হয়ে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, সেই সব অসমাপ্ত কাজ আমি শেষ করব, সব সমস্যার সমাধান করব।”
“তারেক রহমানের ৩১ দফা দেশের পুনর্গঠনের রূপরেখা”
তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির প্রশংসা করে ডা. রাজন বলেন,
“তারেক রহমান যে ৩১ দফা দিয়েছেন, তার প্রতিটিই দেশের পুনর্গঠনের রূপরেখা। আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব হলো এগুলো জানা, শেখা ও বাস্তবায়ন করা। আমি আহ্বান জানাচ্ছি— আপনারা ঘরে ঘরে এই দফাগুলো পৌঁছে দিন, জনগণকে জানাতে হবে বিএনপি কেমন বাংলাদেশ গড়তে চায়।”
বক্তব্যের এক পর্যায়ে নিজের এলাকার মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করে তিনি বলেন,
“প্রথম বাংলাদেশ আমার, শেষ বাংলাদেশও আমার। জীবন বাংলাদেশ আমার, মরণও বাংলাদেশ আমার।”
এরপর তিনি আবেগের সঙ্গে যোগ করেন,
“প্রথম লালপুর-বাগাতিপাড়া আমার, শেষ লালপুর-বাগাতিপাড়াও আমার। জীবন লালপুর-বাগাতিপাড়া আমার, মরণও লালপুর-বাগাতিপাড়া আমার।”
তিনি আরও বলেন,
“আমার জন্ম এই মাটিতে, আমি বড় হয়েছি আপনাদের কোলে— এই মায়েদের, ফুপুদেড় কোলে, বোনদের ভালোবাসায়। এই মানুষগুলোর জন্য আমি রাজনীতি করি, ক্ষমতার জন্য নয়।”
ডা. রাজন সতর্ক করে বলেন,
“যদি ভবিষ্যতে কেউ আবার সিন্ডিকেট তৈরি করতে চায়, আমরা সবাই বুক পেতে প্রতিবাদ করব। সেটা যত ক্ষমতাশালী লোকই হোক, আমরা ভয় পাব না।”
সভা শেষে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন,
“আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে সবাই ঐক্যবদ্ধ হোন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আমরা রাজপথে থাকব ইনশাল্লাহ।”
বক্তব্যের শেষে পুরো মাঠ মুখরিত হয়ে ওঠে “ধানের শীষের জয়” এবং “তারেক রহমানের নেতৃত্বে মুক্ত বাংলাদেশ” স্লোগানে।
জনতার আবেগ, ভালোবাসা ও প্রত্যাশায় কলাবাড়িয়া মাঠ পরিণত হয় এক গণজাগরণের উৎসবে।