ইরানে পারমাণবিক হামলা নিয়ে প্রশ্ন, সাংবাদিককে ট্রাম্প বললেন ‘কী স্টুপিড প্রশ্ন’?
ইরানে পারমাণবিক হামলা নিয়ে প্রশ্ন করায় সাংবাদিককে ট্রাম্পের কড়া জবাব, ‘কী স্টুপিড প্রশ্ন’, উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।
ইরানে পারমাণবিক হামলা নিয়ে প্রশ্ন, সাংবাদিককে ট্রাম্প বললেন ‘কী স্টুপিড প্রশ্ন’?
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এক সাংবাদিক তাঁকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেন, ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা তিনি বাদ দিচ্ছেন কি না।
জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো কারণ দেখছেন না। এরপর প্রশ্নটিকে ‘স্টুপিড’ বা বোকা প্রশ্ন হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি যুক্তি দেন, ইরান সামরিকভাবে ইতোমধ্যে ‘সম্পূর্ণ পরাজিত’ হয়ে থাকলে দেশটির বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন কেন হবে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের মূল অর্থ ছিল, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে না। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে সামরিকভাবে পরাজিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সামরিক পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি কোনো নতুন পারমাণবিক নীতি ঘোষণা করেননি।
এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন বাহিনী ইরানের লারাক দ্বীপের কাছে দুটি রকেট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব ব্যবস্থা হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক মাইন মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালি ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
ট্রাম্প একই সঙ্গে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না বলেও অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র পেলে তা ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্য এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও হুমকি তৈরি করতে পারে। তবে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হামলার কোনো পরিকল্পনা প্রশাসন প্রকাশ্যে বিবেচনা করছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্পের কড়া ভাষা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নটি এমন সময়ে এসেছে, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত আবারও তীব্র হয়ে উঠেছে।