ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে আদালতের ধাক্কা, বিদেশি শিক্ষার্থীদের পক্ষে বড় রায়
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে বড় ধাক্কা, ফিলিস্তিনপন্থী বক্তব্যের কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার অসাংবিধানিক বললেন মার্কিন বিচারক।
ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে আদালতের ধাক্কা, বিদেশি শিক্ষার্থীদের পক্ষে বড় রায়
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের আইনি ধাক্কা এসেছে। ফিলিস্তিনপন্থী বক্তব্য ও ইসরায়েলবিরোধী সমালোচনার কারণে অ-নাগরিক কলেজ শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল এবং বহিষ্কারের ক্ষেত্রে অভিবাসন আইন ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছেন ফেডারেল বিচারক নোয়েল ওয়াইজ।
শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসেতে দেওয়া রায়ে বিচারক ওয়াইজ বলেন, রাজনৈতিক মতামত বা বক্তব্যের ভিত্তিতে কাউকে অভিবাসন আইনের আওতায় শাস্তি দেওয়া হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাঁর মতে, নাগরিক না হলেও যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের সাংবিধানিক অধিকার পুরোপুরি উপেক্ষা করা যায় না।
মামলাটি করেছে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংবাদপত্র দ্য স্ট্যানফোর্ড ডেইলি। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা বাতিল ও বহিষ্কারের পদক্ষেপের কারণে অ-নাগরিক শিক্ষার্থী সাংবাদিকরা ফিলিস্তিন, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে প্রতিবেদন ও মতামত প্রকাশে নিজেদের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে বাধ্য হয়েছেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে প্রশাসন ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনসংক্রান্ত বক্তব্য বা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত কিছু অ-নাগরিকের ভিসা বাতিল, আটক এবং বহিষ্কারের উদ্যোগ নেয়। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মাহমুদ খলিলকে আটকের ঘটনাও এই বৃহত্তর নীতির আলোচনায় উঠে আসে।
বিচারক ওয়াইজ বিশেষভাবে বলেন, কোনো ব্যক্তির বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ভিসা বাতিল বা বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সরকার নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক মতকে অন্য মতের তুলনায় শাস্তির জন্য বেছে নিচ্ছে কি না, সেই সাংবিধানিক প্রশ্ন তৈরি হয়।
এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আদালতের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এসেছে। এর মাত্র কয়েক দিন আগেই আরেক ফেডারেল বিচারক ৭৫টি দেশের অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে বাতিল করেছিলেন।
তবে এই রায়কে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সব বিদেশি শিক্ষার্থীর বহিষ্কার স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে—এমন অর্থে নেওয়া ঠিক হবে না। বরং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বক্তব্যের ভিত্তিতে অভিবাসন আইন প্রয়োগের সাংবিধানিক সীমা নিয়েই আদালতের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এসেছে। প্রশাসন পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে।
রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও অভিবাসীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে আদালতে চলমান আইনি লড়াইও আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।