চীনের অস্ত্র সহায়তায় পাকিস্তান-বাংলাদেশ, ভারতের দুই প্রতিবেশীকে ঘিরে বাড়ছে বেইজিংয়ের সামরিক প্রভাব
চীনের সামরিক সহায়তা বাড়ছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশে, ভারতের দুই প্রতিবেশীকে ঘিরে বেইজিংয়ের প্রভাব নিয়ে নতুন করে বাড়ছে নয়াদিল্লির উদ্বেগ।
চীনের অস্ত্র সহায়তায় পাকিস্তান-বাংলাদেশ, ভারতের দুই প্রতিবেশীকে ঘিরে বাড়ছে বেইজিংয়ের সামরিক প্রভাব
চীনের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কিনে আসছে পাকিস্তান। এবার সেই ধারায় বাংলাদেশও চীনের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে বলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দুই দেশই ভারতের প্রতিবেশী। ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের সামরিক সহযোগিতা বাড়তে থাকায় ভারতের কৌশলগত পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের সামরিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। যুদ্ধবিমান, নৌযান, ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর হয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে চীনের ভূমিকা ইতোমধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশও সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নে বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ করছে। এ ক্ষেত্রে চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরবরাহকারী দেশ। সামরিক সরঞ্জাম কেনার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক রয়েছে।
চীন যদি একই সময়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা আরও বাড়ায়, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের প্রতিরক্ষা প্রভাব বিস্তারের সুযোগও বাড়বে। এর ফলে ভারতের নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও কৌশলগত হিসাবেও নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।
তবে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে সরাসরি কোনো দেশের বিরুদ্ধে সামরিক অবস্থান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করে আসছে।
তবু ভারতের দুই প্রতিবেশীর সঙ্গে চীনের সামরিক সহযোগিতা একসঙ্গে বাড়তে থাকলে দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ভারসাম্য ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে। বিষয়টি তাই নয়াদিল্লির জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে উঠছে।