নিউইয়র্কের কয়েকটি কাউন্টিকে তলব, অভিবাসন আইন না মানার অভিযোগ

নিউইয়র্কে অভিবাসন আইন না মানার অভিযোগে চার কাউন্টিকে তলব, স্থানীয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নিয়ে বাড়ছে আইনি লড়াই ও উত্তেজনা।

নিউইয়র্কের কয়েকটি কাউন্টিকে তলব, অভিবাসন আইন না মানার অভিযোগ

নিউইয়র্কের কয়েকটি কাউন্টিকে তলব, অভিবাসন আইন না মানার অভিযোগ


যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা সীমিত করার নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর কয়েকটি কাউন্টির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।


অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের কার্যালয় ২৫ আগস্ট কয়েকটি কাউন্টির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তলব করেছে। এসব সংস্থা নতুন আইন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের সহযোগিতা চুক্তি বাতিল করেছে কি না, তা জানতে তথ্য চাওয়া হয়েছে।


নতুন আইনটি ২৫ আগস্ট ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। এর ফলে নিউইয়র্কের স্থানীয় সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নাগরিক অভিবাসন কার্যক্রমে আনুষ্ঠানিক সহযোগিতার চুক্তি রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কারাগার ব্যবহার করে কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের জন্য অভিবাসীদের আটক রাখার ব্যবস্থাও সীমিত করা হয়েছে।


অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের তলব পাওয়া কাউন্টিগুলোর মধ্যে নাসাউ, ব্রুম, স্টিউবেন ও রেনসেলার রয়েছে। এসব এলাকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নতুন আইন মেনে তাদের আগের সহযোগিতা চুক্তি বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা দেয়নি বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।


নাসাউ কাউন্টির বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। কাউন্টিটির নির্বাহী ব্রুস ব্লেকম্যান কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি মনে করেন, অপরাধে জড়িত অভিবাসীদের শনাক্ত ও আটক করার ক্ষেত্রে এই সহযোগিতা জননিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।


অন্যদিকে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল নতুন আইনকে সমর্থন করেছেন। তার বক্তব্য, স্থানীয় পুলিশের অর্থ ও জনবল মূলত স্থানীয় অপরাধ দমনে ব্যবহার করা উচিত; কেন্দ্রীয় সরকারের নাগরিক অভিবাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা স্থানীয় পুলিশের দায়িত্ব নয়।

রেনসেলার কাউন্টির কর্মকর্তারাও নতুন আইনের বিরোধিতা করছেন। কাউন্টি নির্বাহী স্টিভ ম্যাকলাফলিন জানিয়েছেন, তারা আইনটি চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার দাবি, তাদের সহযোগিতা মূলত কাউন্টি কারাগারে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার যাচাইয়ের মধ্যেই সীমিত।

এদিকে বিষয়টি ইতোমধ্যে আদালতে গড়িয়েছে। ১৫ জন কাউন্টি শেরিফ নতুন আইনকে চ্যালেঞ্জ করে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছেন। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুমোদিত সহযোগিতা চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য করা স্থানীয়ভাবে নির্বাচিত কর্মকর্তাদের ক্ষমতার ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ।


নিউইয়র্ক সরকার অবশ্য বলছে, নতুন আইন বৈধ এবং স্থানীয় সংস্থাগুলোকে অঙ্গরাজ্যের আইন মেনে চলতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, বেশির ভাগ আইনশৃঙ্খলা সংস্থা কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই নতুন আইন মেনে নিয়েছে।


এই বিরোধের ফলে নিউইয়র্কে অভিবাসন নীতি নিয়ে অঙ্গরাজ্য সরকার, স্থানীয় প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে টানাপোড়েন আরও বেড়েছে। একদিকে সরকার বলছে, স্থানীয় পুলিশের মূল দায়িত্ব স্থানীয় অপরাধ দমন; অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে, কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা জননিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয়।


বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্কে বসবাসরত অভিবাসীদের ক্ষেত্রে স্থানীয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী হবে, তা এই নতুন আইনের বাস্তব প্রয়োগের ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর