যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা অর্থায়নের তথ্য, অনুসন্ধানে উঠে এলো বড় অঙ্কের অর্থ

যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা অর্থায়ন, ১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের তথ্য ফাঁস অনুসন্ধানে।

যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা অর্থায়নের তথ্য, অনুসন্ধানে উঠে এলো বড় অঙ্কের অর্থ

যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা অর্থায়নের তথ্য, অনুসন্ধানে উঠে এলো বড় অঙ্কের অর্থ


যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং দেশটির অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়নে সামরিক প্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণা পরিচালনার তথ্য উঠে এসেছে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ২০০৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও অঙ্গরাজ্যের নিরীক্ষা নথি, বিদেশি অর্থায়নের তথ্য এবং গবেষণাপত্র পর্যালোচনা করে এসব আর্থিক সম্পর্কের তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে।

২৪ আগস্ট প্রকাশিত ড্রপ সাইটের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি অর্থায়নের এমন তথ্য পাওয়া গেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি অর্থায়ন নজরদারির জাতীয় তথ্যভান্ডারে অনিবন্ধিত অথবা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে নথিভুক্ত ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকৃত অর্থের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে, কারণ সব গবেষণা চুক্তি ও সহায়তার পরিমাণ প্রকাশ্য নথিতে পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধানে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম এসেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়, প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়, জর্জিয়া টেক, টেক্সাস টেক বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব কানেকটিকাট, ইউনিভার্সিটি অব টেনেসি, ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড, ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় বার্কলি, ইউনিভার্সিটি অব রোড আইল্যান্ড, ইউনিভার্সিটি অব নিউ মেক্সিকো, ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি ইন সেন্ট লুইস এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক।

তবে প্রতিবেদনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব আর্থিক সম্পর্কের সবগুলো যে বর্তমানে চলমান, তা বলা হয়নি। অনেক ক্ষেত্রেই এগুলো নির্দিষ্ট মেয়াদের গবেষণা চুক্তি, অনুদান বা অর্থায়ন ছিল। ফলে তালিকায় কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম থাকার অর্থ এই নয় যে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করছে।

ইউনিভার্সিটি অব কানেকটিকাটের ক্ষেত্রে নিরীক্ষা নথিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে দুটি গবেষণা প্রকল্পের তথ্য পাওয়া গেছে। এর একটি ছিল স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার চালনাশক্তিসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের স্থান পূর্বাভাস নিয়ে গবেষণা। ২০১৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নয় অর্থবছরে এই প্রকল্পে ৬ লাখ ৬৮ হাজার ৪৫৬ ডলার অর্থায়নের তথ্য পাওয়া যায়। একই সময়ে উচ্চ সংবেদনশীলতার চৌম্বক ক্ষেত্র শনাক্তকারী যন্ত্র নিয়ে আরেকটি গবেষণায় ২ লাখ ৫১ হাজার ৩৩৬ ডলার অর্থায়নের নথি রয়েছে।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও দুটি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের তথ্য পাওয়া গেছে। দুটির মোট অর্থায়ন প্রায় ৭ লাখ ৯৯ হাজার ডলার। একটি প্রকল্পে সমন্বিত বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক ব্যবস্থা তৈরিতে ত্রিমাত্রিক মুদ্রণ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণার জন্য ২০১৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৯৯৯ ডলার দেওয়া হয়। আরেকটি প্রকল্পে ক্ষুদ্র অনুরণনকারীভিত্তিক সেন্সর প্রযুক্তি নিয়ে ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ৩ লাখ ২৯ হাজার ১৯১ ডলার অর্থায়নের তথ্য রয়েছে।

স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের গবেষণা ফাউন্ডেশনের নিরীক্ষা নথিতে ২০১০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট পাঁচটি প্রকল্পে মোট ৯ লাখ ৪৯ হাজার ৯১৫ ডলার অর্থায়নের তথ্য পাওয়া গেছে। ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের নিরীক্ষা নথিতে ২০১২ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রায় ১১ লাখ ৯৫ হাজার ৭৯৫ ডলার ব্যয়ের তথ্যও উঠে এসেছে। তবে ওই অর্থ কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছে, তার পুরো বিবরণ নথিতে পাওয়া যায়নি।

প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিতে পরমাণু চৌম্বকত্ব পরিমাপের একটি প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণার জন্য ৬ লাখ ডলারের চুক্তির তথ্য রয়েছে। এতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা সহযোগিতা সংস্থাকে অর্থদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চুক্তিটির মেয়াদ ছিল ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত।

টেক্সাস টেক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলসংক্রান্ত প্রকাশনায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে ৪ লাখ ডলার অর্থায়নের তথ্য পাওয়া যায়। গবেষণাটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষুদ্র তড়িৎ-তরঙ্গ উৎস বা ‘ভার্কেটর’ প্রযুক্তি নিয়ে ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ প্রযুক্তির সামরিক ব্যবহার সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে ড্রোনের মতো লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তড়িৎ-তরঙ্গ ব্যবহারের ক্ষেত্রে।

মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা নথিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্ষুদ্র হেলিকপ্টার পরিচালনা নিয়ে গবেষণার জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং উচ্চগতিতে রোটরক্রাফট পরিচালনা নিয়ে গবেষণার জন্য আরও ৩ লাখ ডলার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নের তথ্য পাওয়া গেছে।

ইসরায়েলি অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সম্পর্কের তথ্য উঠে এসেছে। ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার গবেষকেরা ভিডিও থেকে মানুষের কর্মকাণ্ড শনাক্ত এবং বিভিন্ন বস্তু চিহ্নিত করার প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় এলবিটের অর্থায়ন পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট ডালাসেও এলবিট সিস্টেমস অব আমেরিকার অর্থায়নে ভিডিও নজরদারি ও লক্ষ্য শনাক্তকরণ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা হয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব টেনেসির নথিতে এলবিটের একটি মার্কিন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৫ লাখ ১৪ হাজার ৫০০ ডলার পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রকাশ্য নথিতে এই অর্থ বিভিন্ন শিক্ষার্থীর শিক্ষাব্যয় পরিশোধের জন্য ব্যবহারের কথা বলা হলেও কোন গবেষণা বা কর্মসূচির সঙ্গে অর্থটি যুক্ত ছিল, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

অনুসন্ধানে ইসরায়েলের আরও দুটি বড় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামও এসেছে—রাফায়েল এবং ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন বা সহযোগিতায় সামরিক প্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট গবেষণা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত হয়েছে।

এদিকে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এমআইটির ক্ষেত্রেও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট অর্থায়নের তথ্য আগে থেকেই প্রকাশ্যে রয়েছে। এমআইটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৪ অর্থবছরের মধ্যে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত গবেষণা প্রকল্পে প্রায় ৪০ লাখ ডলার অর্থায়ন ছিল। ২০২৫ অর্থবছরে আরও প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার ডলার অর্থায়নের তথ্য দেওয়া হয়েছে।

তবে এসব অর্থের উৎস নিয়ে একটি জটিল বিষয় রয়েছে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অর্থের মধ্যবর্তী ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেছে এবং মূল অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকে এসেছে। ফলে কোনো একটি গবেষণার অর্থ সরাসরি ইসরায়েল সরকারের নিজস্ব অর্থ, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার অর্থ, নাকি উভয়ের সমন্বিত অর্থ—তা সব ক্ষেত্রে প্রকাশ্য নথি থেকে নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায় না।

যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা আইনের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নির্দিষ্ট সীমার বেশি বিদেশি উপহার ও চুক্তির তথ্য প্রকাশ করতে হয়। কিন্তু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহু বছরের গবেষণা চুক্তি বিভিন্ন নথিতে ভিন্নভাবে নথিভুক্ত হওয়ায় বিদেশি অর্থায়নের পুরো চিত্র জাতীয় তথ্যভান্ডারে সবসময় স্পষ্টভাবে দেখা যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের মহাপরিদর্শকও ২০২৫ সালে এই ব্যবস্থার নজরদারি দুর্বলতা নিয়ে সতর্ক করেছিলেন।

বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইসরায়েলের সঙ্গে গবেষণা ও প্রতিরক্ষা-সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক তীব্র। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন অধিকারকর্মী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সামরিক গবেষণার সঙ্গে সম্পর্ক এবং বিদেশি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান এক নয়। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় বার্কলি জানিয়েছে, বিদেশি উৎস থেকে পাওয়া চুক্তি ও অনুদানের ক্ষেত্রে তারা প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুসরণ করে। বিশ্ববিদ্যালয়টির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, তাদের সংশ্লিষ্ট গবেষণা মৌলিক গবেষণার আওতায় এবং এর ফলাফল প্রকাশ্য বৈজ্ঞানিক প্রকাশনার মাধ্যমে সবার জন্য উন্মুক্ত।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এখানে প্রকাশিত তথ্যকে যুক্তরাষ্ট্রের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসরায়েলি অর্থায়নের পূর্ণ তালিকা হিসেবে দেখানো হয়নি। বরং বিভিন্ন নিরীক্ষা নথি, বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য, গবেষণাপত্র এবং অন্যান্য প্রকাশ্য রেকর্ড মিলিয়ে পাওয়া আর্থিক সম্পর্কের একটি অংশ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক অর্থায়ন প্রকাশ্য জাতীয় তথ্যভান্ডারে নেই বা ভিন্নভাবে নথিভুক্ত হয়েছে।

ফলে ‘ইসরায়েল ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়কে মোট ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার দিয়েছে’—এভাবে সরলভাবে বলা পুরোপুরি সঠিক হবে না। বরং অনুসন্ধানে ২০০৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এসব বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর ১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি অনিবন্ধিত বা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে নথিভুক্ত অর্থায়নের তথ্য শনাক্ত হয়েছে। অর্থের প্রকৃত পরিমাণ এবং বর্তমানে কোন সম্পর্ক সক্রিয় রয়েছে, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর