পর্তুগালে জনসমক্ষে মুখ ঢাকার পোশাকে নিষেধাজ্ঞা, আইন অনুমোদন প্রেসিডেন্টের
পর্তুগালে জসমক্ষে মুখ সম্পূর্ণ ঢেকে রাখার পোশাক নিষিদ্ধ করে পাস হওয়া একটি আইন অনুমোদন করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও জোসে সেগুরো। প্রেসিডেন্টের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৮ আগস্ট ২০২৬ আইনটি প্রমালগেট করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো আইনটিকে ‘বোরকা আইন’ হিসেবে উল্লেখ করছে
পর্তুগালে জনসমক্ষে মুখ ঢাকার পোশাকে নিষেধাজ্ঞা, আইন অনুমোদন প্রেসিডেন্টের
পর্তুগালে জসমক্ষে মুখ সম্পূর্ণ ঢেকে রাখার পোশাক নিষিদ্ধ করে পাস হওয়া একটি আইন অনুমোদন করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও জোসে সেগুরো। প্রেসিডেন্টের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৮ আগস্ট ২০২৬ আইনটি প্রমালগেট করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো আইনটিকে ‘বোরকা আইন’ হিসেবে উল্লেখ করছে।
নতুন আইনে জনসমক্ষে এমন পোশাক পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য হলো কোনো ব্যক্তির মুখ আড়াল করা বা পরিচয় শনাক্তকরণে বাধা দেওয়া। আইনটি সরাসরি কোনো ধর্ম বা নির্দিষ্ট পোশাকের নাম উল্লেখ করে না। তবে এর ফলে বোরকা ও নিকাবের মতো পুরো মুখ ঢেকে রাখা পোশাক নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে।
সংসদে অনুমোদনের পর প্রেসিডেন্টের সম্মতি
আইনটির মূল প্রস্তাব দিয়েছিল পর্তুগালের ডানপন্থী দল Chega। পরে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় প্রস্তাবটির ভাষা ও কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়। পর্তুগিজ পার্লামেন্ট ১৭ জুলাই ২০২৬ চূড়ান্ত আইনটি অনুমোদন করে। ক্ষমতাসীন Social Democratic Party (PSD), Chega, Liberal Initiative এবং CDS–People’s Party আইনটির পক্ষে ভোট দেয়। অন্যদিকে Socialist Party, Livre, Portuguese Communist Party এবং Left Bloc বিরোধিতা করে।
প্রেসিডেন্ট সেগুরো বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁর দপ্তরের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, মানুষের মুখ সামাজিক আস্থা, পারস্পরিক পরিচয় ও যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে তিনি নারী ও পুরুষের সমান মর্যাদা এবং লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের বিষয়টিও তুলে ধরেন।
কোথায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে
আইন অনুযায়ী, জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে মুখ আড়ালকারী পোশাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্যগত, পেশাগত, শিল্প, বিনোদন, বিজ্ঞাপন কিংবা আবহাওয়াজনিত কারণে মুখ ঢাকার অনুমতি থাকবে। এছাড়া বিমান, কূটনৈতিক ও কনস্যুলার স্থাপনা এবং উপাসনালয়ের মতো নির্দিষ্ট স্থানও নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে।
আইনে শুধু মুখ ঢাকার ওপর নিষেধাজ্ঞাই নয়, লিঙ্গ, ধর্ম, বয়স বা বংশগত/উৎপত্তিগত পরিচয়ের কারণে কাউকে মুখ ঢাকতে বাধ্য করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ধরনের জবরদস্তির জন্য আরও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
সর্বোচ্চ ৩ হাজার ইউরো জরিমানা
আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী ১৫০ থেকে ৭৫০ ইউরো এবং ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ৪০০ থেকে ৩,০০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। অন্যদিকে কাউকে জোর করে মুখ ঢাকতে বাধ্য করলে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
বিতর্ক ও মানবাধিকার প্রশ্ন
আইনটি পাস হওয়ার পর পর্তুগালে রাজনৈতিক ও মানবাধিকার বিতর্ক তীব্র হয়েছে। বিরোধী বামপন্থী দলগুলো আশঙ্কা করছে, আইনটি বিশেষ করে মুসলিম নারীদের ওপর বৈষম্যমূলক প্রভাব ফেলতে পারে এবং ইসলামোফোবিয়া বাড়াতে পারে।
Amnesty International Portugal-ও আইনটির সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির মতে, আইনে ধর্মের কথা সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও এর বাস্তব প্রভাব এমন মুসলিম নারীদের ওপর পড়তে পারে যারা স্বেচ্ছায় নিকাব বা বোরকা পরেন।
১৮ আগস্ট ২০২৬ প্রেসিডেন্ট সেগুরো আইনটি অনুমোদন/প্রমালগেট করেন—এ তথ্য একাধিক সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে নিশ্চিত হয়েছে। কিন্তু “২৪ আগস্ট ২০২৬ সরকারি গেজেটে আইনটি প্রকাশিত হয়েছে” এই নির্দিষ্ট দাবির সরকারি প্রমাণ আমি বর্তমান অনুসন্ধানে পাইনি। তাই সংবাদ প্রতিবেদনে ২৪ আগস্টকে গেজেট প্রকাশের তারিখ হিসেবে নিশ্চিতভাবে লেখা উচিত নয়।
সঠিকভাবে বলা যায়: “পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও জোসে সেগুরো ১৮ আগস্ট ২০২৬ জনসমক্ষে মুখ ঢেকে রাখার পোশাক নিষিদ্ধকারী আইনটি অনুমোদন করেন।”