ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে পাকিস্তান সরকারকে ২১ সাবেক ক্রিকেট অধিনায়কের আহ্বান
ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে পাকিস্তান সরকারকে ২১ সাবেক অধিনায়কের চিঠি, গাভাস্কার-কপিলের মানবিক চিকিৎসার আহ্বান।
ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে পাকিস্তান সরকারকে ২১ সাবেক ক্রিকেট অধিনায়কের আহ্বান
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশটির ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পাকিস্তান সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছেন ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়ক। তাঁদের মধ্যে ভারতের সাবেক অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কার ও কপিল দেবও রয়েছেন।
রোববার প্রকাশিত এই চিঠিতে সাবেক ক্রিকেট অধিনায়কেরা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের প্রতি ইমরান খানের জন্য মানবিক আচরণ, যথাযথ চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, ইমরান খানের সঙ্গে ক্রিকেটের মাঠে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার সূত্রে তাঁরা বিষয়টি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, একজন সাবেক সহকর্মী ও ক্রিকেটার হিসেবে দেখছেন।
চিঠিটি শুরুতে ১৪ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক দিয়েছিলেন। এবার আরও সাতজন এতে যুক্ত হওয়ায় স্বাক্ষরকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১-এ। সাবেক অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেলের উদ্যোগে এই আবেদন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আদালত ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল। একই সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।
সাবেক ক্রিকেট অধিনায়কেরা স্বাধীনভাবে ইমরান খানের স্বাস্থ্য মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নিয়মিত পারিবারিক সাক্ষাৎ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, একজন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়কের স্বাস্থ্য ও কল্যাণের বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দি। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে পরিবার ও রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে তাঁর চোখের দৃষ্টিশক্তি নিয়ে সমস্যার কথা জানানো হয়েছে। তবে পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, কারাগারে তাঁর নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষা হয়েছে এবং তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে গুরুতর কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্যসংক্রান্ত উদ্বেগের মধ্যে গত ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে ইসলামাবাদের একটি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা পরীক্ষার নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে চিকিৎসা পরীক্ষার পর আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার পদ্ধতি নিয়েও তাঁর পরিবার ও দল আপত্তি জানিয়েছে। তাঁদের দাবি, আদালত যে চিকিৎসা ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছিল, কর্তৃপক্ষ তা পুরোপুরি অনুসরণ করেনি। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে চিকিৎসার স্থান ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছে।
এই পরিস্থিতিতে ২১ সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়কের নতুন চিঠি ইমরান খানের চিকিৎসা ও কারাবন্দি অবস্থার বিষয়টিকে আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনের আলোচনায় নিয়ে এসেছে। গাভাস্কার, কপিল দেবসহ সাবেক ক্রিকেটারদের এই উদ্যোগকে রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে নয়, বরং সাবেক ক্রিকেট সহকর্মীর স্বাস্থ্য ও মানবিক অধিকার নিয়ে উদ্বেগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
ইমরান খান পাকিস্তানের হয়ে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং তাঁর অধিনায়কত্বেই ১৯৯২ সালে পাকিস্তান প্রথমবারের মতো ক্রিকেট বিশ্বকাপ জেতে। ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা, কারাবন্দি অবস্থার পরিবেশ এবং আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে পাকিস্তানে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সাবেক অধিনায়কদের সম্মিলিত আহ্বান বিষয়টিতে নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ তৈরি করেছে।