প্রযুক্তিবিদ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগের সমন্বয় ছাড়া সাইবার অপরাধ মোকাবিলা সম্ভব নয়

ডিজিটাল রূপান্তরের এই যুগে সাইবার নিরাপত্তা এখন বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সুরক্ষা এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি বাড়ছে সাইবার ঝুঁকি ও অপরাধের আশঙ্কা। এ বাস্তবতায় প্রযুক্তিবিদ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগ ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাসনুভা শেলী।

PostImage

প্রযুক্তিবিদ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগের সমন্বয় ছাড়া সাইবার অপরাধ মোকাবিলা সম্ভব নয়


প্রযুক্তিবিদ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগ ও নীতিনির্ধারকদের একসাথে কাজ করার ওপর জোর


ঢাকা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা সুরক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তা ঘিরে দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতায় বাংলাদেশকে আরও সতর্ক, দক্ষ ও প্রস্তুত হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাসনুভা শেলী। তিনি বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতি যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করছে, তেমনি দুর্বল নিরাপত্তা কাঠামো এবং অসচেতনতা দেশের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সম্প্রতি আয়োজিত একটি সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, সাইবার নিরাপত্তা গবেষক এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তাসনুভা শেলী বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ডেটা, এআই এবং সাইবার নিরাপত্তা একটি বড় আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ চাইলে এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য কাজে লাগাতে পারে। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে একই প্রযুক্তি দেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এখন সাইবার অপরাধ, তথ্য চুরি, হ্যাকিং, ডিজিটাল জালিয়াতি এবং ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের মতো ঝুঁকির মুখোমুখি। দেশে দক্ষ প্রযুক্তিবিদ ও আইটি বিশেষজ্ঞ থাকলেও সাইবার নিরাপত্তা খাতে কার্যকর সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিবিদ, আইনজীবী, বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সমন্বিত যোগাযোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, একজন প্রযুক্তিবিদের দায়িত্ব শুধু প্রযুক্তি তৈরি করা নয়, বরং এমন নিরাপদ ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা, যা সহজে হ্যাক বা ব্রিচ করা যাবে না। মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য এবং রাষ্ট্রীয় তথ্য নিরাপদ রাখার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর হতে হবে। যদি কোনো সাইবার অপরাধ সংঘটিত হয়, তাহলে অপরাধী পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে থাকলেও তাকে শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার সক্ষমতা থাকতে হবে।

বিচার বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মতে, সাইবার ট্রাইব্যুনাল, ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব এবং বিচার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করতে হবে। অন্যথায় প্রযুক্তিগত রিপোর্ট বুঝতে না পারলে মামলাগুলো দুর্বল হয়ে পড়বে এবং বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের অনেক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব সীমিত সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে, যা ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় যথেষ্ট নয়। এজন্য উন্নত প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, দক্ষ মানবসম্পদ এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তাসনুভা শেলীর মতে, সাইবার নিরাপত্তা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; এটি একটি জাতীয় দায়িত্ব। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, সরকার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, “শুধু প্রতিক্রিয়াশীল হলে চলবে না, আমাদের হতে হবে প্রোঅ্যাকটিভ। কোনো ডেটা ব্রিচ হওয়ার পরে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া কঠিন। তাই আগে থেকেই তথ্য, গোপনীয়তা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশে ডিজিটাল রূপান্তর যত দ্রুত এগোচ্ছে, সাইবার নিরাপত্তা কাঠামোও তত দ্রুত শক্তিশালী করা জরুরি। বিশেষ করে এআই, ক্লাউড কম্পিউটিং, ফিনটেক এবং সরকারি ডিজিটাল সেবার বিস্তারের কারণে সাইবার ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

তারা মনে করেন, সচেতনতা বৃদ্ধি, দক্ষ জনবল তৈরি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আধুনিক আইনগত কাঠামো গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশ ভবিষ্যতের সাইবার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও সক্ষম হয়ে উঠবে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর