গণমাধ্যম উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে চায় সরকার
ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রবাহ যেমন দ্রুত হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে অপতথ্য ও বিভ্রান্তির ঝুঁকিও। এই বাস্তবতায় গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এখন সময়ের দাবি। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী রোডম্যাপ তৈরিতে ইউনেস্কোর সহযোগিতা চেয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন—যা দেশের গণমাধ্যম খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গণমাধ্যম উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে চায় সরকার
নতুন যুগের বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক রোডম্যাপ প্রণয়নে ইউনেস্কো-এর সহযোগিতা কামনা করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) ঢাকায় মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে গণমাধ্যম খাতেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এ পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এবং উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার বিকল্প নেই। তিনি উল্লেখ করেন, গণমাধ্যম উন্নয়ন, নীতিমালা প্রণয়ন এবং তথ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইউনেস্কোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
এ সময় ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ বাংলাদেশে সংস্থাটির চলমান বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। বিশেষ করে গণমাধ্যমের উন্নয়ন, নীতিমালা সহায়তা এবং ভুয়া তথ্য ও অপতথ্য প্রতিরোধে ইউনেস্কোর উদ্যোগ নিয়ে তিনি মন্ত্রীকে অবহিত করেন। তিনি জানান, বর্তমান সময়ে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার রোধে ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম জোরদারে ইউনেস্কো কাজ করছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনার মাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা বাড়ানো হচ্ছে।
তথ্যমন্ত্রী এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, অপতথ্যের বিস্তার রোধে প্রশিক্ষণভিত্তিক কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ফ্যাক্ট-চেকিং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইউনেস্কোর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন এবং এ বিষয়ে আরও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জবাবে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি বাংলাদেশের গণমাধ্যম খাতের উন্নয়ন এবং তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংস্থাটির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন।
এই বৈঠককে দেশের গণমাধ্যম খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার এবং ভবিষ্যৎমুখী নীতিনির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।