বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি: ১০ কর্মকর্তা সহ ৭০ সন্দেহভাজন—চূড়ান্ত পর্যায়ে তদন্ত

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত আর্থিক কেলেঙ্কারি বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ চুরি মামলায় নতুন করে গতি এসেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রায় এক দশক পর এ ঘটনায় ১০ জন কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাসহ মোট ৬৫–৭০ জন সন্দেহভাজনের তালিকা চূড়ান্ত করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)

PostImage

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি: ১০ কর্মকর্তা সহ ৭০ সন্দেহভাজন—চূড়ান্ত পর্যায়ে তদন্ত


বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত আর্থিক কেলেঙ্কারি বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ চুরি মামলায় নতুন করে গতি এসেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রায় এক দশক পর এ ঘটনায় ১০ জন কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাসহ মোট ৬৫–৭০ জন সন্দেহভাজনের তালিকা চূড়ান্ত করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। 

তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, মামলাটি এখন চার্জশিট দাখিলের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

তদন্তের অগ্রগতি

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, সন্দেহভাজনদের অবস্থান শুধু বাংলাদেশেই নয়, মোট ৭টি দেশে বিস্তৃত। তদন্তে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ফিলিপাইনের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সহায়তায়। 

একজন তদন্ত কর্মকর্তা জানান,

“বিদেশি সংস্থার তথ্য না পেলে তদন্ত সম্পন্ন করা সম্ভব হতো না।” 

আন্তর্জাতিক জাল ও অর্থ পাচার

তদন্তে উঠে এসেছে, চুরি হওয়া অর্থ ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, জাপান, ভারত, চীন ও উত্তর কোরিয়া সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কে স্থানান্তর ও পাচার করা হয়। 

ফিলিপাইনে অন্তত ৩০ ব্যক্তি ও ৭টি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এছাড়া, এক ফিলিপিনো ব্যবসায়ী ও আন্তর্জাতিক হ্যাকার চক্রের সংযোগও শনাক্ত হয়েছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। 

কীভাবে সংঘটিত হয় চুরি

২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেমে প্রবেশ করে ৭০টি ভুয়া পেমেন্ট নির্দেশনা পাঠায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে। 

এর মধ্যে অধিকাংশ লেনদেন ঠেকানো গেলেও ৫টি সফল হয়, যার মাধ্যমে প্রায় ১০১ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেওয়া হয়। 

৮১ মিলিয়ন ডলার যায় ফিলিপাইনে

২০ মিলিয়ন ডলার যায় শ্রীলঙ্কায় (পরে উদ্ধার)


কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

তদন্তে উঠে এসেছে, কিছু ব্যাংক কর্মকর্তা—

সন্দেহজনক ইমেইল থেকে ম্যালওয়্যার ডাউনলোড করেন

নিরাপত্তা যাচাই না করেই ফাইল চালু করেন

এমনকি ঘটনার পর প্রমাণ নষ্টের চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে

এসব বিষয় চার্জশিটে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে বলে জানা গেছে। 

তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতা :

তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে একাধিকবার

তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ৮৬ বারের বেশি পেছানো হয়েছে

অর্থ উদ্ধারের অবস্থা

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রায় ১৪.৬৬ মিলিয়ন ডলার উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে, যা মূল চুরি হওয়া অর্থের তুলনায় অল্প। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি শুধু একটি সাইবার অপরাধ নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক অর্থ পাচার, অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক অপরাধচক্রের জটিল সমন্বয়ের উদাহরণ। তদন্ত শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোয় এখন নজর রয়েছে—কারা দায়ী এবং কতটা বিচার নিশ্চিত হয় তার ওপর।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর