অতীতের গৌরবময় নেতৃত্ব বনাম বর্তমানের নীরবতা—সংগঠন কোন পথে?

এক সময় দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম বর্তমানে এক ধরনের সাংগঠনিক স্থবিরতার মুখোমুখি। দীর্ঘদিনের সংগ্রাম ও ত্যাগের ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও নেতৃত্বের শূন্যতা ও কার্যক্রমের ধীরগতির কারণে সংগঠনটি তার পূর্বের গৌরব হারানোর আশঙ্কায় রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করতে নতুন নেতৃত্ব এবং কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা সামনে আসছে।

PostImage

অতীতের গৌরবময় নেতৃত্ব বনাম বর্তমানের নীরবতা—সংগঠন কোন পথে?


সংগঠন পুনর্গঠনে ত্যাগী নেতৃত্বের প্রত্যাবর্তন জরুরি: আইনজীবী ফোরামের সংকট ও উত্তরণে সজলের ভূমিকা আলোচনায়

ঢাকা: এক সময়ের শক্তিশালী ও আন্দোলনমুখী সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম বর্তমানে এক ধরনের সাংগঠনিক স্থবিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক দুঃসময়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিপুলসংখ্যক মামলার আইনি মোকাবিলায় ফোরামটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও, সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠনের কার্যক্রমে দৃশ্যমান গতি কমে যাওয়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত সময়কালে রাজনৈতিক মামলার বিস্তার এবং বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর চাপের প্রেক্ষাপটে আইনজীবী ফোরাম শুধু আদালতপাড়ায় নয়, রাজপথেও সক্রিয় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের ধারাবাহিক কর্মসূচি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির জন্য একটি অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সংগঠনের অনেক শীর্ষ নেতা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে যুক্ত হওয়ায় নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা এখনো পূরণ হয়নি।

সংগঠন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন দক্ষ, পরীক্ষিত এবং ত্যাগী নেতৃত্বের পুনঃপ্রতিষ্ঠা। সেই প্রেক্ষাপটে আলোচনায় উঠে এসেছে অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজলের নাম। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় এই নেতা নব্বইয়ের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেন এবং মহসিন হলের জিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে জাতীয় পার্টি হয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে তিনি স্বল্প সময়ের মধ্যেই সাংগঠনিক দক্ষতার প্রমাণ রাখেন।

আইনজীবী অঙ্গনে তার সক্রিয় ভূমিকার ধারাবাহিকতায় তিনি সুপ্রিম কোর্ট জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বিএনপির বরিশাল উত্তর জেলা কমিটিতে সহ-সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। সংগঠনের ভেতরে মাঠপর্যায়ের কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং কাঠামোগত শক্তিশালীকরণে তার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলে মনে করেন সহকর্মীরা।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে আইনজীবী ফোরামের কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন অনেকেই। তাদের মতে, একটি গতিশীল ও কার্যকর কমিটি গঠনের মাধ্যমে সংগঠনকে পুনরায় সক্রিয় করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে মহাসচিব পদে সজলের মতো অভিজ্ঞ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ সংগঠনের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

এছাড়া সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং আইনি কাঠামো শক্তিশালী করতে আইনজীবী সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে এবং আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী আইনজীবী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা জরুরি। বিএনপির পক্ষ থেকে দেশব্যাপী আইনি সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করলে তা জনগণের আস্থা অর্জনে সহায়ক হবে বলেও মত দিয়েছেন তারা।

সব মিলিয়ে, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের বর্তমান সংকট উত্তরণে নেতৃত্বের পুনর্গঠন, ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন এবং মাঠমুখী কার্যক্রমে ফিরে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সঠিক নেতৃত্ব এবং সুপরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে সংগঠনটি আবারও তার অতীত গৌরব ফিরে পেতে পারে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর