ওয়াকআউট অধিকার, তবে সংসদ হট্টগোলের জায়গা নয়—আলতাফ হোসেন চৌধুরী
সংসদে হট্টগোল নয়, বরং আলোচনা ও নীতি নির্ধারণের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রী এবং এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এমপি। তিনি বলেন, বিরোধী দলের ওয়াকআউট করা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও সংসদ হট্টগোলের জায়গা নয়; এখানে যুক্তি, আলোচনা ও কৌশল নির্ধারণের মধ্য দিয়েই দেশ পরিচালনার পথ নির্ধারিত হওয়া উচিত।
ওয়াকআউট অধিকার, তবে সংসদ হট্টগোলের জায়গা নয়—আলতাফ হোসেন চৌধুরী
বাংলাদেশের সাবেক স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রী এবং এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এমপি বলেছেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংসদ হলো দেশের “হৃদপিণ্ড”। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই এখানে এসে দেশের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় প্রকৃত নির্বাচন প্রক্রিয়া বিকৃত করা হয়েছিল। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে “সিলেকশন” পদ্ধতির মাধ্যমে ব্যক্তিদের সংসদে পাঠানো হয়েছিল।
তার মতে, যারা নির্বাচন পরিচালনা করেছিল এবং যারা নির্বাচিত হয়েছিল—তারা যদি সত্যিকার অর্থে যোগ্য হতো, তাহলে হয়তো জনগণের প্রত্যাশার কিছুটা হলেও পূরণ হতে পারত। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই অত্যন্ত সাধারণ বা অযোগ্য ব্যক্তিদের সংসদে পাঠানো হয়েছিল, যার ফলে পবিত্র এই সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছিল।
আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশের মানুষের সৌভাগ্য যে বর্তমানে সেই ফ্যাসিস্ট সরকার আর ক্ষমতায় নেই। তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম সেরা নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তিনি বলেন, এই নির্বাচনে কোথাও বড় ধরনের সহিংসতা, হামলা, খুন বা রক্তপাতের ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচনের সময় কোথাও উত্তেজনা বা সংঘর্ষের খবরও পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন বলে আমি মনে করি। নির্বাচনের সময় কোথাও মারামারি হয়নি, কোথাও রক্তপাত হয়নি, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেনি।”
নির্বাচন পরিচালনাকারী সংশ্লিষ্ট সবাইকে তিনি বিএনপির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান এবং এটিকে একটি ঐতিহাসিক কাজ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, এবার সংসদে নতুন সদস্যের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। তাই প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্যদের জন্য দলীয়ভাবে দুই দিনের একটি বিশেষ সেশনের আয়োজন করা হয়েছে। এই সেশনে সংসদীয় আচরণ, ভাষার সৌন্দর্য, শালীনতা এবং সংসদে বক্তব্য উপস্থাপনের পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে।
তার মতে, সংসদের ভেতরে ভাষার একটি মাধুর্য ও শালীনতা রয়েছে। সংসদ সদস্যদের চলাফেরা, ওঠা-বসা ও আচরণেও একটি সৌন্দর্য থাকা উচিত। এসব বিষয় শেখানোর জন্য আয়োজিত “পিয়ার লার্নিং সেশন”কে তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, অতীতে এ ধরনের উদ্যোগ হয়েছে কিনা তার জানা নেই। তবে যারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন এবং আয়োজন করেছেন তাদের তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গতকাল সংসদের অধিবেশন যথাসময়ে শুরু হয়েছে এবং অনেক সদস্য বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়েছেন। তবে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার সময় বিরোধী দলের কিছু সদস্য হট্টগোল করেন এবং পরে ওয়াকআউট করেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিরোধী দলের ওয়াকআউট করা তাদের সাংবিধানিক অধিকার। তবে সংসদের ভেতরে হট্টগোল করা উচিত নয়। তার মতে, হট্টগোল রাজপথে করা যেতে পারে, কিন্তু সংসদ হচ্ছে আলোচনা, নীতি নির্ধারণ ও কৌশল নির্ধারণের জায়গা।
তিনি বলেন, “সংসদে কথা বলতে হবে, যুক্তি তুলে ধরতে হবে এবং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে। তাই সংসদকে সচল ও কার্যকর রাখতে আমরা সবাই সচেষ্ট থাকব এবং সেভাবেই কাজ করব।”