“অপ্রয়োজনীয় সিজার ও ভুয়া পরীক্ষা: স্বাস্থ্যঝুঁকি উন্মুক্ত
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় অবস্থিত একটি নামকরা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও জেনারেল হাসপাতাল নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছে। হাসপাতালটিকে নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যবিধি ছাড়া পরিচালনার অভিযোগের মধ্যে রয়েছে গর্ভবতী নারীদের অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য প্রভাবিত করা, সরকারি হাসপাতালের রোগীদের দালাল চক্রের মাধ্যমে এখানে নিয়ে আসা, এবং লাইসেন্সহীন ডায়াগনস্টিক কার্যক্রম। চিকিৎসা ক্ষেত্রে এই ধরনের অনিয়ম কেবল ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি সৃষ্টি করে না, বরং রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে—একটি অপ্রয়োজনীয় সিজার কিভাবে একটি মায়ের জীবনকে স্থায়ীভাবে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে, সেটাই উঠে এসেছে এই অনুসন্ধানে। স্থানীয়দের উদ্বেগ এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা একসাথে এই ঘটনা আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার পরিপ্রেক্ষিতে একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে উপস্থিত হচ্ছে।
“অপ্রয়োজনীয় সিজার ও ভুয়া পরীক্ষা: স্বাস্থ্যঝুঁকি উন্মুক্ত
লাইসেন্সহীন ও মানহীন: শ্রীনগরের ফেমাস ডায়াগনস্টিক সেন্টার আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সতর্কবার্তা
নূরে আলম জীবন, মুন্সিগঞ্জ থেকে
MUNSHIGANJ, BANGLADESH — মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার প্রধান সড়কে অবস্থিত ফেমাস ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড জেনারেল হাসপাতাল সম্পর্কে নতুন করে উদ্বেগের সঙ্কেত মিলেছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও অনুমোদনবিহীন এই হাসপাতালটি গর্ভবতী নারীদের অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য প্রভাবিত করা এবং সরকারি হাসপাতালের রোগীদের দালাল চক্রের মাধ্যমে এখানে নিয়ে আসার অভিযোগে অভিযুক্ত।
সিএসবি নিউজের অনুসন্ধানী টিম “খোলা চোখ” সরেজমিনে হাসপাতালটি পরিদর্শন করলে দেখা যায়, হাসপাতালের এক্স-রে, রেডিওলজি ও অপারেশন থিয়েটার কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স প্রদর্শন করা যায়নি। স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী, এই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনুমোদন থাকা বাধ্যতামূলক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার এবং ডায়াগনস্টিক ইউনিট থেকে উৎপন্ন বর্জ্য যথাযথভাবে নিষ্কাশিত হচ্ছে না। ইটিপি (Effluent Treatment Plant) ছাড়া অপারেশন থিয়েটার পরিচালনা স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে নবজাতক ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মানহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগ নির্ণয় যে কোনও রোগীর জন্য কতটা ভয়ংকর হতে পারে, তা কল্পনাও করা কঠিন। অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন, ভুয়া পরীক্ষার চাপ এবং লাইসেন্সবিহীন চিকিৎসা রোগীর জীবনকে স্থায়ীভাবে পঙ্গু করে দিতে পারে। এক ভুক্তভোগী গর্ভবতী মায়ের কথা বলেছেন, অপ্রয়োজনীয় সিজারের কারণে তার সন্তান ও নিজের জীবন উভয়ই মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালের রোগীদের এখানে নিয়ে আসার জন্য সক্রিয় দালাল চক্র কাজ করছে। রোগীদের প্রলোভন দেখানো হয়, এবং তাদের বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় রোগীরা প্রায়শই জানেন না যে, তাদের স্বাস্থ্য বিপদে পড়তে পারে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া হলে তারা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন, “আমরা নিয়ম মেনে হাসপাতাল পরিচালনা করছি।” তবে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ প্রবল, এবং অনিয়মের কারণে সার্বজনীন স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক মেডিকেল এক্সপার্টরা বারবার সতর্ক করে আসছেন, মানহীন ডায়াগনস্টিক এবং অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়, রোগীর জীবন ও ভবিষ্যতকে বিপন্ন করে। শ্রীনগরের এই ঘটনা সেই সতর্কবার্তার একটি বাস্তব প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সিএসবি নিউজের অনুসন্ধানী টিম “খোলা চোখ” ধারাবাহিকভাবে হাসপাতালে দালাল চক্র, অপ্রয়োজনীয় সিজার, এবং লাইসেন্সহীন কার্যক্রমের খোঁজ চালিয়ে যাবে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক জনসচেতনতার জন্য এই খবর গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
পাঠকরা সতর্ক থাকুন: আপনার আশেপাশের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সযুক্ত ও অনুমোদিত কিনা তা যাচাই করা জরুরি। ন্যূনতম ঝুঁকি এড়াতে নিজের স্বাস্থ্য ও গর্ভাবস্থার জন্য বিশ্বস্ত হাসপাতাল বেছে নিন।