দুঃসময়ের কণ্ঠ মুশফিকুল ফজল কে—ওয়াশিংটনে চায় প্রবাসীরা

দুঃসময়ের কণ্ঠ মুশফিকুল ফজল আনসারী—ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দেখতে চান প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

PostImage

দুঃসময়ের কণ্ঠ মুশফিকুল ফজল কে—ওয়াশিংটনে চায় প্রবাসীরা


যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে মুশফিকুল ফজল আনসারীর নিয়োগের দাবি প্রবাসীদের

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের একটি বড় অংশ মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতার পক্ষে সরব থাকা বিশিষ্ট সাংবাদিক Mushfiqul Fazal Ansarey-কে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিলে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের মতে, গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং গণতন্ত্রের সংকট তুলে ধরতে যে কয়েকজন সাংবাদিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম মুশফিকুল ফজল আনসারী।

যুক্তরাজ্যে হাইকমিশনার পদ নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার Abida Islam-কে সরকার প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিলে নতুন করে কে দায়িত্ব পাবেন—তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

এই প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য নতুন হাইকমিশনার হিসেবে আলোচনায় আসে মুশফিকুল ফজল আনসারীর নাম। দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতা ও কূটনৈতিক অঙ্গনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতার কারণে অনেকেই মনে করেন, এই পদে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।

আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতায় সক্রিয় ভূমিকা

মুশফিকুল ফজল আনসারী দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। তিনি বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ও নীতিনির্ধারণী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন।

তিনি নিয়মিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর United States Department of State, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন, এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার কাছে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরেছেন বলে পরিচিত।

একদলীয় শাসন ও বাকস্বাধীনতার সংকট নিয়ে প্রতিবেদন

বাংলাদেশে যখন দীর্ঘ সময় ধরে বিরোধী মত প্রকাশের সুযোগ সংকুচিত ছিল এবং অধিকাংশ রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি গণমাধ্যম সরকারপন্থী অবস্থানে ছিল—তখন আন্তর্জাতিক পরিসরে ভিন্নমত ও বিরোধী কণ্ঠের বিষয়গুলো তুলে ধরতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে তার সমর্থকরা মনে করেন।

তাদের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার দুর্বলতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় ভূমিকা

বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে ছাত্রদের আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতার ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও কূটনৈতিক মহলে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও তিনি সক্রিয় ছিলেন বলে তার সহকর্মীরা উল্লেখ করেন।

সেই সময় আন্তর্জাতিক মহলের নজর বাংলাদেশে ফেরাতে তার ভূমিকা ছিল বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেক্ষাপট

গণআন্দোলনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তন আসে এবং Muhammad Yunus-এর নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। এই সময়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হয়।

মুশফিকুল ফজল আনসারী দীর্ঘদিন ধরে যে বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরছিলেন, সেই প্রেক্ষাপটেই তার ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় আসে।

রাষ্ট্রদূত নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক

এক পর্যায়ে তাকে মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সেখানে তার মতো অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে নিয়োগ দিলে বাংলাদেশের স্বার্থ আরও ভালোভাবে রক্ষা করা সম্ভব।

প্রবাসীদের একটি অংশের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ সম্পর্কিত নীতি, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ইস্যু নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায় তিনি ওই দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবেন।

প্রবাসীদের প্রত্যাশা

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অনেক প্রবাসী মনে করেন, মুশফিকুল ফজল আনসারীর দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা তাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনের জন্য উপযুক্ত করে তুলেছে।

তাদের আশা, ভবিষ্যতে যদি তাকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, তবে তা বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর