৭ মার্চ: একটি উর্ধমূখী তর্জনী , বজ্রকন্ঠের দিন, জাগরণের ইতিহাস

রেসকোর্স ময়দানে লাখো মানুষের সামনে উচ্চারিত হয়েছিল স্বাধীনতার অমর ডাক। সেই দিনের গল্প জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ সংবাদটি।

PostImage

৭ মার্চ: একটি উর্ধমূখী তর্জনী , বজ্রকন্ঠের দিন, জাগরণের ইতিহাস


বাংলার আকাশে একদিন উঠেছিল অন্যরকম এক সূর্য। দিনটি ছিল ৭ মার্চ। ঢাকার হৃদয়ে অবস্থিত রেসকোর্স ময়দান—আজকের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান—মানুষে মানুষে পরিণত হয়েছিল এক অখণ্ড সমুদ্রে। লাখো মানুষের ঢেউয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে বজ্রকণ্ঠে ইতিহাসের দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

সেদিনের বাতাসেও ছিল বিদ্রোহের গন্ধ, চোখে ছিল স্বাধীনতার স্বপ্ন। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি যখন বললেন— “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”—তখন সেই শব্দগুলো কেবল বক্তৃতা ছিল না; তা হয়ে উঠেছিল এক জাতির হৃদস্পন্দন।

বাংলার মাটিতে সেদিন যেন নতুন এক শপথ জন্ম নিয়েছিল। মানুষের চোখে ছিল অশ্রু, আবার একই সঙ্গে আগুনের মতো দৃঢ়তা। শহর থেকে গ্রাম, নদী থেকে মাঠ—সবখানে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই আহ্বান।

৭ মার্চের ভাষণ ছিল না কেবল রাজনীতির কথা; তা ছিল এক জাতির আত্মপরিচয়ের ঘোষণা। শব্দের ভেতর দিয়ে তিনি গড়ে তুলেছিলেন প্রতিরোধের সাহস, স্বাধীনতার স্বপ্ন এবং মুক্তির পথ।

এই ভাষণই পরে পথ দেখায় সেই ঐতিহাসিক যাত্রাকে, যা শেষ পর্যন্ত পৌঁছে দেয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-এর বিজয়ের দিকে এবং জন্ম নেয় স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ।

৭ মার্চ তাই কেবল একটি দিন নয়; এটি বাঙালির চেতনার দীপশিখা। যতদিন বাংলার আকাশে লাল-সবুজের পতাকা উড়বে, ততদিন ইতিহাসের পাতায় আর মানুষের হৃদয়ে প্রতিধ্বনিত হবে সেই বজ্রকণ্ঠের আহ্বান—স্বাধীনতার ডাক, আত্মমর্যাদার শপথ।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর