প্রকাশকদের পাশে সরকার—স্টলভাড়া শতভাগ মওকুফে জাতীয়ভাবে ইতিবাচক সাড়া

দফায় দফায় তারিখ পরিবর্তনের পর অবশেষে শুরু হলো এবারের অমর একুশে বইমেলা। উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রকাশকদের ক্ষতির আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে স্টলভাড়া শতভাগ মওকুফ করেছে সরকার।

PostImage

প্রকাশকদের পাশে সরকার—স্টলভাড়া শতভাগ মওকুফে জাতীয়ভাবে ইতিবাচক সাড়া


প্রকাশকদের ক্ষতির আশঙ্কা দূর করতে সরকারের সিদ্ধান্ত; আগামী বছর থেকে ‘আন্তর্জাতিক’ করার সম্ভাবনা যাচাইয়ের আহ্বান। 

নানান জটিলতায় দফায় দফায় তারিখ পরিবর্তনের পর অবশেষে শুরু হলো এবছরের অমর একুশে বইমেলা। বৃহস্পতিবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

উদ্বোধন শেষে তিনি মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং প্রকাশক ও লেখকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান

প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ‘অমর একুশে বইমেলা’কে আগামী বছর থেকে ‘অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা’ হিসেবে চালু করা যায় কি-না, সে বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে আয়োজক বাংলা একাডেমি-র প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের সাহিত্য ও প্রকাশনা শিল্পকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে আন্তর্জাতিকীকরণ একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ হতে পারে।


‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হওয়া এবারের বইমেলা চলবে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত। আয়োজকরা জানিয়েছেন, ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা দুইটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। ছুটির দিনে সকাল ১১টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন। তবে রাত সাড়ে আটটার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে ঢুকতে পারবেন না।

সাধারণত প্রতিবছর ১ ফেব্রুয়ারি বইমেলা শুরু হলেও এ বছর জাতীয় নির্বাচনের কারণে নির্ধারিত সময়ে আয়োজন সম্ভব হয়নি। প্রথমে ২০ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরুর তারিখ ঘোষণা করা হলেও রমজান মাসে আয়োজন নিয়ে প্রকাশকদের একাংশের আপত্তির কারণে সেই তারিখেও মেলা শুরু হয়নি। পরে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আয়োজক ও প্রকাশকদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে ২৬ ফেব্রুয়ারি নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।


স্টলভাড়া শতভাগ মওকুফ: ইতিবাচক প্রভাব

প্রকাশকরা ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করায় এ বছর মেলার স্টলভাড়া শতভাগ মওকুফ করে দিয়েছে তারেক রহমান সরকার। সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রকাশনা খাতে স্বস্তি ফিরিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

প্রকাশক সমিতির কয়েকজন প্রতিনিধি জানান, দেরিতে মেলা শুরু হওয়া এবং সময় সংকুচিত হওয়ার কারণে বিক্রি কমে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু স্টলভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফ করায় তাদের আর্থিক চাপ অনেকটাই কমেছে। নতুন ও ছোট প্রকাশনাগুলোর জন্য এ সিদ্ধান্ত বিশেষ সহায়ক হবে বলেও তারা মনে করেন।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের এই পদক্ষেপ জাতীয়ভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একদিকে প্রকাশনা শিল্প টিকে থাকার শক্তি পাচ্ছে, অন্যদিকে পাঠকদের জন্যও বৈচিত্র্যময় বই প্রকাশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বইমেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সাংস্কৃতিক পরিবেশ দেশের সামগ্রিক বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চাকে আরও গতিশীল করবে বলেও আশা করা হচ্ছে।


দীর্ঘ অনিশ্চয়তা কাটিয়ে শুরু হওয়া এবারের বইমেলা শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজনই নয়, বরং নীতিগত সিদ্ধান্ত ও সহযোগিতামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে প্রকাশনা শিল্পকে সহায়তা করার একটি উদাহরণ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিসরে মেলাকে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা এবং স্টলভাড়া মওকুফের মতো সিদ্ধান্ত আগামী দিনে বইমেলাকে আরও শক্তিশালী ভিত্তি দেবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর