মন্ত্রী থেকে মেয়র—তারপর কি জাতিসংঘের পথে?

একজন তরুণ জনপ্রতিনিধির নতুন নির্বাচনী ইচ্ছা ঘোষণার পর সাধারণত সমর্থনের ঢেউ দেখা যায়। কিন্তু এবার ঢেউ এসেছে ‘হাসির’—যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে রীতিমতো কৌতুকের খোরাকে পরিণত করেছে।

PostImage

মন্ত্রী থেকে মেয়র—তারপর কি জাতিসংঘের পথে?


রাজধানী ঢাকাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিটি কর্পোরেশনগুলোতে সম্প্রতি প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সম্ভাব্য নির্বাচনকে ঘিরে।

ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইসরাক হোসেন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে হঠাৎ এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “ঢাকা দক্ষিণ থেকে সিটি নির্বাচন করব ইনশাআল্লাহ।” স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তার ওই পোস্টে প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার রিয়্যাকশন পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৭ হাজার ‘হা হা’ রিয়্যাক্ট এসেছে। এছাড়া প্রায় ২৮ হাজার মন্তব্যের মধ্যে আনুমানিক ৮০ শতাংশ মন্তব্যেই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ লক্ষ্য করা গেছে।

কমেন্ট বক্সে বিভিন্ন ফেসবুক ব্যবহারকারী নানা ধরনের মন্তব্য করেছেন। শরিফ উল্লাহ নামে একজন লিখেছেন, “কথায় আছেনা বেশি খাইতে গেলে কমও খাওয়া যায় না। বেশি খেলে বদহজম হয়, সেই কথাটা হয়তো আপনার কাছ থেকে মিলে যাবে।”

আনিসুর রহমান মন্তব্য করেছেন, “অভিনন্দন। শুধু প্রধানমন্ত্রী হওয়াটা বাকি থাকবে আরকি।”

মিহিকা মিম লিখেছেন, “এমপির পর মন্ত্রী, এখন আবার মেয়র, এরপর প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি পদে দেখতে চাই।”

এমডি আরমান মন্তব্য করেছেন, “আপনি চাইলে তো প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি দুটোই হতে পারেন।”

জাবির খান লিখেছেন, “প্রধানমন্ত্রী আর রাষ্ট্রপতি হইলে ১৬ আনা শখ পূরণ হয়ে যেত।”

মোজাম্মেল নামে একজন লিখেছেন, “ছোটবেলা যখন কেউ আমাকে প্রশ্ন করত তুমি বড় হয়ে কি হতে চাও? তখন ঠিক আমি যেমনভাবে উত্তর দিতাম—রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, এমপি, মন্ত্রী, মেয়র।”

রিজভী নাবিল মন্তব্য করেছেন, “জাতিসংঘের মহাসচিবের পদ খালি হওয়া মাত্রই আবেদন কইরেন ভাই।”

হেলাল উদ্দিন লিখেছেন, “মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়, আপনিতো হাসির পাত্র হয়ে গেলেন।”

সরোয়ার জাহান রনি মন্তব্য করেছেন, “একই সাথে এমপি, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, গভর্নর এবং রাষ্ট্রপতির পদে আপনাকেই দেখতে চাই। সাথে থাকবে জাতিসংঘের মহাসচিবের পদ।”

শরিফ খান লিখেছেন, “চালিয়ে যান ভাই... এমপি থেকে মন্ত্রী, তারপর সিটি মেয়র, ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি, তারপর প্রধানমন্ত্রী।”

এভাবে অনলাইন-অফলাইন উভয় পরিসরেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তার এ ঘোষণাকে অতিরঞ্জিত উচ্চাকাঙ্ক্ষা হিসেবে দেখছেন।

উল্লেখ্য, ইঞ্জিনিয়ার ইসরাক হোসেন হলেন ঢাকার সাবেক মেয়র প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা-এর পুত্র। তিনি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৬ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে সরকার প্রধান তারেক রহমান তাকে তরুণ প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন ব্যক্তি একই সঙ্গে সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী এবং সম্ভাব্য সিটি মেয়র প্রার্থী হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করলে তা রাজনৈতিক বার্তা ও সাংগঠনিক কৌশলের দিক থেকে প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার ও জাতীয় সংসদীয় দায়িত্বের ভারসাম্য নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

অন্যদিকে, তার সমর্থকদের একটি অংশ বলছেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি যে কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণের সাংবিধানিক অধিকার রাখেন। তবে সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্তত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘোষণাকে ইতিবাচকভাবে নেননি অনেকেই।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সম্ভাব্য তফসিল ঘোষণা এবং প্রার্থিতা সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপরই এখন নির্ভর করছে এই বিতর্কের পরবর্তী গতি। রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে আলোচনা যে আরও বাড়বে, তা বলাই যায়।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর