সত্য ইতিহাসের নির্ভীক রক্ষককে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে দেখতে চায় দেশবাসী

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস ও মর্যাদা রক্ষায় দীর্ঘদিনের আপসহীন অবস্থান এবং ধারাবাহিক সংগ্রামের কারণে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাচ্ছেন বহু মুক্তিকামী নাগরিক। ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে তার স্পষ্ট অবস্থান, সাহসী উচ্চারণ এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের আদর্শে অবিচল ভূমিকা তাকে এই দায়িত্বের উপযুক্ত বলে মনে করছেন সচেতন মহল। জনগণের প্রত্যাশা—মুক্তিযুদ্ধের সম্মান ও সত্য ইতিহাস সমুন্নত রাখতে তার মতো একজন পরীক্ষিত কণ্ঠ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আসুক।

PostImage

সত্য ইতিহাসের নির্ভীক রক্ষককে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে দেখতে চায় দেশবাসী


এ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান একজন অদম্য বিপ্লবী,  ৫ আগষ্ট পরবর্তী মুক্তিযুদ্ধের সত্য ইতিহাস ও স্তম্ভগুলো রক্ষায় কালোশক্তির বিরুদ্ধে একটা শক্ত দেয়াল তৈরি করেছিল।

দেশের মেহনতী মুক্তিকামী মানুষও রেখেছে তার প্রতি পূূর্ন আস্তা।

৫ আগষ্ট পরবর্তী বাংলাদেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশের যে কয়টি স্তম্ভ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তার মধ্যে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের প্রতিকৃতি ও ইতিহাস অন্যতম। বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের বৃহৎ দল হলেও অপশক্তি, মিথ্যা যুক্তিতর্ক ও ট্যাগিং এর চাপে ছিল অনেকটাই কোনঠাসা।

টকশো, সভা -সেমিনার ও নামে বেনামে সোস্যাল মিডিয়ায় যেভাবে বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতার যুদ্ধের ইতিহাসকে নিয়ে কাটাছেড়া করা হচ্ছিল তাকে অনেকে ৭১ এর পরাজিত শক্তির চরম উত্থান বলে সঙ্কা প্রকাশ করেছিল। 

মুক্তিযোদ্ধাদের লাঞ্ছনা, মুক্তিযুদ্ধকে আওয়ামীলীগের ইতিহাস হিসেবে ট্যাগিং করে বিভিন্ন কাল্পনিক যুক্তিতে উপেক্ষা করা ছিল নিত্তনৈমিত্তিক কাজ। মুক্তিযুদ্ধকে একটা পক্ষ বায়াস্ট জনগন ও নতুন প্রজন্মের কাছে এমনভাবে উপস্থাপন করে যাচ্ছিল যেন মুক্তিযুদ্ধ ভুল ছিল। 

এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান ছিল স্বচ্ছ শক্তিশালী সাহসী ও অদম্য কন্ঠস্বর।  যিনি একের পর এক মুক্তিযুদ্ধের সত্য ইতিহাস ও ৭১ এর পরাজিত শক্তির অসত্য ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে অবিচল চিত্তে অনড় ছিলেন। তার কন্ঠ, তার বাস্তব জীবনের মুক্তিযুদ্ধের গল্প টকশো মিডিয়াতে বাংলার মুক্তিকামী স্বাধীনতার স্বপক্ষের মানুষকে সাহস যুগিয়েছিল।  ডিজিটালাইজেশন অপপ্রচারের  এই সময়ে সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে তিনি হয়ে উঠেন মিথিক্যাল গল্পের পারসিউস, থিসিউস।

১৯৭১ এর দেশ রক্ষার যুদ্ধের নায়ক থেকে ২৪ আন্দোলন পরবর্তী মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশের সত্য ইতিহাস রক্ষার মহানায়ক তিনি।

নব্য রাজাকার ও কালোশক্তির বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে গিয়ে তার নানারকম হয়রানির স্বীকার হতে হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজাকার পন্থিদের দ্বারা অবাঞ্ছিত হতে হয়েছে, তার ছবি টানিয়ে করা হয়েছে জুতাপেটা। রাস্তায় রাস্তায় তার বিরুদ্ধে অবমাননাকর স্লোগান, কটুক্তি ও অপপ্রচার চালিয়ে তার কুশপুত্তলিকা পুড়িয়েছে কিছু উগ্রপন্থী বায়াস্ট গোষ্টি। দল তাকে বহিষ্কার করেছে, দলের ভিতরেও তাকে নানা সমালোচনায় চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। কিন্তু তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ও রাজাকার পন্থীদের বিরুদ্ধে অবিচল ছিল।

৫ আগস্ট ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, "আমি ৫৪ বছর আগে এদেশের মানুষের জন্য যুদ্ধ করেছি" এবং তিনি আমৃত্যু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে জয়লাভের পর তার বিজয়কে 'মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির বিজয়' হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান মত বীরেরাই দলমত নির্বিশেষে দেশের স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ রক্ষায় আমৃত্যু প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।    তার আদর্শিক শক্তি ও সত্যের পক্ষে লড়াই বর্তমান প্রজন্মের দেশপ্রেমের  অনুপ্রেরনার নিয়ামক হোক। 

এমন একজন দেশপ্রেমিককে বিপুল ভোটে জয়ী করায় দেশের প্রতিটি মুক্তিকামী মানুষ কিশোরগঞ্জের সকল শ্রেনী পেশার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ। 

মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের বিজ্ঞ নাগরিকরা মনে করছেন - তাকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বভার দিলে মুক্তিযুদ্ধের সম্মান ও ইতিহাস সমুন্নত থাকবে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর