ভোটারবিহীন নির্বাচন জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে” — শেখ হাসিনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি নির্বাচনকে “ভোটারবিহীন প্রহসন” আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানান এবং জনগণকে বর্জনের জন্য ধন্যবাদ জানান।
ভোটারবিহীন নির্বাচন জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে” — শেখ হাসিনা
প্রহসনের নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করায় জনগণকে শেখ হাসিনার ধন্যবাদ, ভোট বাতিল ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি
ঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারি: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে “ভোটারবিহীন প্রহসন” আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। একই সঙ্গে এই নির্বাচন বর্জন করায় মা-বোন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ দেশের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি তিনি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শেখ হাসিনা দাবি করেন, অবৈধ ও অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলকারী সরকারের অধীনে আয়োজিত এই নির্বাচন ছিল “সুপরিকল্পিত প্রহসন”। জনগণের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সংবিধানের চেতনাকে উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে একটি “ভোটারবিহীন ও প্রতারণামূলক” নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর থেকেই বিভিন্ন স্থানে ভোটকেন্দ্র দখল, গোলাগুলি, অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনাবেচা, ব্যালট পেপারে সিল প্রদান এবং ফলাফল শিটে এজেন্টদের স্বাক্ষর গ্রহণের ঘটনা ঘটে। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত কম এবং বহু কেন্দ্র কার্যত ফাঁকা ছিল বলেও দাবি করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য উদ্ধৃত করে শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, সকাল ১১টা পর্যন্ত (সাড়ে তিন ঘণ্টায়) ভোটগ্রহণের হার ছিল ১৪.৯৬ শতাংশ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই কম উপস্থিতি প্রমাণ করে যে আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন জনগণ বর্জন করেছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও অভিযোগ করা হয়, নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের ভোটার, সমর্থক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। এসব সত্ত্বেও জনগণ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে বলে দাবি করা হয়। এছাড়া বিশেষ করে ঢাকায় ভোটার তালিকায় অস্বাভাবিক হারে ভোটার বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে শেখ হাসিনা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল, সংশ্লিষ্ট সরকারের পদত্যাগ, রাজনৈতিক বন্দিসহ শিক্ষক-সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীদের মুক্তি, আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।